নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: ‘দোল পূর্ণিমার নিশি, নির্মল আকাশ। ধীরে ধীরে বহিতেছে মলয় বাতাস। বৈকুন্ঠতে একাসনে লক্ষ্মী নারায়ণ, করিতেছে নানা কথা সুখে আলাপন।’ বাঙলার ঘরে ঘরে লক্ষ্মীর পাঁচালিতে এভাবে লক্ষ্মীর চিত্র আঁকা হলেও কোচবিহারের মহারাজাদের শুরু করা মহালক্ষ্মী রূপ একেবারে ভিন্ন। মদনমোহন মন্দিরে ধনদেবী পূজিতা হন রক্তবর্ণা মহালক্ষ্মী রূপে। কোজাগরি লক্ষ্মী পুজোয় দেবীর বাহন রূপে থাকে প্যাঁচা। মহালক্ষ্মীর বাহন চারটি হাতি। এখানে মহালক্ষ্মীর পাশাপাশি পূজিতা হন দেবরাজ ইন্দ্র। ইন্দ্রের কোলে থাকেন শচীমাতা। হিন্দু পুরাণ অনুসারে মা দুর্গার প্রতিমা বিসর্জনের পর ইন্দ্রদেব শচীমাতাকে কোলে নিয়ে মর্ত্য ছেড়ে স্বর্গের উদ্দেশে রওনা হন।
কোচবিহার দেবোত্তর ট্রাস্ট বোর্ডের কর্মী জয়ন্ত চক্রবর্তী বলেন, এক সময় রাজবাড়িতে মহালক্ষ্মী পূজিতা হতেন। ১৮৯০ সালে মদনমোহন মন্দির স্থাপিত হয়। তখন থেকে মদনমোহন বাড়ির কাঠামিয়া মন্দিরে মহালক্ষ্মীর পুজো হয়ে আসছে।
বংশপরম্পরায় রাজ আমলে শুরু হওয়া পুজোর প্রতিমা গড়ে আসছেন মৃৎশিল্পী প্রভাত চিত্রকর। শুক্রবার মদনমোহন বাড়ির কাঠামিয়া মন্দিরে গিয়ে চোখে পড়ে পুজোর ব্যস্ততা। রবিবার পুজো। তার একদিন আগে মহালক্ষ্মী প্রতিমা গড়ার কাজ সম্পন্ন করতে হবে। তাই ব্যস্ত প্রভাত চিত্রকর। কাজের থেকে মাথা তোলার জো নেই। তিনি বলেন, সাধারণত বাড়িতে আমরা কোজাগরি লক্ষ্মীর পুজো করি। যাঁর দু’টি হাত ও বাহন হিসাবে প্যাঁচা থাকে। কিন্তু রাজ পরিবারে চার হাত বিশিষ্ট লক্ষ্মীকে রাজলক্ষ্মী অথবা মহালক্ষ্মী বলা হয়ে থাকে। যার বাহন হিসাবে চারটি হাতি থাকে। সামনের দু’টি হাতির মধ্যে ফুল ও পেছনের দুটো হাতির উপর থাকে জলের ঘট। মহালক্ষ্মীর সঙ্গে থাকেন ইন্দ্রদেব। তিনি হাতির উপর থাকেন। ইন্দ্রদেবের কোলে থাকেন শচীমাতা। • ফাইল চিত্র।



