সংবাদদাতা, বহরমপুর: আগষ্ট থেকে মিড-ডে মিল সরবরাহের দায়িত্ব পাচ্ছে ইসকন। আপাতত কলকাতা ও পরে নদীয়া জেলার সব সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলে নিরামিষ খাবার সরবরাহ করবে ইসকন কর্তৃপক্ষ। তারপরে গোটা রাজ্যেই এই পদ্ধতিতে পড়ুয়াদের মিড ডে মিল খাওয়ানো হবে। আর এই খবরে বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মিড ডে মিল কর্মীরা কাজ হারানোর আতঙ্কে ভুগছেন। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মিড ডে মিলের রান্না ও পরিবেশনের কাজের ভাতায় তাঁদের সংসার চলছিল। কাজ হারালে বহু পরিবার অসহায় হয়ে পড়বে। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, এখনও পর্যন্ত আমাদের কাছে এমন কোনো নির্দেশ আসেনি। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ১ আগষ্ট থেকে মিড ডে মিল কর্মীদের ভাতা বাড়ছে।
এতদিন এলাকার গোষ্ঠীর মহিলাদের হাতেই মিড ডে মিলের রান্না ও খাবার পরিবেশনের দায়িত্ব ছিল। সংশ্লিষ্ট স্কুলের পড়ুয়ার সংখ্যার আনুপাতিক হারেই রাঁধুনি নিয়োগ করা হত। গোষ্ঠীর এক একজন মহিলা মাসে দেড় থেকে দু’হাজার টাকা করে ভাতা পান। আশা কর্মী, আইসিডিএস কর্মী, সিভিকদের ভাতা বৃদ্ধির সঙ্গে মিড ডি মিল কর্মীদের মাসিক ভাতা হাজার টাকা বাড়ানোর ঘোষণা করেছে রাজ্য। আগামী ১ আগষ্ট থেকে সেই বর্ধিত ভাতা কার্যকর হবে বলেও ঘোষণা করা হয়েছিল। ভাতা বৃদ্ধির খবরে উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েছিলেন মিড ডে মিলের রাঁধুনিরা। কিন্তু মিড ডে মিলের দায়িত্ব ধীরে ধীরে ইসকনের হাতে চলে যাবে শুনে তাঁদের চোখেমুখে হতাশার ছাপ।
বহরমপুর সদর পশ্চিম চক্রের মিড ডে মিল কর্মী ছবিরানি বর্ধন বলেন, বেতন বাড়ছে শুনে খুব খুশি হয়েছিলাম। এখন কাজ হারানোর আতঙ্ক গ্রাস করেছে। জানি না কী হবে। তবে কাজ হারালে ছেলে, মেয়ের লেখাপড়ায় তার প্রভাব পড়বে।
এদিকে ইসকনের হাতে মিড ডে মিল যাওয়ায় পড়ুয়াদের খাবারের পুষ্টিগুণ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিরোধী শিক্ষক সংগঠনগুলি। ডব্লুবিটিএ শিক্ষক সংগঠনের মুর্শিদাবাদ জেলার মুখ্য উপদেষ্টা মহফুজ আলম বলেন, রাজ্যের এই সিদ্ধান্তের আমরা প্রতিবাদ জানাচ্ছি। পড়ুয়াদের সপ্তাহে একদিন ডিম দেওয়া হত। কোনো সময় মাংসও দেওয়া হত। পুষ্টির এই ঘাটতি কীভাবে পূরণ হবে? বিজেপির রাজ্য কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাখারভ সরকার বলেন, ইসকনের উপর গোটা দেশের ভরসা আছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপে মিড ডে মিলের দুর্নীতি বন্ধ হবে। নিরামিষ খাবারেও প্রচুর পুষ্টিগুণ আছে। পাশাপাশি আবার স্কুল শিক্ষকদের অনেকেরই দাবি, ইসকন দায়িত্ব নিলে তাঁদের মাথা থেকে বাড়তি বোঝা কমবে। ফলে পঠন পাঠনের মানও বাড়বে।