সংবাদদাতা, কাঁথি: সাধারণত বিজয়া দশমীর পর থেকেই সৈকতশহর দীঘায় পর্যটকের ভিড় বাড়ে। এবারও তার অন্যথা হয়নি। সৈকতশহরে পর্যটকের ঢল নেমেছে। ভিড় রয়েছে পর্যটন কেন্দ্র মন্দারমণি ও তাজপুরেও। বৃহস্পতিবার থেকে ভিড় বেড়েছে। দুর্গোৎসব উপলক্ষ্যে আগমনি অনুষ্ঠানের জন্য গত ১১ থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত দীঘার সমুদ্রসৈকতে দোকানপাট ও হকারি বন্ধ রাখার কথা ঘোষণা করেছিল প্রশাসন। ১৬ তারিখের পর পুজোর সময়টা সেভাবে পর্যটকের দেখা মেলেনি। যার জেরে চিন্তায় ছিলেন ব্যবসায়ীরা। ওয়াকিবহাল মহলের ব্যাখা, পুজোর সময় মানুষজন নিজের এলাকায় থাকেন। অনেকে পুজোমণ্ডপ দর্শন করেন। অনেকে নিজের এলাকায় পুজো নিয়ে মেতে ওঠেন। তাই পুজোর সময়টা বরাবরই ভিড় কমই থাকে। কিন্তু দশমীর পর থেকে ছবিটা বদলায়। বেশ কয়েকদিনের খরা কাটিয়ে চেনা ছন্দে ফিরেছে দীঘা। পর্যটকের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে চোখে পড়ার মতো। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন হোটেল মালিক থেকে শুরু করে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। পুজোর ঠিক আগে টানা ছ’ দিন প্রশাসনের নির্দেশে দোকানপাট বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা যে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন তাঁরা, বর্তমান ভিড়ে সেই ক্ষতি পুষিয়ে যাবে বলে আশাবাদী সকলে। তাছাড়া আগামী রবিবার পর্যন্ত সরকারি কর্মীদের টানা ছুটি রয়েছে। ফলে পর্যটকের ঢল নেমেছে। হোটেল-লজগুলি ভিড়ে ঠাসা রয়েছে। দীঘা-শংকরপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক বিপ্রদাস চক্রবর্তী বলেন, পুজোর আনন্দোৎসব মিটতেই সৈকতে নতুন করে ভিড় জমতে শুরু করেছে। এর ফলে হোটেলের ঘরের চাহিদাও বেড়েছে। পুজোর আগে বুকিংয়ের হার ছিল ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ। তা এক ধাক্কায় বেড়ে ৯০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে। পর্যটক সমাগমে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে হোটেল ব্যবসাতেও। এই ক’টা দিন ভিড়টা থাকবে। আবার অফিস খুলে গেলে ভিড়টা কমবে। ব্যবসায়ীরাও বলছেন, পুজোর ঠিক আগে ছ’ দিন দোকানপাট বন্ধ থাকায় পর্যটকের অভাবে ব্যবসা ভালো হচ্ছিল না। তবে নতুন করে পর্যটকের ভিড় বাড়ায় আমরা লাভের মুখ দেখতে পারব বলে আশাবাদী। -নিজস্ব চিত্র



