


সঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিলিগুড়ি: মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পর বুধবার প্রথমবার শিলিগুড়ি সফরে আসেন শুভেন্দু অধিকারী। উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক বৈঠকের পাশাপাশি তিনি উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে আসতে পারেন, এমন সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে এদিন সকাল থেকেই হাসপাতাল চত্বরে দেখা যায় বাড়তি তৎপরতা।
সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যেই সব আউটডোরে চিকিৎসকরা উপস্থিত হয়ে যান। ছিলেন প্রায় সব বিভাগের প্রধান চিকিৎসকরা। ফলে লাইন লম্বা হলেও রোগীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে শৃঙ্খলা ও কর্মসংস্কৃতির এক অন্য ছবি ধরা পড়ে। সারা বছর বাইরে বেসরকারি ক্লিনিকে যাওয়ার জন্য আউটডোর থেকে রোগীদের প্রেসক্রিপশন নিয়ে দালালদের যে তৎপরতা দেখা যায়, এদিন তাও দেখা মেলেনি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, অধিকাংশ আধিকারিক ও কর্মী নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত ছিলেন এবং উপস্থিতির হার ছিল প্রায় একশো শতাংশ। বিভিন্ন ওয়ার্ড, সেন্ট্রাল ল্যাব, ওপিডি সহ হাসপাতালের নানা পরিষেবায় কর্মীদের সক্রিয় উপস্থিতি নজরে পড়ে। হাসপাতালের কোনো ডাক্তারকে এদিন ভাঙা সীমানা পাঁচিল দিয়ে প্রাইভেট চেম্বারে যেতে দেখা যায়নি। দপ্তরে বসে সকলেই প্রতীক্ষায় ছিলেন কখন মুখ্যমন্ত্রী আসেন। দুপুর গড়াতেই বিভিন্ন জায়গায় ফোনাফুনি করে আধিকারিকরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী আসবেন কি না জানার জন্য। রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর প্রশাসনিক অনিয়মের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়া শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্যদপ্তরেও শুরু হয়েছে একাধিক পদক্ষেপ। ইতিমধ্যেই রাজ্যের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলিতে স্ক্যাভেঞ্জিং ও হাউসকিপিং কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত পুরনো সব টেন্ডার বাতিল করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এতে আরও চাপ বেড়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী হাসপাতাল পরিদর্শনে এলে যাতে কোনো ত্রুটি ধরা না পড়ে, তারজন্য গত কয়েকদিন ধরেই হাসপাতালজুড়ে প্রস্তুতি চলছিল। হাসপাতাল চত্বর থেকে দোকানপাট ও অবৈধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ি, টোটো, বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স সরানোর কাজও শুরু হয়েছিল আগে থেকেই। এদিন হাসপাতাল চত্বরে অগোছাল পরিবেশ বা দীর্ঘক্ষণ টোটো দাঁড়িয়ে থাকার দৃশ্যও দেখা যায়নি।
তবে শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক বৈঠক সেরে সরাসরি বাগডোগরা বিমানবন্দরে চলে যান। উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে তিনি আসেননি। অন্যদিকে, হাসপাতালের পরিষেবায় এদিনের বদল দেখে খুশি রোগীরাও। অনেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে মন্তব্য করেন, মুখ্যমন্ত্রী যদি রোজ আসতেন, তাহলে হয়ত হয়রানি, দালালদের দৌরাত্ম্যের মুখে পড়তে হত না। এখন প্রশ্ন একটাই, মুখ্যমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফর ঘিরে এদিনের এই কর্মসংস্কৃতি ও শৃঙ্খলা কি শুধুই একদিনের জন্য, নাকি ভবিষ্যতেও তা বজায় থাকবে।
যদিও হাসপাতালের অ্যাডিশনাল সুপার ডাঃ নন্দন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সম্প্রতি স্বাস্থ্যদপ্তর থেকে যে নির্দেশিকা এসেছে তার ভিত্তিতে আমরা হাসপাতালের বিভিন্ন খামতির দিকগুলি দূর করার জন্য সচেষ্ট হয়েছি।