Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মমতার মন্তেশ্বরের সভায় জোয়ার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাওয়া মহিলাদের

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাওয়া মহিলাদের উপস্থিতিতে মন্তেশ্বরে মমতার জনসভায় জনজোয়ার।

মমতার মন্তেশ্বরের সভায় জোয়ার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাওয়া মহিলাদের
  • ২০ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

গণেশ মজুমদার, কালনা: লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাওয়া মহিলাদের উপস্থিতিতে মন্তেশ্বরে মমতার জনসভায় জনজোয়ার। রবিবার সভা বিকেল সাড়ে তিনটে শুরু হলেও দুপুর ১২টা থেকেই মহিলারা মন্তেশ্বর কুসুমগ্রাম ফুটবল মাঠে ভিড় জমাতে থাকেন। বাচ্চা, শিশু কোলে দুধের বোতল নিয়েও অনেক মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর সভায় হাজির ছিলেন। সভাস্থলে মহিলাদের উপস্থিতি দেখে মঞ্চ থেকে তৃণমূল সুপ্রিমো বলতে থাকেন, মা বোনেরাই তো তৃণমূলের সম্পদ।

Advertisement

মন্তেশ্বর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তথা রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর সমর্থনে এদিন মন্তেশ্বর কুসুমগ্রাম ফুটবল মাঠে ( ভেলোর মাঠ) সভা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বেলা ১১টা থেকে কাতারে কাতারে মানুষ সভাস্থলে হাজির হন। মূল মঞ্চের সামনের বসার অধিকাংশ জায়গা মহিলাদের দখলে চলে গিয়েছিল। কয়েক হাজার লোক সভার সামনের অংশে থাকলেও হেলিপ্যাডে তার চেয়েও দ্বিগুণ মানুষের উপস্থিতি ছিল বলে তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে জানানো হয়। এদিন বেলা সওয়া তিনটে নাগাদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঞ্চে উঠেই প্রচণ্ড গরমে উপস্থিত সবাইকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার জন্য ধন্যবাদ জানান। বিশেষ করে সভাস্থলে উপস্থিত মহিলাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান নেত্রী। সভায় আসা মন্তেশ্বরের বাসিন্দা বছর পয়ত্রিশের পারভিন রেজা খাতুন বলেন, স্বামী ক্ষেত মজুরের কাজ করে। মেয়ে দশম ও ছেলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। অভাবের সংসারে ছেলে, মেয়েদের পড়াশোনা চালাতে কষ্টই হচ্ছিল। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেয়ে ছেলে, মেয়েদের টিউশনের টাকা দিতে পারছি। মেয়ে স্কুল থেকে সাইকেল পেয়েছে। শাশুড়িও বার্ধক্য ভাতা পাচ্ছেন। মমতাদির জন্যই আজ আমাদের সংসারে কিছুটা হলেও স্বাচ্ছন্দ ফিরেছে। তাই ওঁকে দেখতে সভার মাঠে এসেছিলাম। আমার সঙ্গে গ্রামের আরও বেশ কয়েকজন মহিলাও এসেছেন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার সত্যিই গ্রামের মেয়েদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।  কুসুমগ্রামের বাসিন্দা বছর পঞ্চান্নর ফুলমণি সোরেন। এদিন সপ্তম শ্রেণিতে পড়া নাতনির সঙ্গে সভায় আসেন। ফুলমণি বলেন, স্বামী বার্ধক্য ভাতা ও আমি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাই। স্বামী শারীরিক ভাবে অসুস্থ থাকায় ঠিক মতো কাজ করতে পারেন না। আমিও রোজ কাজে যেতে পারি না। আমার সামান্য রোজগার ও দু’জনের ভাতার টাকায় কোনও রকমে সংসারটা চলে। তাই তৃণমূল ছাড়া অন্যদল ক্ষমতায় আসুক চাই না। মমতাকে দেখতে এই সভায় এসেছি। মন্তেশ্বর বিধানসভার জেলা পরিষদের সদস্য তথা তৃণমূল নেতা আজিজুল হক বলেন, হাজার, হাজার মানুষের উপস্থিতি বলছে এবার গতবারের চেয়েও বেশি ভোটে জিতবে তৃণমূল। আমরা যতটা আশা করেছিলাম তার চেয়ে বেশি লোক এসেছে।  

সম্পর্কিত সংবাদ