গুয়াহাটি: নাম শ্রবণ। বাড়ি অসমের শিবসাগর জেলার বিহুবোড়ে। পেশায় দিনমজুর। বাড়ির কাছ থেকেই বয়ে গিয়েছে দিখৌ নদী। বর্ষার সময় এলেই নদীর তীরে আনাগোনা বেড়ে যায় শ্রবণের। কারণ স্রোতের টানে দূর থেকে বহু গাছের গুঁড়ি, কাঠের টুকরো ভেসে আসে। জীবন বাজি রেখে সেগুলি তীরে টেনে আনতে জলে ঝাঁপিয়ে পড়েন বছর পঁচিশের এই যুবক। বাড়িতে গ্যাস নেই। এই কাঠগুলি সারা বছর বাড়িতে জ্বালানির জোগান দেয়। মোটের উপর এটাই স্কুলছুট শ্রবণের রুটিন। কিন্তু, সাম্প্রতিক বন্যায় তিনিই হয়ে উঠেছিলেন রক্ষাকর্তা। কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে উদ্ধার করেছেন প্রায় দু’হাজার জনকে। তার পরেই ‘হিরো’র মর্যাদা পাচ্ছেন তিনি। শ্রবণের বার্তা, প্রত্যেক পরিবারের অন্তত একজনের সাঁতার জানা উচিত। কারণ, একজন সাঁতার জানলে, তিনি অন্তত ১০ জনের প্রাণ বাঁচাতে পারবেন।
গত মাসের ১৯ তারিখ ভোরে নদীর জল শুধুই কাঠের গুঁড়ি নয়, বয়ে আনছিল বিপদ সংকেত। গর্জনেই জানান দিচ্ছিল দিখৌ নদী। কিছুক্ষণের মধ্যেই অসমের শিবসাগর জেলায় গ্রামের পর গ্রাম জলের তলায় চলে যায়। বন্যাদুর্গত এলাকায় বহু মানুষ আটকে পড়েন। জল ঢুকে পড়ে শ্রবণের দুর্বল কাঠামোর বাড়িতেও। নিজেদের দরকারি সামগ্রী সুরক্ষিত স্থানে সরাতে তৎপর ছিলেন শ্রবণের ভাই-মা। কিন্তু, সেদিকে নজর নেই যুবকের। অন্যদের উদ্ধারে ঝাঁপিয়ে পড়েন। দশম শ্রেণি পর্যন্ত টেনেটুনে পড়াশুনো করেছেন তিনি। উদ্ধারকাজের কোনো প্রশিক্ষণ নেই। নেই প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও। শুধু নদী ও তার স্রোতকে ভালোভালে চিনতেন শ্রবণ। সেই অভিজ্ঞতার ভরসায় শুরু করেন উদ্ধারকাজ। সঙ্গী হন রাজকুমার রাজগড়, মামু দাস, রবি রাজগড়, মিঠু চৌধুরী, আনন্দ মাঝি, দীপক চৌধুরীরা। সঙ্গে ছ’টি নৌকো। ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করতে থাকেন তাঁরা।
তথ্য বলছে, ওই কয়েকজন মিলে পাঁচটি গ্রামের প্রায় ২ হাজার মানুষকে উদ্ধার করেছিলেন। পরে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দলের সদস্যরা আসার পর তাঁদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছে ওই যুবকরা।