Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিষ্ণুপ্রিয়া হল্ট রেলবস্তির মহিলারা নিজেদের জমানো টাকাতেই উমার বন্দনা শুরু করছেন

রেলের জায়গায় বসবাস। কারও টিনের ঘর, কারও বা টালির চাল

বিষ্ণুপ্রিয়া হল্ট রেলবস্তির মহিলারা নিজেদের জমানো টাকাতেই উমার বন্দনা শুরু করছেন
  • ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: রেলের জায়গায় বসবাস। কারও টিনের ঘর, কারও বা টালির চাল। কেউ পরিচারিকার কাজ করেন, কেউ রেডিমেড পোশাক, কেউ বা ব্লাউজ সেলাই করেন। এত দিন বাচ্চাদের হাত ধরে নিয়ে যেতে হতো রেল লাইন পেরিয়ে অন্যপাড়ায়। এবার রেলবস্তির বাসিন্দারাই উমা আরাধনার আয়োজন করে সাড়া ফেলে দিয়েছেন। এই পুজো কমিটির সেক্রেটারি থেকে শুরু করে প্রেসিডেন্ট, কোষাধ্যক্ষা সবাই মহিলা। তাঁদের এই উদ্যোগকে কুর্ণিশ জানিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন বাড়ির পুরুষরা। পাশে পেয়েছেন স্থানীয় কাউন্সিলর বৃন্দাবন মণ্ডলকেও।

Advertisement

বিষ্ণুপ্রিয়া হল্ট স্টেশন সংলগ্ন এই রেলকলোনি এলাকার বাসিন্দাদের পুজো বা অঞ্জলি দিতে যেতে হতো বড় রাস্তার ধারে বা রেললাইন পেরিয়ে অন্য পুজো প্যান্ডেলে। সব বাসিন্দাদের অনেকের দীর্ঘদিনের ইচ্ছা নিজে হাতে জগৎ জননীকে বরণ করার। মাস দুয়েক আগে ওঁরা আলোচনার মাধ্যমে পুজো করার পরিকল্পনা নেন। ঠিক করেন নিজেদের জমানো অর্থেই দেবীর পুজোর আয়োজন করবেন। কলোনির সবার স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে নবদ্বীপ মালঞ্চপাড়া বিষ্ণুপ্রিয়া হল্ট মহিলা সমন্বয় কমিটির সদস্যাদের হাত ধরে।
বিষ্ণুপ্রিয়া হল্ট সংলগ্ন আপ ব্যান্ডেল-কাটোয়া রেললাইনের ১ নম্বর রেল লাইনের পাশে বংশ-পরম্পরায় রেলের জায়গায় অনেকগুলি পরিবারের বসবাস। প্রতিদিন ভোর হলেই জীবিকার সন্ধানে তাঁরা বেরিয়ে পড়েন। পুজো কমিটির ৭০ জন সদস্যা কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়েছেন। পুজো কমিটির যুগ্ম সম্পাদিকা আলো ঘটক ও রমা দেবনাথ জানান, প্রথম বছরে ঘরোয়া প্যান্ডেল ও একচালা প্রতিমা হবে। মালঞ্চ পাড়া চন্দ্রকলোনির সবাই এগিয়ে এসেছেন এই পুজোতে। ষষ্ঠীর দিন বোধনের মধ্যে দিয়ে আমাদের পুজো শুরু। দেবীকে সপ্তমীতে ফলফলাদি, অষ্টমীতে অন্ন, নবমীতে ফল, মিষ্টি আর দশমীতে চিড়ে, খই, মুড়কি, মিষ্টি নিবেদন করা হবে। দশমীর দিন শোভাযাত্রা সহকারে দেবীর বিসর্জন করা হবে। পুজো কমিটির যুগ্ম কোষাধ্যক্ষা নন্দিতা দেবনাথ ও ঊষা সরদার জানান, প্রথম বছর আমাদের নির্দিষ্ট কোনও বাজেট নেই। প্রায় ৭০ জন সদস্যা নিজেদের জমানো টাকাতেই পুজো হবে। আমরা  আমাদের স্বামীদের কাছ থেকেও থেকে কিছু টাকা নেব। 
পুজো কমিটির সদস্যা নন্দিতা দেবনাথ, সুদেষ্ণা দেবনাথ , পূর্ণিমা দেবনাথরা জানান, পুজোর দিনগুলিতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে । এলাকার কচিকাঁচারা যেমন দেবীর সামনে গান, আবৃত্তি, নাচ পরিবেশন করবে, তেমনি মহিলারা শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি, মোমবাতি জ্বালানো প্রতিযোগিতায অংশ নেবেন। পুজো কমিটির সভাপতি ঝুমা দেবনাথ জানান,   এবার বাচ্চারা পাড়াতেই আনন্দ করতে পারবে।
স্থানীয় কাউন্সিলর বৃন্দাবনবাবু বলেন, এবছর আমাদের ওয়ার্ডে মহিলাদের দুটি নতুন পুজো হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া লক্ষ্মীর ভাণ্ডার তাঁদেরকে আরও স্বাবলম্বী করে তুলেছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ