সমীর সাহা , নবদ্বীপ: বৈষ্ণবতীর্থ নবদ্বীপে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর জন্মস্থানের কাছেই নিষ্ঠার সঙ্গে পূজিত হন দেবী দুর্গা। প্রায় ১০ বছর ধরে স্থানীয় মহিলারা নিষ্ঠা ও ভক্তির সঙ্গে দেবীর আরাধনা করে আসছেন। মহানবমীর দিন একসঙ্গে পাড়ার সকল বাসিন্দা পাত পেড়ে প্রসাদ খান। এভাবেই পুজোকে কেন্দ্র করে পুরো পাড়াকে একসূত্রে বাঁধেন প্রাচীন মায়াপুর লিঙ্ক রোড দুর্গোৎসব কমিটির মহিলারা।
গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর জন্মস্থানের কাছেই শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু গিরিধারী আশ্রম প্রাঙ্গণে পূজিত হন দেবী দুর্গা। এই পুজো পরিচালনা করেন নবদ্বীপ প্রাচীন মায়াপুর লিঙ্ক রোড দুর্গা উৎসব কমিটির মহিলারা। থিম পুজো নয়, শুরু থেকেই সাবেকিয়ানায় পুজো হয়ে আসছে। পুজোর দিনগুলিতে তাঁরা বিভিন্ন সামাজিক কাজও করেন। স্থানীয় দুঃস্থদের নতুন বস্ত্র বিতরণ। ফল, মিষ্টি বিলি সহ নানা কাজ করেন। এছাড়া প্রতিদিন পুজো মণ্ডপে কচিকাঁচাদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন চায়না, অনুপমা, গীতা, শর্মিলা, ভগবতী ও দুর্গারা। পুজো কমিটির সদস্যারাই বাজার করা, প্রতিমা আনা, পুজোর আয়োজন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করেন। পুজোর দায়িত্বে থাকা মহিলাদের পরিবারের সদস্যরা সব সময় তাঁদের পাশে থাকেন।
২০১৬ সালে মহিলাদের হাত ধরে এই পুজো শুরু। এখানে একচালা ডাকের সাজের সাবেকি প্রতিমা। প্রতিবছর পঞ্চমীর দিন পূজোর উদ্বোধন হয়। সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত দেবীকে অন্ন, পাঁচ ভাজা, পঞ্চব্যঞ্জন পরমান্ন, পুষ্পান্ন ভোগ নিবেদন করা হয়। অষ্টমীর দিন পাড়ার বাড়ি গুলিতে অন্ন পুষ্পান্ন, পরমান্ন মিষ্টি সহ ভোগপ্রসাদ পৌঁছে দেওয়া হয়। নবমীতে পুজো কমিটির সদস্য এবং পাড়া- প্রতিবেশীরা একই সঙ্গে পুজো মণ্ডপে খাওয়া দাওয়া করেন। আর দশমীর সন্ধ্যায় প্রাচীন মায়াপুরের বিভিন্ন রাস্তা পরিক্রমা করে ভাগীরথীতে দেবীকে বিসর্জন দেওয়া হয়। পুজো কমিটির যুগ্ম সম্পাদক অনুপমা ঘোষ ও গীতা সরকার বলেন, আমাদের পাড়ার দাদা ও ভাইরা সব সময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। আমাদের পুজো কমিটির প্রধান উপদেষ্টা রাম ঘোষ এবং লক্ষ্মণ ঘোষ, গৌতম সাহা, বিনয় সাহা, ডালিম বিশ্বাস, গোপাল ভক্ত, রামচন্দ্র সাহা, কানাই সাহারা না থাকলে মহিলাদের পক্ষে এই পুজো করা সম্ভব হতো না।
পুজো কমিটির সভাপতি চায়না গোস্বামী বলেন, পুজোর দিনগুলিতে আমরা কেউ পূজোর জোগাড় করি, কেউ ভোগের দিকটা দেখি, কেউবা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে ঠিকমতো এলাকার প্রতিটি বাড়িতে পুজোর প্রসাদ পৌঁছছে কি না সেটা লক্ষ্য রাখি।
পুজো কমিটির গীতা, দুর্গা, শর্মিলা ভগবতীরা জানান, আমাদের এই পুজোতে আমাদের ছেলেমেয়েরাও সব সময় পাশে থেকে সহযোগিতা করে। বিজয়ার সন্ধ্যায় পরিবারের সকলে. প্রতিমার নিরঞ্জন যাত্রায় অংশ গ্রহণ করেন।