নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: কিডনি পাচার চক্রের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড সহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে অশোকনগর থানার পুলিস। তদন্তকারীদের আতস কাচের তলায় রয়েছেন এক আইনজীবী এবং এক চিকিৎসক (নেফ্রোলজিস্ট)। এর মধ্যে অভিযুক্ত নেফ্রোলজিস্ট সম্পর্কে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পুলিসের হাতে এসেছে বলে খবর। জানা গিয়েছে, কয়েক বছর আগে কলকাতায় ওই নেফ্রোলজিস্ট কিডনি পাচারের অন্য একটি ঘটনায় অভিযুক্ত হয়েছিলেন। কিন্তু শেষমেষ তিনি অভিযুক্ত তালিকা থেকে মুক্তি পান। সূত্রের খবর, ওই চিকিৎসক রীতিমতো ‘প্রভাবশালী’। ক্ষমতার অলিন্দের অনেকের সঙ্গে তাঁর অত্যন্ত ভালো যোগাযোগ। সেই যোগাযোগ কাজে লাগিয়েই কার্যত বাধাহীনভাবে তিনি চালিয়ে গিয়েছেন কিডনি পাচারের কারবার। এবার তাঁকে পাকড়াও করতে পুলিস রীতিমতো আঁটঘাট বেঁধে নামছে। ইতিমধ্যে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, গত দিন ১৫ ধরে ওই চিকিৎসক নিয়মিত চেম্বার করছেন না। এই অবস্থায় আম জনতার প্রশ্ন, এবার কি পুলিস ‘প্রভাবশালী’ চিকিৎসককে জালে তুলতে পারবে?
অশোকনগরের বাসিন্দা এক যুবকের অভিযোগের ভিত্তিতে কিডনি পাচার কাণ্ডের তদন্ত শুরু করে পুলিস। তারা জানতে পারে, অভিযোগকারী যুবকের স্ত্রীর কিডনি দানের জন্য জেলাস্তরের প্রশাসনের তরফে কোনও অনুমতি মেলেনি। কিন্তু তারপর কোনও অদৃশ্য অঙ্গুলিহেলনে রাজ্য থেকে কিডনি দানের অনুমতি মিলেছে। আরও দেখা যায়, এই কাণ্ডে ধৃত সুদখোর শীতলের ফাঁদে পড়ে একাধিক কিডনি দাতা জেলা প্রশাসনের কাছে অনুমতির জন্য আবেদন করেছেন। এখান থেকে সেই অনুমোদন না মিললেও পরবর্তীতে তা রাজ্য বা সর্বোচ্চস্তর থেকে ঠিকই মিলে গিয়েছে! গত দেড়-দু’বছরে বারাসত মহকুমা এলাকায় প্রায় ৩০ জন কিডনি দান করতে চেয়ে জেলা প্রশাসনে আবেদন করেন। সূত্রের খবর, এর মধ্যে প্রায় ২০টি ‘নট রেকমেন্ডেড’ হয়। কিন্তু এরপর দাপুটে ওই নেফ্রোলজিস্টের হাতযশে সব ক্ষেত্রেই অনুমোদন পত্র মিলেছে। ইতিমধ্যে পুলিসের একটি টিম ওই চিকিৎসককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তৎপরতা শুরু করেছেন। তিনি কোথায় কোথায় রোগী দেখেন, সেই খোঁজখবর নেওয়া চলছে। সেরকম একটি জায়গায় গিয়ে পুলিস জেনে এসেছে, গত ক’দিন তিনি নিয়মিত চেম্বার করছেন না। তাঁর কাছে চিকিৎসা করাতে আসা রোগীদের সঙ্গেও পুলিস কথা বলছে। বারাসত পুলিস জেলার এক কর্তা বলেন, ‘ওই চিকিৎসকের ভূমিকা শেষভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধৃতদের বয়ান যাচাই করার কাজ চলছে।’