মাধ্যমিক পিছলে উচ্চ মাধ্যমিক সূচিও বদলাবে, উৎকণ্ঠায় লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জনগণনার কাজে ব্যস্ত থাকবেন শিক্ষকরা। তাই পিছিয়ে যেতে পারে মাধ্যমিক পরীক্ষা। মাধ্যমিক পিছলে তার প্রভাব পড়বে উচ্চ মাধ্যমিক, জয়েন্টের মতো বাকি পরীক্ষাগুলিতে। মঙ্গলবার উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি অসিতকুমার মণ্ডল বলেন, ‘মাধ্যমিক যদি সত্যিই পিছায়, তাহলে উচ্চ মাধ্যমিকও পিছাতে হবে। পরিবর্তিত সূচি পরে জানানো হবে।’ জয়েন্ট এন্ট্রান্স এগজাম বোর্ডের সভাপতি গৌতম পাল এনিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তবে এক আধিকারিক বলেন, ‘ভিন রাজ্যে পড়তে যাওয়া ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ জড়িয়ে থাকে বলে ইচ্ছে করলেই ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রযুক্তি বা আর্কিটেকচারের জয়েন্ট প্রবেশিকা পিছিয়ে দেওয়া যায় না।’

Advertisement

বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের কাজে শিক্ষকদের ব্যস্ত রাখায় পঠনপাঠনে বিঘ্ন ঘটছে—শিক্ষকরা গত কয়েক বছর ধরেই এই অভিযোগে সোচ্চার। কখনও নির্বাচন, কখনও এসআইআরের মতো কাজে শিক্ষকদের ব্যস্ত থাকতে দেখা গিয়েছে। নির্বাচনের জন্য মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিকের মতো পরীক্ষা এগিয়ে আনার ঘটনাও ঘটেছে। এবার তার সঙ্গে যুক্ত হল সেন্সাস, যা নিয়ে শিক্ষক মহল বেশ অসন্তুষ্ট। তাহলে মাধ্যমিক পরীক্ষা কি সত্যিই পিছিয়ে যাচ্ছে? এদিন স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন জানিয়েছেন, বুধবার বিকাশ ভবনে গিয়ে এ বিষয়ে বৈঠক করবেন তিনি। তারপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন।
শিক্ষক সংগঠন এসটিইএ’র সাধারণ সম্পাদক বাসুদেব দাস বলেন, ‘জনগণনা নিশ্চয়ই গুরুত্বপূর্ণ কাজ। তবে তার জন্য মাধ্যমিকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। এর থেকেই স্পষ্ট, শিক্ষাকে কোন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে সরকারি স্কুলশিক্ষা ব্যবস্থার উপর থেকে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস উঠে যাবে।’ শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী বলেন, ‘পরীক্ষার দিন অপরিবর্তিত রেখে সেন্সাসের সময় বদলানো হোক। ছাত্রছাত্রীদের একটি মানসিক প্রস্তুতি থাকে। পরীক্ষা পিছলে তাদের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়বে।’
আরও জরুরি বিষয় হল উচ্চ মাধ্যমিকের সূচি। এই পরীক্ষা আদতে উচ্চশিক্ষার প্রবেশদ্বার। উচ্চ মাধ্যমিক উত্তীর্ণরা শুধু রাজ্যে নয়, দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় পেশাদারী বা সাধারণ ডিগ্রি কোর্সগুলিতে ভরতি হতে চলে যান। তাছাড়া, এই পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত থাকে জয়েন্ট বা নিটের মতো ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেডিকেল প্রবেশিকাগুলি। উচ্চ মাধ্যমিক না হলে এই পরীক্ষাগুলি নেওয়া হয় না। জয়েন্ট বোর্ডের এক কর্তা বলেন, ‘মাধ্যমিক পরে হলেও উচ্চ মাধ্যমিক যথাসময়ে হওয়া উচিত। ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে তা হয়েও থাকে। কারণ, উচ্চ মাধ্যমিকের সঙ্গে অনেক কিছু জড়িত। জয়েন্টের ফল যদি এমন সময়ে প্রকাশ করা হয়, যখন দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ক্লাস শুরু হয়ে গিয়েছে, তাহলে তার কোনো মূল্য নেই।’ প্রসঙ্গত, উচ্চ মাধ্যমিকের ফাইনাল সেমেস্টারের সূচি এখনও ঘোষণা করা হয়নি। তবে প্র্যাকটিক্যাল চলার কথা জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির মধ্যে। সোমবার মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ২ মার্চ থেকে মাধ্যমিক নেওয়ার প্রস্তাব পাঠিয়েছে শিক্ষাদপ্তরে। তারপর সব পরীক্ষার সূচি নিয়েই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।