সামান্য কিছু পরিবর্তন, তৃণমূল আমলের স্কুল সিলেবাসই বই আকারে গেল ছাপতে, সময়ের অভাব, কয়েকটি পাঠ্যপুস্তকের শুধু নাম-প্রচ্ছদ বদল
  • ৩ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: সময়ের অভাবে তৃণমূল আমলের স্কুল সিলেবাসই গৌণ কিছু পরিবর্তনের পর বই আকারে ছাপতে গেল প্রেসে। অর্থাৎ ২০২৭ সালে তৃণমূল আমলের স্কুল সিলেবাসই কার্যত পড়তে হবে ছাত্র-ছাত্রীদের। তবে তৃণমূলের ছোঁয়াচ বাঁচাতে কিছু বইয়ের নাম প্রচ্ছদ পরিবর্তন করা হচ্ছে। ইসলামিক সম্বোধন ও শব্দ পরিবর্তন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবনীর অন্তর্ভুক্তি, সিঙ্গুর আন্দোলনের অধ্যায় বাদ ছাড়া বিশেষ পরিবর্তন তেমন হয়নি।

Advertisement

সিলেবাস কমিটির জানা গিয়েছে, ৮০টি বইয়ের মধ্যে চার-পাঁচটি বইয়ের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। যেমন প্রাক প্রাথমিকের ‘মজারু’ বইটির নাম নিয়ে আপত্তি ছিল সদস্যদের। সেটির নাম রং-তুলি বা ওই জাতীয় কোনো নাম হতে পারে। ইতিহাস বইয়ের নাম ছিল ‘অতীত ও ঐতিহ্য’। সেটির নাম সরাসরি ‘ইতিহাস’ রাখার প্রস্তাব হয়েছে। যে শ্রেণির ইতিহাস সেটিই শুধুমাত্র উল্লিখিত থাকবে। এছাড়া পরিবর্তনগুলি খুবই গৌণ বলেই দাবি কমিটির সদস্যদের। যেমন হিন্দু শাসকদের আমলে তাম্রলিপ্ত ছিল গুরুত্বপূর্ণ বন্দর। সেটি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে পাঠ্যবইয়ে।
স্কুল সিলেবাস এক্সপার্ট কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য বলেন, এমনিতেই আমরা সময়ের চেয়ে পিছিয়ে ছিলাম। সরস্বতী প্রেসও প্রায় হাত তুলে নিচ্ছিল। ২ জানুয়ারি ‘বুক ডে’তে পড়ুয়াদের হাতে বই তুলে দিতে গেলে আর দেরি করা যেত না। তবে এর পাশাপাশি আরও কিছু সমস্যার কথা উঠে আসছে। সদস্যরা এখনও তাঁদের কাজের জন্য সাম্মানিক বা রাহা খরচ পাননি। বিভিন্ন জটিলতায় তা আটকে রয়েছে। এছাড়া নিয়মিত সময় দেওয়ার জন্য নিজের নিজের বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ বা স্কুল থেকে যে ছুটি তাঁদের পাওয়ার কথা, তাও পাচ্ছেন না। সিলেবাস পরিবর্তন একটি ফুলটাইম জব। শুধু কিছু অধ্যায় বা তার অংশ বাদ দিয়ে নতুন কিছু অন্তর্ভুক্তিই শেষ কথা নয়। পিরিয়ড অনুযায়ী, একটি স্টাডি প্ল্যান তৈরি করা দরকার। আন্তর্জাতিক এবং জাতীয় মানদণ্ড অনুযায়ী, এমনভাবে সিলেবাস তৈরি করতে হয় যা ২২০ দিনের মধ্যে পড়িয়ে শেষ করা সম্ভব। এর সঙ্গে মূল্যায়নের বিষয়েও বিশেষজ্ঞদের মতামত দেওয়ার কথা। তবে সেসব সময় পাওয়া যায়নি।
সদস্যরা এটাও মানছেন, এনসিইআরটির বইগুলি এ রাজ্যের বইগুলির তুলনায় পাতলা। তবে সেগুলি অনেক সুসংহত। পাশাপাশি এটাও ঠিক, এ রাজ্যের পড়ুয়ারা অনেক বিষয়ই কিছুটা বিস্তারিতভাবে পড়তে পারে। তাই একটা ভারসাম্য হওয়া দরকার। পাশাপাশি জাতীয় শিক্ষানীতিতে ডিজিটাল লিটারেসিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই রাজ্যের কত স্কুলে কম্পিউটার রয়েছে, সেগুলিতে বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে কি না, কত স্কুলে কম্পিউটার দিতে হবে, সেসব তথ্য নিতে শুক্রবারই বৈঠক হয়েছে বিকাশ ভবনে। নতুন সিলেবাসের অভাব পরিকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে আপাতত পুষিয়ে দিতে চাইছে দপ্তর।