Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হাতে আর দু’দিন, ‘গৃহ সম্পর্ক’ অভিযানে অর্ধেক বাড়িতে পৌঁছতেই পারেনি বিজেপি, জলপাইগুড়িতে আজ বৈঠকে সাংসদ

হাতে আর দু’দিন। অথচ জলপাইগুড়িতে ‘গৃহ সম্পর্ক’ অভিযানে এখনও অর্ধেক বাড়িতে বিজেপি নেতা-কর্মীরা পৌঁছতে পারেননি বলে অভিযোগ।

হাতে আর দু’দিন, ‘গৃহ সম্পর্ক’ অভিযানে অর্ধেক বাড়িতে পৌঁছতেই পারেনি বিজেপি, জলপাইগুড়িতে আজ বৈঠকে সাংসদ
  • ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: হাতে আর দু’দিন। অথচ জলপাইগুড়িতে ‘গৃহ সম্পর্ক’ অভিযানে এখনও অর্ধেক বাড়িতে বিজেপি নেতা-কর্মীরা পৌঁছতে পারেননি বলে অভিযোগ। আর এতেই আরো একবার প্রকাশ্যে আসছে পদ্ম শিবিরের নিচুতলার সংগঠনের বেহাল ছবিটা। গৃহ সম্পর্ক অভিযানে প্রতিটি বাড়িতে তিনবার করে যাওয়ার কথা থাকলেও আদৌও একবার করে সব বাড়িতে তাঁরা যেতে পারবেন কি না তা নিয়ে সংশয়ে খোদ বিজেপি নেতাদের একাংশ। 

Advertisement

বিজেপির জলপাইগুড়ি ১ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি মনোজ শাহ বলেন, আমরা সময়ের মধ্যে গৃহ সম্পর্ক অভিযান শেষ করার চেষ্টা চালাচ্ছি। ৭০ শতাংশ বাড়িতে পৌঁছতে পেরেছি। বাকিটাও হয়ে যাবে। ২ নম্বর মণ্ডলের সভানেত্রী অঙ্কিতা ছেত্রী বলেন, এখনো কিছু বাড়িতে আমরা পৌঁছতে পারিনি। তবে দু’দিন হাতে সময় আছে। আশা করি, শেষ করতে পারব। 
শুধু গৃহ সম্পর্ক অভিযান নয়, এর আগে পার্টির বেঁধে দেওয়া ইস্যুকে সামনে রেখে প্রতিটি শক্তিকেন্দ্রে যে সভা করতে বলা হয়েছিল, তাতেও জলপাইগুড়িতে ঘাটতি থেকে গিয়েছে গেরুয়া শিবিরের। জলপাইগুড়ি ১ নম্বর মণ্ডলে ১৪টি শক্তিকেন্দ্রের মধ্যে চারটিতে সভা করতে পারেনি বিজেপি। ২ নম্বর মণ্ডলে ১২টি শক্তিকেন্দ্রের মধ্যে তিনটিতে সভা করতে পারেননি গেরুয়া শিবিরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা-কর্মীরা। এনিয়ে বিজেপির মণ্ডল নেতৃত্বের অবশ্য সাফাই, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা চলে আসায় সবক’টি সভা করা যায়নি। পরীক্ষা শেষ হয়ে গেলে সভা হবে। 
দলের কর্মসূচি কার্যকর করতে কর্মীদের একাংশের মধ্যে যে গা-ছাড়া মনোভাব রয়েছে, তা নিয়ে গত বুধবারই জলপাইগুড়িতে একটি সভায় বলতে শোনা গিয়েছে বিজেপির ভারতীয় জনতা কিষান মোর্চার রাজ্য সভাপতি রাজীব ভৌমিককে। এনিয়ে ওই সভাতেই দলের কর্মীদের কড়া বার্তা দিয়েছেন বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি শ্যামল রায়। কিন্তু তারপরও সময়ের মধ্যে গৃহ সম্পর্ক অভিযানে টার্গেট পূরণ হওয়া নিয়ে সংশয় রয়ে গিয়েছে দলেরই একাংশের। 
এই পরিস্থিতিতে বুথ বিজয় সংকল্প ও গৃহ সম্পর্ক অভিযান নিয়ে নেতা-কর্মীদের ‘পারফরম্যান্স’ যাচাইয়ে আজ, শুক্রবার বৈঠক ডাকা হয়েছে বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা কার্যালয়ে। ওই বৈঠকে দলের জেলা নেতৃত্বের পাশাপাশি জলপাইগুড়ির বিজেপি সাংসদ ডাঃ জয়ন্তকুমার রায়ের হাজির থাকার কথা। প্রকাশ্যে সাংগঠনিক ব্যর্থতার কথা স্বীকার না করলেও জলপাইগুড়িতে আড়ালে আবডালে পদ্ম নেতাদের অনেকেই স্বীকার করছেন, শুধু ভিনরাজ্যের নেতাদের নিয়ে এসে কিংবা টাকার বিনিময়ে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের নিয়ে রিল বানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করে ভোট বৈতরণী পার হওয়া মুশকিল। ভোট পেতে হলে বুথে সংগঠন জোরদার করা দরকার। যাতে এখনো অনেকটাই ঘাটতি রয়ে গিয়েছে। 
এসআইআরে যেভাবে জলপাইগুড়িতে শুনানির নোটিস ইস্যু হয়েছে, তাতে ব্যাকফুটে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় শেষপর্যন্ত ময়দানে নামতে হয়েছে বিজেপিকে। রাজ্য সরকারের নয়া প্রকল্প ‘যুবসাথী’ নিয়েও পদ্ম শিবিরে চিন্তার ভাঁজ। ক্যাম্পে ভিড় দেখে বিজেপি নেতাদের বলতে শোনা গিয়েছে, কেউ যুবসাথী প্রকল্পের সুবিধা নিলে তাঁদের কোনো আপত্তি নেই। যদিও জেলা বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এসবে তাদের ভোটব্যাংকে কোনো প্রভাব পড়বে না। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ