সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: লক্ষ্মীপুজোর বাজারে এবার চিনি কিনতে গিয়ে হাত পুড়ছে মধ্যবিত্তদের। আর তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাতাসা, নকুলদানা, ছাঁচ কদমা থেকে শুরু করে বিভিন্ন চিনিজাত পুজোর সামগ্রীতে। ফলে লক্ষ্মীপুজোর থালা সাজাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে ক্রেতাদের। পুজোর সামগ্রী কেনার ক্ষেত্রে লম্বা তালিকা কাটছাঁটও করতে হচ্ছে।ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগেও প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছিল প্রায় ৫০ টাকার মধ্যে। বর্তমানে সেই চিনির দাম বেড়ে হয়েছে প্রায় ৬৫ টাকা। চিনির এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে পুজোর অন্যতম প্রয়োজনীয় সামগ্রীতে। আগে প্রতি কেজি বাতাসার দাম ছিল প্রায় ৮০ টাকা। তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০০ টাকায়। একইভাবে বেড়েছে নকুলদানা ও ছাঁচ কদমার দামও। লক্ষ্মীপুজোয় বাতাসা ও কদমা দিয়ে পুজোর থালা সাজানোর প্রচলিত রীতি রয়েছে। ফলে এই সামগ্রীগুলি কিনতে গিয়েই বাড়তি টাকা খরচ করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
চিনির দাম বাড়ায় ঘরে নারকেল নাড়ু তৈরির খরচও বেড়েছে। অনেকেই বাড়িতে নাড়ু তৈরির পরিবর্তে বাজার থেকে তৈরি নাড়ু কেনার দিকে ঝুঁকছেন। তবে তৈরি সামগ্রীর দামও বেশি হওয়ায় সেখানেও স্বস্তি নেই। একদিকে পুজোর রীতি মেনে প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার তাগিদ, অন্যদিকে সংসারের খরচের হিসাব-দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন মধ্যবিত্ত ক্রেতারা। দাম বাড়ার প্রভাব সামাল দিতে বিক্রেতাদের একাংশ প্যাকেটের ওজন কমাচ্ছেন কিংবা সামগ্রীর আকার ছোট করছেন। ফলে পুজোর বাজারে ভিড় থাকলেও আগের তুলনায় কম সামগ্রী কিনছেন অনেকে।
ক্রেতা প্রদীপ মজুমদার বলেন, বাতাসা, নকুলদানা, কদমা লক্ষ্মীপুজোয় লাগবেই। কিন্তু দাম যেভাবে বেড়েছে, তাতে বেশি করে কেনা যাচ্ছে না। আগে যে টাকায় ব্যাগ ভর্তি সামগ্রী কিনতে পারতাম, এখন সেই টাকায় অর্ধেক ব্যাগও ভরছে না। এক বিক্রেতা গৌতম পাল বলেন, আমরা তো ইচ্ছা করে দাম বাড়াচ্ছি না। আমাদেরও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। প্রতিবছর লক্ষ্মীপুজোয় বাতাসা কদমা এগুলোর কদর থাকে। এবারও আছে, কিন্তু ক্রেতারা খুব কম পরিমাণে কিনছেন। কৃষ্ণনগর বাজারে কেনাকাটা। নিজস্ব চিত্র



