Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গ্রামে হাতির উৎপাত, ভয়কে উপেক্ষা করেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকায় দুর্গাপুজো মহিলাদের

জঙ্গল ঘেরা একখানি ছোট্ট গ্রাম। সারা বছর সেখানে হাতির উপদ্রব লেগে থাকে। তার জেরে ক্ষয়ক্ষতিও কম হয় না। সেই গ্রামেই এবছর প্রথম দুর্গাপুজো হতে চলেছে।

গ্রামে হাতির উৎপাত, ভয়কে উপেক্ষা করেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকায় দুর্গাপুজো মহিলাদের
  • ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

রাজদীপ গোস্বামী, মেদিনীপুর: জঙ্গল ঘেরা একখানি ছোট্ট গ্রাম। সারা বছর সেখানে হাতির উপদ্রব লেগে থাকে। তার জেরে ক্ষয়ক্ষতিও কম হয় না। সেই গ্রামেই এবছর প্রথম দুর্গাপুজো হতে চলেছে। হাতির ভয়কে তুচ্ছ করে আদিবাসী মহিলারা কোমর বেঁধেছেন। পুজোর বাজেট আসছে তাঁদেরই ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর ভাতা থেকে। এ হল মেদিনীপুর সদর ব্লকের ভাদুলিয়া গ্রামের কথা। স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানালেন, কুঁড়েঘরের থিমে মণ্ডপ তৈরি হবে। প্রতিমা হচ্ছে সাবেকি ধাঁচের। গোটা গ্রামের মানুষ এই পুজোয় অংশ নিতে মুখিয়ে রয়েছেন। আদিবাসী মহিলাদের নিয়ে তৈরি হয়েছে কমিটি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, এই গ্রামের আশেপাশে বড় কোনও পুজো হতো না। ফলে পুজোর চারটে দিন মনমরা হয়েই কাটাতে হতো গ্রামবাসীদের। 

Advertisement

কথা হল গ্রামের বাসিন্দা সুলেখা সিং, অন্তরা হাঁসদা, রীনা সিং, পঞ্চমী হাঁসদার সঙ্গে। তাঁরা জানান, গ্রামে প্রথমবার পুজো হচ্ছে। পুজোর আনন্দে মেতে উঠবে গ্রামের মানুষ। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা পেয়ে খুবই উপকার হচ্ছে। পুজোর কাজে সেই টাকাও ব্যবহার করা হবে। সকলের সহযোগিতা ছাড়া এই পুজোর আয়োজন করা সম্ভব ছিল না। 
জেলা যুব তৃণমূলের সভাপতি নির্মাল্য চক্রবর্তী বলেন, মহিলাদের উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছি। ওঁদের সমস্ত ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছি। বিরোধীরা যতই সমালোচনা করুন না কেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুফল সাধারণ মানুষ জানেন। মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পঞ্চাশ বছরেরও আগে এই গ্রাম গড়ে উঠেছিল। মূলত আদিবাসী, লোধা- শবর সম্প্রদায়ের মানুষের বাস এই গ্রামে। দিনমজুরি করেই তাঁদের সংসার চলে। বর্তমানে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গ্রামে যাওয়ার জন্য রাস্তা তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বর্তমানে গ্রামবাসীরা বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। ওই এলাকার পড়ুয়াদের জন্য কোচিংয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে। কিন্তু বর্তমান সময়েও এই গ্রামের মানুষ বেশকিছু সমস্যায় আছেন। গ্রামের বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, এই গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা মোটেই ভালো নয়। সাইকেল কিংবা টোটোই ভরসা। একইসঙ্গে নেই উন্নতমানের চিকিৎসা ব্যবস্থা ও স্কুল। তার উপর মাঝে মাঝে গ্রামে হাতি ঢুকে আসায় সমস্যা বাড়ছে। হাতির ভয়ে জঙ্গলে যাওয়া তো দূরের কথা, চাষটুকু করতে পারেন না চাষিরা। এছাড়া গ্রামের ভিতরে মোবাইল ফোনের টাওয়ার পাওয়া যায় না। এরফলে পড়ুয়াদের সমস্যায় পড়তে হয়। তবে নানা সমস্যা থাকলেও পুজোর আয়োজন শুরু করে সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন গ্রামের মহিলারা। 
জানা গিয়েছে, এই গ্রামের মহিলাদের তৈরি কমিটিতে পুরুষরাও আছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুজোর উপদেষ্টা নবীনকুমার ঘোষ ও  সুদীপ্তা ঘোষ বলেন, এই গ্রামটাই হাতির করিডর। তাই দুশ্চিন্তা আছেই। তবুও জোরকদমে আয়োজন চলছে। অনেক মানুষ পুজোয় আসবেন বলে আশাবাদী তাঁরা। স্থানীয় মণিদহ পঞ্চায়েতের প্রধান জোৎস্না হেমব্রম বলেন, জোরকদমে পুজোর আয়োজন শুরু হয়েছে। দারুন উদ্যোগ। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার গ্রামীণ এলাকার অর্থনীতি বদলে দিচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ