প্রদীপ্ত দত্ত, ঝাড়গ্ৰাম: রাজ্যের সব সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলে বন্দেমাতরম গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। জেলার শিক্ষাদপ্তরের হোয়াটসঅ্যাপ গ্ৰুপে নির্দেশিকাও এসে গিয়েছে। এই নির্দেশের পর রাজ্য সঙ্গীত ‘বাংলার মাটি, বাংলার জল’ গাওয়া নিয়ে জেলার শিক্ষক মহলে ধন্দ তৈরি হয়েছে। ঝাড়গ্রাম জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক(মাধ্যমিক) জগবন্ধু বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রাজ্য শিক্ষাদপ্তর থেকে হোয়াটসঅ্যাপ গ্ৰুপে নির্দেশিকা এসেছে। সেই নির্দেশিকা স্কুলের গ্ৰুপে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গতবছর থেকে সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলগুলিতে রাজ্যসঙ্গীত হিসাবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘বাংলার মাটি, বাংলার জল’ গাওয়া শুরু হয়েছে। রাজ্য সরকারের নির্দেশিকায় রাজ্যসঙ্গীত গাওয়া হবে কিনা, তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো নির্দেশ নেই। জাতীয় সঙ্গীত, রাষ্ট্রসঙ্গীত ও রাজ্যসঙ্গীত প্রার্থনার সময় গাইতে হবে কি না, তা নিয়ে শিক্ষক মহলে চর্চা চলছে। তিনটি গান গাইতে প্রায় দশ মিনিট সময় লাগবে। তাতে প্রার্থনার সময় স্কুল পড়ুয়াদের বেশ কিছুটা অতিরিক্ত সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। ঝাড়গ্রাম মতো জেলায় অধিকাংশ স্কুল চত্বরের খোলা জায়গায় প্রার্থনাসঙ্গীত গাওয়া হয়। জেলার শিক্ষকরা রাজ্য সঙ্গীত গাওয়া হবে কি না, তা নিয়ে দোলাচলে।রাজ্য শিক্ষাদপ্তর থেকে জেলা স্কুল পরিদর্শকের হোয়াটস অ্যাপে বন্দেমাতরম গাওয়ার নির্দেশ এসেছে। স্কুলগুলির তরফে নির্দেশ পালনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে।
ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত আনন্দমঠ উপন্যাসে গানটি রয়েছে। ১৮৭৫ সালে গানটি লেখা হয়েছিল।এই গানপরাধীন দেশের সর্বস্তরের মানুষকে জাতীয়তা বোধে উদ্বুদ্ধ করেছিল। কেন্দ্রের তরফে বন্দেমাতরম গানের ১৫০ বছর উদযাপন করা হচ্ছে। পাঠ্যপুস্তকের পাতা থেকে বন্দেমাতরম গান সামাজিক স্তরের আলোচনাতেও উঠে আসছে। লালগড় রামকৃষ্ণ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনোজকুমার মাইতি বলেন, রাজ্যসঙ্গীত গাইতে ৪মিনিট, জাতীয় সঙ্গীত প্রায় ১ মিনিট,সেই সঙ্গে বন্দেমাতরম গাইতেও ৪ মিনিট সময় লাগবে। স্কুলের প্রার্থনায় গুরুমন্ত্র গাইতেও ১ মিনিট লাগে। এক্ষেত্রে ১০ মিনিট সময় লাগবে। স্কুলের তরফে বিষয়টি নিয়ে ভাবা হচ্ছে। স্কুল শুরুর আগে স্পষ্ট নির্দেশ পাব বলেই আশা করছি। ঝাড়গ্রাম অশোক বিদ্যাপীঠের অ্যাসিস্ট্যান্ট টিচার নীলকান্ত নায়েক বলেন, লিখিত নির্দেশিকা এখনও আসেনি। তবে বন্দেমাতরম ও জনগণমণ দু’টো গান গাওয়া হবে। রাজ্য সঙ্গীতের বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশিকা আশা করছি। ঝাড়গ্রাম জেলা অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের সংযোজক বাপি দাস বলেন, স্বাধীনতা আন্দোলনে বন্দেমাতরম গানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। রাষ্ট্রের পুনর্নির্মাণে এই গানের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। প্রতিটি স্কুলে বন্দেমাতরম গাওয়ার যে নির্দেশ দিয়েছে, তা যথাযথ। প্রতীকী ছবি