নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শনিবার রাত এগারোটা। পরণে জিন্স –টপ। এক তরুণী গেট ঠেলে ঢুকলেন নিউ মার্কেট থানায়। ডিউটি অফিসারকে জানান, তাঁর লাগেজ হারিয়ে গিয়েছে। তাই মিসিং ডায়েরি করতে এসেছেন। অভিযোগ শোনার পর থানার দেওয়া কাগজ-কলমে সবটা লিখলেন। ডায়েরির কপি পাওয়ার পরেও বসেছিলেন আরও কিছুক্ষণ। কাজের জন্য ডিউটি অফিসার চেয়ার পাল্টাতেই টেবিলে থাকা থানার মোবাইল ফোনটি নিয়ে উধাও হন ওই তরুণী। ভুয়ো অভিযোগ লেখাতে এসে অভিযোগকারিনী খোদ থানার মোবাইল নিয়ে চলে যাওয়ায় হতবাক হয়ে যান সকলেই। টাওয়ার লোকেশনের সূত্র ধরে অ্যাংলো ইন্ডিয়ান ওই তরুণী ক্যান্ডিস বাওয়েনকে রবিবার রাতেই গ্রেপ্তার করেছে নিউ মার্কেট থানা। উদ্ধার হয়েছে মোবাইলটি।
পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, অভিযুক্ত মহিলার বিরুদ্ধে জিনিসপত্র হাতানোর অভিযোগ নতুন নয়। মাসখানেক আগে পার্কস্ট্রিট এলাকার একটি নামী পানশালায় ল্যাপটপ ও মোবাইল হাতিয়ে ধরা পড়েন। জানা যায়, বিভিন্ন পানশালা বা অভিজাত রেস্তঁরায় ঢোকেন অতিথি সেজে। টেবিল বুক করে বসে পড়তেন। টেবিলে কেউ ল্যাপটপ, মোবাইল, ঘড়ি বা কোনও মূল্যবান জিনিস রেখে বাইরে গেলেই, তা হাতিয়ে নিয়ে চম্পট দিতেন। জামিন পেয়ে বেরিয়ে ফের একই কারবার।
পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার ক্যান্ডিস নিউ মার্কেট থানায় এসেছিলেন। মার্কেটিং করতে এসে তাঁর লাগেজ মিসিং হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ জানান। তা যে মনগড়া-ভুয়ো অভিযোগ, তা বুঝতে পারেননি পুলিশ কর্মীরা। ক্যান্ডিস যখন ডায়েরি করছিলেন, সেই সময় আরও কয়েকজন অভিযোগকারী থানায় আসেন। হোয়াটস অ্যাপে অভিযোগ জানানোর জন্য প্রতিটি থানায় একটি করে মোবাইল থাকে। সেটি তখন রাখা ছিল ডিউটি অফিসারের টেবিলে। ডিউটি অফিসার যখন অন্য অভিযোগকারীর সঙ্গে যখন কথা বলতে ব্যস্ত, সেই সুযোগে ওই মোবাইল হাতিয়ে সোজা হাঁটা লাগান মহিলা। থানার সিসি ক্যামেরা বিশ্লেষণ করতেই ধরা পড়ে অভিযোগ করতে আসা তরুণী ওই ফোন হাতাচ্ছেন। কিন্তু মাঝেমধ্যেই মোবাইলটি বন্ধ করে রাখছিলেন তরুণী। তদন্তে নেমে জানা যায়, নিউ মার্কেট থানার ওই মোবাইলের টাওয়ার মিলছে রিপন স্ট্রিট এলাকায়। এরই মাঝে খবর আসে, ওই ফোন থেকে তিলজলা থানাতেও ফোন করা হয়েছে। সেখানেও মহিলা লাগেজ হারানোর গল্প বলে অভিযোগ করতে যাচ্ছেন। রবিবার সন্ধ্যায় জানা যায়, ফোনের টাওয়ার নিউ মার্কেটে। হানা দিয়ে মোবাইল সহ মহিলাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।