নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ভুল গ্রুপের রক্ত দেওয়ায় বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক রোগিণীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শোরগোল পড়েছে। গত শনিবার এক রোগিণীর জন্য আনা রক্ত অন্যজনকে দিয়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি অনেক পরে হাসপাতালের কর্মীদের নজরে আসে। ততক্ষণে ওই রোগিণীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। তাঁকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার সকালে নমিতা বাগদি (৪৪) নামে ওই রোগিণী মারা যান।
বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সুপার তাপস ঘোষ বলেন, ওই রোগিণীর ছেলে রাহুল বাগদি লিখিত অভিযোগ করেছেন। ঘটনা তদন্ত করে দেখার জন্য পাঁচজনের কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই রোগিণী সাপের কামড়ে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। মৃতদেহ ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, ওই তদন্ত কমিটির রিপোর্ট খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, নমিতা বাগদি এবং নমিতা মাঝি নামে দু’জন রোগী ভর্তি ছিলেন। নমিতা মাঝির হিমোগ্লোবিন কম ছিল। তাঁর বাড়ি ভাতারের বলগোনা পঞ্চায়েত এলাকার তুলসীডাঙা গ্রামে। পরিবারের লোকজনদের ব্লাডব্যাঙ্ক থেকে রক্ত আনার জন্য বলা হয়। তাঁর রক্তের গ্রুপ ‘বি পজেটিভ’। একই ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন নমিতা বাগদি। হাসপাতালের এক কর্মী নমিতা মাঝিকে রক্ত না দিয়ে নমিতা বাগদিকে দেন। পরে রোগীর আত্মীয়রা বিষয়টি নজরে আনার পর হাসপাতাল কর্মীদের হুঁশ ফেরে। তড়িঘড়ি রক্ত দেওয়া বন্ধ করা হয়। কিন্তু ততক্ষণে বেশ কিছুটা রক্ত সাপের কামড়ে অসুস্থ রোগীর শরীরে চলে গিয়েছে। তাঁর রক্তের গ্রুপ ছিল ‘এ পজেটিভ’।
মৃতার দাদা মধুসূদন বাগদি বলেন, সাপের দংশনে বোনের মৃত্যু হয়নি। ভুল গ্রুপের রক্ত দেওয়ার জন্যই এই পরিস্থিতি হয়েছে। হাসপাতালের নার্স বা কর্মীদের গাফিলতির জন্যই মৃত্যু হয়েছে। মৃতার ছেলে রাহুল বাগদি বলেন, যাঁদের ভুলে মায়ের প্রাণ গেল, তাঁদের কঠোর শাস্তি দেওয়া উচিত। নমিতা বাগদির বাড়ি বীরভূমের বোলপুর থানার সুকুর গ্রামে। কালীপুজোর পরের দিন তাঁকে সাপে দংশন করে। তাঁকে প্রথমে সিয়ান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছিল। পরিবারের লোকজনদের দাবি, প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়। কিন্তু রক্ত দেওয়ার পর তিনি আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন।
মৃতার ছেলে সঞ্জিত মাঝি বলেন, ব্লাডব্যাঙ্ক থেকে রক্ত এনে ওয়ার্ডে দিয়ে আসি। রক্ত দেওয়া হয়েছে কি না, তা জানতে বেশ কিছুক্ষণ পর ওয়ার্ডে থাকা পরিবারের এক সদস্যকে ফোন করি। তিনি জানান, রক্ত অন্য এক রোগিণীকে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নার্সদের জানাতে বলি। তারপরই ওদের টনক নড়ে। নার্সরা এতটা দায়িত্বজ্ঞানহীন হতে পারে, তা ভাবতে পারিনি।