নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: পুজো আসছে। সেই কথা মাথায় রেখেই স্কুলের পোশাক তৈরির সময় বেচে যাওয়া ছাঁট কাপড় দিয়েই তৈরি হচ্ছে রকমারি গয়না। জেলার বিভিন্ন প্রান্তের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা এই গয়না তৈরি করছেন। আর সেই গয়নার চাহিদা আকাশছোঁয়া। প্রশাসনের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, জেলার স্কুল ছাত্রছাত্রীদের জন্য প্রচুর পোশাক তৈরি করেছেন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা। ওই পোশাক তৈরির সময় কাপড়ের একাংশ বাদ পড়েছে। এছাড়াও নানা ধরনের পোশাক তৈরি করেন মহিলারা। সেই সমস্ত ছাঁট কাপড় দিয়েই গয়না তৈরি হচ্ছে।
স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা জানান, ছাঁট কাপড় ছাড়াও গয়না তৈরিতে বিভিন্ন ধরনের পাথর, চুমকি ব্যবহার করা হচ্ছে। হাতের চুড়ি, কানের দুল, গলার হার, ব্রেসলেট তৈরি হচ্ছে। এই গয়নার দাম তুলনামূলক কম হওয়ায়, বিক্রি বেশি। চাহিদা অনুযায়ী এই গয়না ভিন রাজ্যেও পাঠানো হবে। অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক মিশন ডিরেক্টর ও দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা শাসক( কৃষি) গোবিন্দ হালদার বলেন, জেলার প্রত্যন্ত এলাকার মহিলারা বিশেষ গয়না তৈরি করছেন। তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। কয়েক মাস আগে থেকেই স্কুলের পোশাক তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। সেই সময় অনেক টুকরো কাপড় বেচে যায়। মহিলারা ওই কাপড় ব্যবহার করেই গয়না তৈরি করছেন। পুজোর মুখে এই গয়নার চাহিদা রয়েছে। জেলার ডিষ্ট্রিক্ট লেভেল ট্রেনার তথা ডিএলটি সূচনা সিংহ বলেন, মহিলারা নিপুণ হাতে গয়না তৈরি করেছেন। এই গয়নার চাহিদা রয়েছে। মহিলারা সারা বছর ধরে এই গয়না তৈরি করে উপার্জন করতে পারবেন। প্রসঙ্গত, রাজ্য সরকার চাইছে গ্রামের মহিলাদের স্বনির্ভর করে তুলতে। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন প্রশাসনিক বৈঠকে মহিলাদের আরও বেশি স্বনির্ভর করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার বার্তা দিয়েছেন। সেইমতো পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন জেলার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এতে এগিয়ে আসছেন গ্রামের গৃহবধূরাও।
প্রশাসনের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, চলতি বছরে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের ১৩০০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে। এই ঋণের টাকায় বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করে বিক্রি করছেন মহিলারা। এরফলে গ্রামীণ অর্থনীতি বদলাচ্ছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গয়না তৈরিতে ছাঁট কাপড়ের ব্যবহার হওয়ায় খরচ অনেক কমেছে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা রকমারি গয়না বিভিন্ন মেলা ও সরকারি স্টলগুলি থেকে বিক্রি করবেন। প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৪০ পিস গয়না তৈরি করছেন মহিলারা। মহিলাদের তৈরি চুড়ি ১০ টাকা থেকে শুরু করে ২০ টাকা পর্যন্ত, ব্রেসলেট ১০ থেকে ৩০ টাকা, গলার হার ৫০ থেকে শুরু করে ১৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।
স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলা সহেলী সিংহ, মুসলেমা বিবি বলেন, গয়না তৈরির কাজ শিখে খুবই উপকার হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।