সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: লোকে বলে, সুন্দরবনে জলে কুমির ডাঙায় বাঘ। বাঘের আক্রমণ হামেশাই হয়। এবার পাথরপ্রতিমায় হামলা চালাল কুমির। এক মহিলা মৎসজীবী উপস্থিত বুদ্ধির জোরে বেঁচে গেলেন। তাঁর কোমর কামড়ে জলে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল একটি বিশাল আকারের কুমির। মহিলা বেশ কিছুক্ষণ লড়াই চালান। তারপর তাঁর চিৎকার শুনে গ্রামবাসীরা এসে উদ্ধার করেন। রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটেছে পাথরপ্রতিমা থানার বনশ্যামনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের অশ্বিনী মাইতির খেয়াঘাটে।
মহিলার নাম প্রণতি প্রামাণিক (৩৭)। তাঁর স্বামী পরিযায়ী শ্রমিক। প্রণতি দু’মেয়েকে নিয়ে পাথরপ্রতিমায় থাকেন। অভাবের সংসার। তাই প্রতিদিনই নদীতে যান মাছ ও কাঁকড়া ধরতে। শনিবারও গিয়েছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সকাল ছ’টা নাগাদ প্রণতি গিয়েছিলেন অশ্বিনী মাইতির খেয়াঘাট সংলগ্ন জঙ্গলে। কাঁকড়া ধরছিলেন। সাতটার দিকে ঘটনাটি ঘটে। যখন নদীতে ফেলে রাখা সুতি জালে টান পড়েছিল। প্রণতিদেবী ছেগিন (মাছ ধরার গোল ছোট জাল) দিয়ে টেনে কাঁকড়া তুলতে যান। ঠিক তখন একটা কুমির নদী থেকে পাড়ের দিকে উঠে এসে তাঁকে আক্রমণ করতে যায়। কিন্তু প্রাণীটির শরীরের একটি অংশ জড়িয়ে যায় ছেগিন জালে। প্রণতি সেই সুযোগে দৌড়ে পাড়ে উঠে যান। কুমিরও জাল থেকে শরীর ছাড়িয়ে নিয়ে তাড়া করে তাঁকে। ঝাঁপ দিয়ে কামড়ে ধরে কোমরের নীচের অংশ। জলে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে থাকে। প্রণতি একটি গাছ আঁকড়ে ধরে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা চালাতে থাকেন। কুমিরের শক্তির সঙ্গে যুঝে উঠতে পারছিলেন না। তখন বুদ্ধি করে শাড়ির আঁচলটি পেঁচিয়ে নেন গাছের সঙ্গে। কুমির তারপর আর কামড়ে টেনে নিয়ে যেতে পারেনি। আক্রোশে লেজের ঝাপটা মারে পিঠে। পায়ে। তারপর ঘুরে ফের কামড় দেয় হাতে। প্রণতি প্রাণপণ চিৎকার করতে থাকেন। কুমিরও টেনে জলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালাতে থাকে। চিৎকার কানে যায় কিছু লোকের। তাঁরা এসে হাজির হয়। এরপর পালায় কুমির। প্রণতিদেবী ততক্ষণে প্রায় সংজ্ঞাহীন। প্রচুর রক্তপাত শুরু হয়। গ্রামবাসীরা তাঁকে ধরাধরি করে নিয়ে যান পাথরপ্রতিমা গ্রামীণ হাসপাতালে। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন তিনি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রচুর রক্তপাত হয়েছে। কোমরের নীচের অংশে, হাতে কামড়ের ক্ষতচিহ্ন। আঘাত নিম্নাঙ্গেও। তবে প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন। রাতের দিকে খানিকটা সুস্থ হয়েছেন।