Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

আনন্দপুরে অভিজাত আবাসনের ১৯ তলা থেকে মরণঝাঁপ মহিলার

আনন্দপুরে এক নামী অভিজাত আবাসনে মঙ্গলবার সাতসকালে রহস্যমৃত্যু হল এক মহিলার।

আনন্দপুরে অভিজাত আবাসনের ১৯ তলা থেকে মরণঝাঁপ মহিলার
  • ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আনন্দপুরে এক নামী অভিজাত আবাসনে মঙ্গলবার সাতসকালে রহস্যমৃত্যু হল এক মহিলার। আবাসনের নীচ থেকে উদ্ধার হয়েছে তাঁর রক্তাক্ত দেহ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ঝাঁপ দিয়েই আত্মঘাতী হয়েছেন সঞ্চিতা আগরওয়াল নামের বছর চুয়াল্লিশের ওই গৃহবধূ। কলকাতা পুলিশের ডিসি (ইস্ট ডিভিশন) অরিশ বিলাল এই খবর জানিয়েছেন। 

Advertisement

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, ‘ঘড়িতে তখন সকাল সাড়ে ৫টা। আবাসনের চার নম্বর টাওয়ারের নীচে ডান পাশে রক্তাক্ত ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পড়েছিলেন সঞ্চিতাদেবী। তাঁর মাথা ফেটে চৌচির। ডান পা সহ দেহে একাধিক গুরুতর আঘাতের চিহ্ন। রক্তে ভেসে যাচ্ছিল গোটা জায়গা।’ আবাসনের নিরাপত্তারক্ষীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে আনন্দপুর থানার পুলিশ ওই মহিলাকে উদ্ধার করে নীলরতন সরকার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে সকাল ১০টা নাগাদ চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত এই ঘটনায় স্থানীয় আনন্দপুর থানায় কেউ অভিযোগ দায়ের করেননি। তবে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, ওই অভিজাত আবাসনের চার নম্বর টাওয়ারের সাত তলার বাসিন্দা ছিলেন সঞ্চিতাদেবী। তদন্তে নেমে পুলিশ ওই বিল্ডিংয়ের ১৯ তলার ফায়ার এগজিট ব্যালকনি থেকে একটি টুল উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, পরিবারের সদস্যদের নজর এড়িয়ে নিজের ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে লিফটে করে সোজা ১৯ তলায় উঠে যান তিনি। তারপর সম্ভবত ওই টুলের উপর উঠে ঝাঁপ দিয়েছেন সঞ্চিতাদেবী। এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে পুলিশ ওই আবাসনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ জোগাড়ের চেষ্টা করছে। ওই ফুটেজ পেলেই এই রহস্যের কিনারা হবে। পাশাপাশি, তদন্তকারী অফিসার ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলতে চান। পুলিশের এক সূত্র জানাচ্ছে, এই রহস্যের কিনারা করতে প্রয়োজনে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া হতে পারে।
সঞ্চিতাদেবীর স্বামী রাকেশ আগরওয়াল কর্মসূত্রে দিল্লিতে থাকেন। বাড়িতে বাইশ ও চব্বিশ বছরের দুই মেয়ে রয়েছে। তাঁরা পুলিশকে জানিয়েছেন, সঞ্চিতাদেবী একটু অন্তর্মুখী স্বভাবের মানুষ ছিলেন। তবে বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। ঠিক কী কারণে এই অবসাদ, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়। পরিবারের সদস্যদের দাবি, খুব সম্ভবত অবসাদের জেরেই তিনি ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন।
প্রাথমিক তদন্তে কোনও অসঙ্গতি মেলেনি বলেই পুলিশের দাবি। ঘটনাস্থল থেকে কোনও সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি। আপাতত অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করে তদন্তে নেমেছে আনন্দপুর থানার পুলিশ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ