নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: কর্মসংস্কৃতি শিকেয়! মাসের পর মাস কাজে না এসেও বেতন পেয়ে যাচ্ছেন বরানগর পুরসভার অনেক স্থায়ী কর্মী। কেউ কেউ আবার ‘আসি যাই মাইনে পাই’ নীতিতে বিশ্বাসী! অর্থাৎ হাজিরা দিয়েই বেরিয়ে যাচ্ছেন ব্যক্তিগত কাজে। পরিষেবা না পেয়ে তিতিবিরক্ত সাধারণ মানুষ। পুরসভার একাধিক সিআইসি বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে বিতর্কের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি কিছুটা নড়েচড়ে বসেছে পুরসভা। দীর্ঘদিন পুরসভায় না আসা ১০ কর্মীকে শো-কজ করা হয়েছে চলতি মাসে। কী কারণে তাঁরা দিনের পর দিন কোনও কারণ না দেখিয়ে পুরসভায় আসছেন না, তা লিখিতভাবে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এরপরও পরিস্থিতি বদল হবে কি না, সন্দিহান পুরসভার বহু আধিকারিক।
বরানগর পুরসভার কর্মসংস্কৃতি নিয়ে সাধারণ মানুষ তো বটেই, খোদ কাউন্সিলারদের মধ্যেও প্রশ্ন রয়েছে। একাধিকবার পুরসভার সিআইসি ও বোর্ড মিটিংয়ে তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। একাধিক সিআইসি কাজ না করে মাইনে নেওয়া কর্মীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের আবেদন জানিয়েছিলেন। এই অবস্থায় কাজ না করে মাইনে পাওয়া কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। কতজন স্থায়ী কর্মী পুরসভায় না এসেও মাইনে পাচ্ছেন, তার তালিকা তৈরি করতে বলা হয়। এস্টাব্লিসমেন্ট সেকশন ১০জন কর্মীর তালিকা তৈরি করে। তাঁদের শো-কজের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, পুরসভার একাধিক আধিকারিকও এক শ্রেণির কর্মীর এই ‘ফাঁকিবাজি’ নিয়ে বারবার সরব হয়েছেন। তাতে কোনও লাভ হয়নি। এমনকী, পুরসভায় হাজিরা দিয়ে ব্যক্তিগত কাজে বেরিয়ে যাওয়া ছাড়াও কাউন্সিলারের অফিসে গিয়ে বসে থাকার উদাহরণ রয়েছে। তাঁদের সঙ্গে প্রভাবশালীদের যোগাযোগ থাকায় কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার সাহস কেউ দেখায়নি। অস্থায়ী কর্মীদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। একাধিক কাউন্সিলারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা অস্থায়ী কর্মীর তালিকায় রয়েছেন। তাঁরা পুরসভা বা ওয়ার্ডে কাজ না করে স্রেফ কাউন্সিলারের পিছনে ঘোরেন। মাস গেলে মাইনে পেয়ে যান। এই ধরনের কর্মীর সংখ্যাও কম নয়। এক আধিকারিক বলছিলেন, ‘পরিস্থিতি বুঝে এসব কর্মীদের সরাসরি কাজ না করিয়ে ওয়ার্ড সাফাই সহ নানা কাজ দেখভালের দায়িত্ব দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। তাতেও খুব একটা লাভ হয়নি। তবে এবার পুরসভা অনেকটা কড়া মনোভাব নিচ্ছে। আশা করছি, পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে।’
বরানগর পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান দিলীপনারায়ণ বসু বলেন, ‘দিনের পর দিন কাজ না করে মাইনে নেওয়া কর্মীদের শো-কজ করা হয়েছে। তাঁদের উত্তর খতিয়ে দেখার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। কোনও অন্যায় বরদাস্ত করা হবে না।’