মায়ামি: হার্ড রক স্টেডিয়াম থেকে ইন্তার মায়ামির ট্রেনিং সেন্টারের দূরত্ব ২১ মাইলের একটু বেশি। এই পথ অতিক্রম করতে সময় লাগে মেরে কেটে আঘ ঘণ্টা। তবে বৃহস্পতিবার সাইপ্রেস ক্রিক রোডে তিল ধারণের জায়গায় নেই। রাস্তার দু’ধারে নীল-সাদা অনুরাগীদের ভিড়। দেখলে মনে হবে ফ্লোরিডা নয়, বুয়েনস আইরেসের কোনো রাজপথ! শুক্রবার (ভারতীয় সময় শনিবার ভোররাতে) হার্ড রক স্টেডিয়ামেই রাউন্ড অব ৩২’এর লড়াইয়ে কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে নামছে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আর এই ম্যাচের আগে যাবতীয় চর্চার কেন্দ্রে সেই লিও মেসি। তাঁকে সামনে রেখেই প্রি কোয়র্টার-ফাইনালের স্বপ্নে বুদ অনুরাগীরা।
বিশ্বকাপ খেলতে গত ৩০ মে মার্কিন মুলুকে পা রেখেছিল আর্জেন্তিনা। কানসাস সিটির বেস ক্যাম্পেই যাবতীয় প্রস্তুতি সারে লায়োনেল স্কালোনি ব্রিগেড। গ্রুপ পর্ব চালাকালীন মূলত আগের দিন ম্যাচ ভেন্যুতে পা রেখেছিলেন মেসিরা। তারপর ফের বেস ক্যাম্পে ফিরে যান তাঁরা। প্রাথমিক ভাবে ঠিক ছিল, নক-আউটেও সেই রীতি বহাল থাকবে। তবে কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আগে পরিকল্পনার পরিবর্তন আনেন কোচ স্কালোনি। ম্যাচের দু’দিন আগেই মায়ামিতে পা রাখে আর্জেন্তিনা। বুধবার কানসাস সিটিতে প্রস্ততি সেরে বিকালের বিমানে শহরে পৌঁছালেন মেসিরা। ঠিক হয়েছে, বৃহস্পতিবার বাঁ পায়ের জাদুকরের ক্লাব ইন্তার মায়ামির ট্রেনিং গ্রাউন্ডেই নক-আউটের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সারবে দল। উল্লেখ্য, হার্ড-রক স্টেডিয়ামে ২০২৪ সালে কোপা আমেরিকা খেতাব জিতেছিল আর্জেন্তিনা। সেই পয়মন্ত মাঠেই রাউন্ড অব সিক্সটিনের টিকিট নিশ্চিত করাই লক্ষ্য স্কালোনি ব্রিগেডের।
শক্তির নিরিখে আর্জেন্তিনা ও কেপ ভার্দের মধ্যে পার্থক্য আকাশ-পাতাল। চলতি বিশ্বকাপে যে ফর্মে রয়েছেন মেসি, তাতে খুব সহজেই আফ্রিকার দেশটিকে বশ মানানো উচিত। তবে গ্রুপ পর্বে স্পেন, উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ড্রয়ের হ্যাটট্রিক সেরে নক-আউটের টিকিট পাকা করেছে কেপ ভার্দে। তাই শুক্রবারও তাদের একমাত্র লক্ষ্য থাকবে, রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলে যতটা সম্ভব ম্যাচ দীর্ঘায়িত করা। এই জায়গাতেই বিপক্ষকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন আর্জেন্তিনা কোচ স্কালোনি। তাঁর কথায়, ‘প্রতিপক্ষের গোটা দল নেমে আসলে রক্ষণ ভাঙা অনেক কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তাই আমাদের অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হবে।’
আর্জেন্তিনার কোচের পদে শুক্রবারই স্কালোনির শততম ম্যাচ। ইতিমধ্যেই সিজার লুইস মেনেত্তি, কার্লোস বিলার্দো ও মার্সেলো বিয়েলসার ম্যাচ সংখ্যাকে পিছনে ফেলেছেন তিনি। সামনে শুধুই গুইলেরমো স্তাবিলে (১২৪)। যদিও মেসিদের হেড স্যার সেসব নিয়ে ভাবতে নারাজ। তাঁর এখন একটাই লক্ষ্য, টানা দ্বিতীয়বার দলকে বিশ্বসেরার মুকুট এনে দেওয়া।