আটলান্টা: ‘দিওয়ার’ সিনেমার বিখ্যাত সেই ডায়লগের কথা মনে আছে। শশী কাপুর বলছেন, ‘মেরে পাস মা হ্যায়।’ একইভাবে চলতি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড বলতেই পারে, ‘হামারে পাস হ্যারি কেন হ্যায়।’ ভাগ্যিস আছে! নয়তো রাউন্ড অব ৩২’তেই থ্রি লায়নদের রিটার্ন টিকিট পাকা হয়ে যেত। বুধবার কঙ্গোর বিরুদ্ধে ৭৪ মিনিট পর্যন্ত ০-১ ব্যবধানে পিছিয়ে ছিল টুচেলের দল। ঘড়ির কাঁটা এগনোর সঙ্গেসঙ্গে বাড়ছিল আশঙ্কা। কিন্তু আছে কেন তো মারে কে?
৭৫ মিনিটে অ্যান্টনি গর্ডনের ঠিকানা লেখা ক্রস বিষাক্ত মাথার ছোবলে সমতা ফেরালেন গোলের জন্য টুচেলের ‘গো টু ম্যান’। ভেসে আসা বলে দুর্দান্ত টাইমিংয়ের পাশাপাশি শক্তি যোগ করে মাত দিলেন তেকাঠির নীচে দুর্ভেদ্য হয়ে ওঠা লায়োনেল এমপাসিকে। আর ৮৬ মিনিটে এই হ্যারি কেনের পা থেকেই জয়সূচক গোল। যার জন্য কোনো উপমাই যথেষ্ট নয়। কেবল চোখের তৃপ্তি। সেই গর্ডনের থেকেই বল পেয়ে বিপক্ষের চার ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে জায়গা করে নিলেন ইংলিশ স্ট্রাইকার। তারপর গোলপোস্টের দিকে না তাকিয়েই চকিতে বুলেট গতির শট। যা ঘণ্টা প্রতি ১১৩ কিলোমিটার বেগে উপরের কর্নারে আছড়ে পড়ল। শট মারার পর হ্যারি কেন নিজেও ভারসাম্য রাখতে না পেরে মাটিতে পড়ে গিয়েছিলেন। গোল হতেই উঠে দৌড়ে সাইডলাইনে ডানা মেললেন। গর্ডন তখনও কেন ম্যাজিকে বিভোর। কোচ টমাস টুচেলও আবেগে গা ভাসিয়েছেন। ম্যাচ শেষে হ্যারি কেন বলছিলেন, ‘অসাধারণ অনুভূতি। ম্যাচে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হল। কঙ্গোকে কৃতিত্ব দিতে হবে। ওদের গোলরক্ষকও অসাধারণ কয়েকটি সেভ করলো। তবে এই ইংল্যান্ড টিমকে ৯০ মিনিট পর্যন্ত আটকে রাখা কঠিন। কুলিং অফ ব্রেকের সময় আলোচনা করছিলাম, এই পরিস্থিতিতে একজনকে নায়ক হতে হবে। এদিন সেটা আমি হয়েছি। জয়সূচক গোলটি আলাদা তৃপ্তি দিচ্ছে।’
প্রি কোয়ার্টার-ফাইনালে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ মেক্সিকো। অ্যাজটেকায় এই ম্যাচ নিয়ে চিন্তিত টুচেল। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এই স্টেডিয়ামের উচ্চতা ৭ হাজার ফুটের বেশি। কোচের কথায়, ‘পরের ম্যাচের আগে হাতে মাত্র তিন দিন। কম সময়ের মধ্যে অ্যাজটেকার উচ্চতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া কঠিন। তাই মেক্সিকো বাড়তি সুবিধা পাবে। তবে যত বাধাই আসুক, লড়াইয়ের জন্য এই ইংল্যান্ড দল প্রস্তুত।’