ছাঁচের লক্ষ্মী তৈরি করে লক্ষ্মীলাভ কাটোয়ার ‘লক্ষ্মীদের’, প্রতিমা পাড়ি দেবে জার্মানিতেও
  • ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: শুধু পুরুষরাই নয়, মহিলারাও প্রতিমা তৈরিতে সমান পারদর্শী। কাটোয়ায় বহু মহিলাই ছাঁচের ছোট ছোট মূর্তি তৈরি করে সংসার সামলান। এখন তৈরি করছেন লক্ষ্মী প্রতিমা। স্থানীয় বাজারে দেদার বিক্রিও হচ্ছে। পাশাপাশি বিহার, মুম্বই সহ জার্মানিও পাড়ি দিচ্ছে মহিলাদের ছাঁচের লক্ষ্মী। সবমিলিয়ে ছাঁচের ধনদেবীর চাহিদা তুঙ্গে। মুখে চওড়া হাসি কাটোয়ার ‘লক্ষ্মীদের’।  

Advertisement

কাটোয়া শহরের পানুহাট বসন্তপল্লি এলাকার বধূ লক্ষ্মী পাল, তাঁর মেয়ে মৌলি পাল, শাশুড়ি অনিতা পালরা বাড়িতেই ছাঁচের লক্ষ্মী প্রতিমা তৈরি করেন। তাতেই সংসারের হাল ফিরেছে পাল পরিবারের। একটা সময় সংসারের আর্থিক অবস্থা খুব খারাপ ছিল। লক্ষ্মীর স্বামী ভোলানাথ পাল সোনা রুপোর দোকানে কাজ করতেন। তাঁর বাবা শীতল পাল মাটির ভাঁড়, অল্পস্বল্প মাটির প্রতিমা তৈরি করে কোনওরকমে সংসার চালাতেন। শ্বশুরের শিল্পকর্ম দেখেই প্রথমে মাটির ভাঁড় তৈরি করতে শুরু করেন লক্ষ্মী। তারপর ছাঁচের নানা মাটির প্রতিমা তৈরি করে বাজারে বিক্রি করতেন। সেই থেকে শুরু। এখন কোমর বেঁধে ছাঁচের লক্ষ্মী-গণেশ সহ অন্যান্য প্রতিমা তৈরি করেন লক্ষ্মী। প্রতিমা তৈরি থেকে রং দেওয়া, চোখ আঁকা, ডাকের সাজ পড়ানো সবই করেন নিজের হাতেই। তাঁর হাতে গড়া সেই লক্ষ্মী প্রতিমার চাহিদাও হু হু করে বাড়তে থাকে। এবার বধূ লক্ষ্মীর হাতের তৈরি লক্ষ্মী প্রতিমা কাটোয়া ছাড়াও পাড়ি দিয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায়। গিয়েছে মুম্বই, বিহারে। এদিন লক্ষ্মী বলছিলেন, ‘আমি ছোট থেকেই কালনা শহরে পালপাড়ায় বড় হয়েছি। তাই মাটির প্রতিমা তৈরি করা আমার রক্তে। শ্বশুরকে দেখে নিজেই প্রতিমা তৈরি করতে শুরু করি। অভাবের সংসারে দুটো পয়সা আয়ের জন্যই মাটির প্রতিমা তৈরি করে বিক্রি করি। এবারও আমার তৈরি লক্ষ্মী প্রতিমা অন্যান্য জেলাতেও গিয়েছে।’ ভোলানাথ পাল বলেন, ‘এবারে আবহাওয়ার কারণে প্রতিমা তৈরি কমে গিয়েছে।’ 
ছাঁচের ছোট প্রতিমার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। নিউক্লিয়ার ফ্যামিলিতে এখন ছোট্ট পরিসরে পুজো করার প্রবণতা বাড়ছে। বড় প্রতিমা নিয়ে এসে পুজো করার বিরাট হ্যাপা। রাত পোহালেই কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। বাজার দাপাচ্ছে ছাঁচের প্রতিমা। তাতে বাড়তি কিছু পয়সার মুখ দেখতে পাচ্ছেন লক্ষ্মীরা। আর এক মহিলা শিল্পী সুমিত্রা পাল বলছিলেন, ‘কাটোয়ার পুরুষ মৃৎ শিল্পীরা প্রতিমা তৈরি করেন ঠিকই। কিন্তু আমাদের মত বহু মহিলারাও ছাঁচের মূর্তি তৈরি করে সংসারে বাড়তি উপার্জনের সংস্থান করেছি। -নিজস্ব চিত্র