সংবাদদাতা, বারুইপুর: লোকাল ট্রেনে মহিলা কামরা বৃদ্ধির প্রতিবাদে একটানা অবরোধ। বুধবার সকাল থেকে শিয়ালদহ দক্ষিণের লক্ষ্মীকান্তপুর শাখার একাধিক স্টেশনে দফায় দফায় বিক্ষোভ নিত্যযাত্রীদের। এর জেরে নামখানা, লক্ষ্মীকান্তপুরের মত গুরুত্বপূর্ণ রুটে ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পরিষেবা বিপর্যস্ত হয়। একাধিক স্টেশনে আপ ও ডাউন লাইনে দাঁড়িয়ে পড়ে ট্রেন। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে চূড়ান্ত দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রীদের। মানুষের অভিযোগ, মওকা বুঝে এই ঘটনার সুযোগ নিয়েছে অটো, টোটো। মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেছে তারা। অবরোধ-বিক্ষোভ সরাতে বারুইপুর জিআরপি, আরপিএফ ঘটনাস্থলে যায়। রেলের আধিকারিকরাও যান। অবরোধকারীদের সঙ্গে টানা আলোচনা চলে। তারপর সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলে সকাল ১১টার পর অবরোধ ওঠে। এবং এই শাখার আপ ও ডাউন লাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। অন্যদিকে ক্যানিং শাখার ঘুটিয়ারি শরিফ স্টেশনে লোকাল ট্রেনে মহিলা কামরা বৃদ্ধির দাবিতে অবরোধ করেন মহিলা নিত্যযাত্রীরা। আধঘণ্টা অবরোধ চলে। তারপর সকাল ৬টা ৫১ মিনিট নাগাদ ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। পূর্ব রেল জানিয়েছে, লক্ষ্মীকান্তপুর ও নামখানা শাখায় অবরোধের জেরে ১৭টি লোকাল বাতিল করতে হয়।
যাত্রীদের অভিযোগ, প্রায় সব সময়ই লক্ষ্মীকান্তপুর শাখার ট্রেনে বাদুড়ঝোলা হয়ে চলাচল করতে হয়। এর মধ্যে মহিলা কামরা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল। এই সিদ্ধান্তই ক্ষুব্ধ করেছে সবাইকে। এদিন প্রথমে দক্ষিণ বারাসত স্টেশনে সাতটা ৩৩ মিনিট নাগাদ আপ লক্ষ্মীকান্তপুর লোকাল স্টেশনে ঢোকার পর লাইনে প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন যাত্রীরা। কেউ রেল লাইনে বসে পড়েন। শুরু হয় অবরোধ। বিক্ষোভের রেশ গিয়ে পড়ে সূর্যপুর ও ধপধপি স্টেশনে। সূর্যপুরে ওভারহেডে কলাপাতা ফেলে দেওয়া হয়। ধপধপি স্টেশনে ডাউন নামখানা স্টেশনে ঢোকার সময় অবরোধকারীরা লাইনে দাঁড়িয়ে স্লোগান দিতে শুরু করেন। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, ‘১২ বগির ট্রেনে আগে মহিলাদের জন্য দু’টি সংরক্ষিত কামরা থাকত। বর্তমানে সে সংখ্যা বাড়িয়ে চার করা হয়েছে। বাকি কামরায় অত্যাধিক ভিড়ের জন্য অন্যান্য যাত্রীরা উঠতে পারছেন না। প্রায় দুর্ঘটনা ঘটছে।’ এরপর বারুইপুর জিআরপি, আরপিএফ অবরোধ তুলতে গেলে যাত্রীদের সঙ্গে তাদের বচসা বেধে যায়। অন্যদিকে একই দাবিতে মথুরাপুর স্টেশনেও অবরোধ শুরু করেন যাত্রীরা। তাঁদের দাবি, জয়নগর লোকাল চালু করতে হবে। সবমিলিয়ে এদিন যাত্রীদের গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে চূড়ান্ত নাকাল হতে হয়। স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়েছে অনেককে। অনেকে ট্রেন থেকে নেমে অন্যান্য যানবাহন ধরে বাড়ি ফিরে যান। কেউ অন্য গাড়িতে যান কর্মস্থলে। সুযোগ বুঝে চড়া ভাড়া নেয় অটো-টোটো।