Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘ডু ইট নাও’ মন্ত্রেই প্যান্ডেলের পথে পুজোপ্রেমী আম বাঙালি

এমন রোদে অন্য সময় ‘মাথা ঘুরছে’ বলে বাড়িতেই থেকে যান বহু বাঙালি। কিন্তু এখন পুজো বলে কথা! মেক আপ গলিয়ে দেওয়া দীপ্ত রোদের নীচে দাঁড়িয়ে এক তরুণী বললেন, ‘সকালে উঠে দেখলাম বিছানায় রোদ এসে পড়েছে। ব্যাস!

‘ডু ইট নাও’ মন্ত্রেই প্যান্ডেলের পথে পুজোপ্রেমী আম বাঙালি
  • ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৩:০৯
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এমন রোদে অন্য সময় ‘মাথা ঘুরছে’ বলে বাড়িতেই থেকে যান বহু বাঙালি। কিন্তু এখন পুজো বলে কথা! মেক আপ গলিয়ে দেওয়া দীপ্ত রোদের নীচে দাঁড়িয়ে এক তরুণী বললেন, ‘সকালে উঠে দেখলাম বিছানায় রোদ এসে পড়েছে। ব্যাস! বন্ধুদের সঙ্গে প্ল্যান করে বেরিয়ে পড়লাম।’ এরকম হঠাত্ প্ল্যান কেন? উত্সবপ্রেমীদের বক্তব্য, ‘পরিকল্পনা করলেই তা বৃষ্টি ভেস্তে দিচ্ছে। তাই মন্ত্র একটাই ডু ইট নাও।’ অনেকে আবার ‘ডিরেক্ট অ্যাকশন’-এর কথাও বলছেন। সেটা কেমন? দর্শনার্থীরা বলছেন, ‘বৃষ্টির ফোঁটা যতক্ষণ না পড়ছে, ঠাকুর দেখা চলবে। অ্যাকশনে থাকতে হবে।’ সন্ধ্যায় অবশ্য বৃষ্টি নেমেই গেল। শুরু হল মাথা গোঁজার জন্য একটু আস্তানার খোঁজ। কিন্তু উৎসাহে ভাটা? নেভার।

Advertisement

দুপুর থেকে সন্ধ্যা—অ্যাকশন আছড়ে পড়ল গড়িয়াহাট থেকে হাতিবাগান। গড়িয়াহাট মোড়েই গাড়ি-বাস দাঁড়িয়ে ১৫ মিনিট। দু’পাশ দিয়ে, সামনে দিয়ে শুধুই মানুষের ঢল। এমন মানুষের আনাগোনা কিন্তু শুরু হয়েছে সকালেই। সিংহী পার্কের পুজোর সামনে দল বেঁধে যখন লোকজন চলেছে, শুরু হল বচসা। কেউ পাশ থেকে বলে উঠলেন, ‘এদের কি অফিস নেই? ছুটি পায় কী করে?’ পুজোপ্রেমীরা অবশ্য ওসব কটাক্ষ তোয়াক্কা করেন না। তাঁরা বলে উঠলেন, ‘আমাদের অফিস নেই। চাকরির পরীক্ষা দিচ্ছি। আমরা কখন বেরোব, আপনি ঠিক করবেন?’ এরপর হাসাহাসির মধ্যেই মিলিয়ে গেল বচসা। ফের চলল ঠাকুর দেখা। শুধু আপশোশ একটাই, সন্ধ্যার আলোকসজ্জা আর দেখা হল না। সক্কাল সক্কাল ঘোরাঘুরির মাঝে তো পেটপুজো দরকার। মণ্ডপগুলোর চারপাশে আইসক্রিম, কোল্ডড্রিঙ্কের স্টল খুলে গিয়েছে। সেখানে গলা ভেজানোর পালা চলছেই। দুপুর হতেই লাইন পড়ল রাসবিহারী মোড়ের একটি রেস্তরাঁর বাইরে। তারপর দক্ষিণ থেকে সোজা উত্তরের ঠাকুর দেখা। মেট্রোতেও ভিড়। আর যাঁরা উত্তরে ছিলেন, তাঁরা সটান চলে এলেন দক্ষিণে। একডালিয়ার ঠাকুর দেখে বাঘাযতীনের ইপ্সিতা সাহা বলছিলেন, ‘যা শুনছি, মনে হয় না পুজোর দিনগুলোতে বেরোতে পারব। তাই আগেভাগেই...।’
চড়া রোদে সব বয়সের পুজোপ্রেমীদের সঙ্গী ছাতা, আর সানগ্লাস। আর সন্ধ্যা হতেই আহিরীটোলা, বাগবাজারে উপচে পড়ল ভিড়। এত আগে থেকে? এমন প্রশ্নের উত্তরে বাগুইআটির স্বপ্ননীল চট্টোপাধ্যায় বললেন, ‘প্যান্ডেল খুলে দিলেই আমরা চলে আসব। কখন বৃষ্টি নেমে যায় আবার!’ বৃষ্টি নামল সন্ধ্যায়। তখন কলেজ স্কোয়ার, কাশী বোস লেনে ব্যাপক ভিড় জমেছে। সকালে রোদ ঠেকাতে ব্যবহার করা ছাতাই কাজে লেগে গেল বৃষ্টি আটকাতে। মেট্রো স্টেশনের ভিতরে ঢুকে দাঁড়ালেন অনেকে। তখনও সশব্দে আকাশ জানান দিচ্ছে, মেঘেদের বড়সড় মিছিল আসতে চলেছে।
তবে কি বৃষ্টির কাছে হার মেনে এবার বাড়ির পথেই? বিরাটির তরুণী তুহিনা মল্লিক বলছিলেন, ‘একটু অপেক্ষা করব। বৃষ্টি যদি বাড়তে থাকে তবেই বাড়ির দিকে হাঁটব। এই বৃষ্টির জন্যই নতুন জামা পরে আসিনি। তা বলে ঠাকুর দেখা বন্ধ করব কেন?’ বৃষ্টি থামার অপেক্ষা চলতেই থাকল। পরিবার নিয়ে যাঁরা এসেছিলেন, তাঁরা অবশ্য ঝুঁকি নিলেন না। আর তরুণ-তরুণী, যাঁদের হয়তো প্রথম প্রেমের প্রথম দুর্গাপুজো, তাঁরা কিন্তু এত সহজে বৃষ্টির কাছে হার মানতে নারাজ। শেষ দেখে ছাড়বেন তাঁরা, এমনই মনোভাব নিয়ে অপেক্ষায়। বলে গেলেন, ‘আজ যদি পরিকল্পনা মতো সবটা শেষ নাও করতে পারি, কাল সকালে রোদ উঠলেই বেরোব। আবার।’        

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ