নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: খুনের মামলার সাক্ষীকে আদালত চত্বরেই হত্যার হুমকি দিল অভিযুক্ত! সম্প্রতি চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়া আদালত চত্বরে। ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্কিত সংশ্লিষ্ট মামলার দুই সাক্ষী। তাঁদের তরফে ইতিমধ্যে হাওড়া থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তার ভিত্তিতে যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে থানা ও গোয়েন্দা বিভাগ। ছয় অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন গোয়েন্দারা।
হাওড়া সিটি পুলিশ সূত্রে খবর, ২০২১ সালের নভেম্বরে সাঁকরাইল থানা এলাকার বাসিন্দা ওয়াইজুল হক খানকে গুলি করে খুন করা হয়। এই ঘটনায় জড়িত অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় আটজনকে। এখনও দু’জন পলাতক। কিছুদিন আগে দু’জন জামিন পায়। ৬ অভিযুক্ত এখনও জেল হেফাজতেই আছে। পুলিশ চার্জশিট দেওয়ার পর এই মামলার বিচার পর্ব এখন প্রায় শেষের দিকে। গত ২৫ আগস্ট মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য প্রত্যক্ষদর্শী এক সাক্ষীকে ডাকা হয়। বেলা ২.৩০টে নাগাদ তাঁর সাক্ষ্য ছিল। তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগে জানিয়েছেন, সাক্ষী দেওয়ার জন্য আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। সেই সময় লক-আপ থেকে খুনের অভিযুক্তদের বের করে এজলাসের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তাঁকে দেখে অভিযুক্তরা হুমকি দিয়ে বলে সাক্ষী না দিয়ে ফিরে যেতে। তারপরেও সাক্ষী দিলে তাঁর অবস্থা ওয়াইজুলের মতোই হবে বলে শাসিয়ে যায়। ভয় না পেয়ে ওই প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী দেন। কিন্তু ওই দিন সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পূর্ণ না হওয়ায় ২৬ আগস্ট আবার আসেন তিনি। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই দিন অভিযুক্তদের শৌচালায়ে নিয়ে যাওয়ার সময় আদালতে দুই সাক্ষীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ফের শাসায় এবং বলে যে বেশিদিন তারা জেলে থাকবে না। জেল থেকে বেরিয়ে তাঁদের গুলি করবে। এতে রীতিমতো ভয় পেয়ে যান দুই সাক্ষী। কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা ওই দুই সাক্ষীর কাছে এসে জানতে চান, কী হয়েছে। পুলিশের তরফে গোটা বিষয়টি সরকারি আইনজীবীকে জানানো হয়। আসেন গোয়েন্দা বিভাগের অফিসাররা। দুই সাক্ষীকে তাঁরা আশ্বস্ত করেন এবং ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান। কিন্তু পুলিশের তরফে স্বতঃপ্রণোদিত কোনও মামলা রুজু হয়নি জানতে পারার পর দুই সাক্ষী হাওড়া থানায় এসে ১৫ সেপ্টেম্বর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে পুলিশ সাক্ষীদের হুমকি দেওয়ার মামলা রুজু করে। গোয়েন্দারা তদন্ত শুরু করেন। কয়েকদিন আগে ছয় অভিযুক্তকে এই মামলায় হেফাজতে চেয়ে আদালতে আবেদন করে পুলিশ। ধৃতরা জেরায় পুলিশের কাছে হুমকি দেওয়ার কথা স্বীকারও করেছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, দুই সাক্ষীকে অভিযুক্তদের শাগরেদরা নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। রীতিমতো আতঙ্কিত দুই সাক্ষী। ঘটনার পর জেলে অভিযুক্তদের গতিবিধির উপর নজর রাখা হচ্ছে। জেল থেকে ফোন করে অভিযুক্তরা তাদের শাগরেদদের ওই দুই সাক্ষীকে খতম করার কোনও নির্দেশ দিয়েছে কি না, খোঁজখবর চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।