নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার মৈত্রীর জোরালো বার্তা। আর তা সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রাশিয়া জানিয়ে দিল, ৫ শতাংশ ছাড়ে অশোধিত তেল ভারতকে সাপ্লাই করবে তারা। মঙ্গলবার রাতে এই সিদ্ধান্তের পর বুধবার ভারতে নিযুক্ত রাশিয়ার ডেপুটি চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার জানিয়ে দিলেন, ‘ভারতকে আমেরিকার হুমকি হুঁশিয়ারি সম্পূর্ণ অন্যায্য এবং একেবারেই সমর্থনযোগ্য নয়। ভারতকে চাপ দিয়ে বিপদে ফেলা যাবে না। সবরকম সঙ্কটে ভারতের পাশে রাশিয়া আছে। ভারতে নিযুক্ত রাশিয়ান দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন রোমান বাবুশকিন জানান, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের যে বৈঠক হয়েছে, সেই বৈঠকের অন্যতম ইতিবাচক ফলশ্রুতি হল, আমেরিকা সম্ভবত ভারতের উপর অতিরিক্ত শুল্ক বলবৎ করবে না। ঘোষণা যা হয়েছে, সেটাও মকুব হবে। আর আমেরিকা যদি এরপরও নিষেধাজ্ঞা চাপায় বা ইউরোপে কোনও সমস্যা হয়, রাশিয়ার বাজার ভারতের জন্য সব সময় খোলা।’ রাশিয়ার এই দাবিতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় বন্ধু ভারতের জন্য পুতিনই এমন প্রতিশ্রুতি আদায় করে নিয়েছেন? নচেৎ রাশিয়া হঠাৎ এই দাবি করল কেন?
রাশিয়া ‘উরাল’ অশোধিত তেলে ব্যারেল পিছু ভারতকে এতদিন দেড় থেকে ২ ডলার ছাড় দিয়ে এসেছে। ফের ৫ শতাংশ ছাড়ের অর্থ, রাশিয়ান তেল কেনা আরও বাড়াবে ভারত। ১৮ আগস্টের হিসেব অনুযায়ী, রাশিয়ার অশোধিত তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যারেল প্রতি ৬৩ ডলার। ব্রেন্ট অয়েলের মূল্য ৬৬ ডলার। ভারত রাশিয়ার থেকে সস্তায় তেল পাওয়ায় ভারতীয় তেল উৎপাদনকারী সংস্থাগুলির আরও আর্থিক সুবিধা হবে। কিন্তু প্রশ্ন হল, সেই আর্থিক লাভের কোনও সুরাহা কি সাধারণ মানুষ পাবে? অশোধিত তেল আন্তর্জাতিক বাজারে যাই হোক, মোদি সরকার ১১ বছরে সাধারণ মানুষকে সামান্যতম সুবিধাটুকুও দেয়নি। ২০১৪ সালে ভারতে পেট্রলের দাম ছিল ৭২ টাকা (দিল্লি)। আন্তর্জাতিক বাজারে তখন অশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১০ টাকা। অথচ ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে গড়ে ৬৯ ডলারে অশোধিত তেল কিনছে ভারত। তারপরও কিন্তু ভারতবাসী দিল্লিতে পেট্রল কিনছে ৯৫ টাকায়। কলকাতায় সেই দাম ১০৫ টাকা ৪১ পয়সা। অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও আম জনতার জন্য পেট্রল-ডিজেল সস্তা হয়নি। আর শুধু যে ভারতীয় তেল সংস্থা সস্তায় অশোধিত তেল কিনছে, তাই নয়। সাধারণ অথবা প্রিমিয়াম, পেট্রল মাত্রেই এখন ইথানল ব্লেন্ড হয়। অর্থাৎ পেট্রল ১০০ শতাংশ বিশুদ্ধ নয়। ফলে ১ লিটারের দাম আরও সস্তা হওয়া উচিত। অথচ সেই সুবিধা ভারতবাসী পায় না। মুনাফার পাহাড় চড়ে তেল সংস্থাগুলি। এবং বছর শেষে তারা পাহাড়প্রমাণ লভ্যাংশ দেয় মোদি সরকারকে। আর তাই আজকাল আর ভারত পেট্রলিয়ামের বেসরকারিকরণে মোদি সরকারের সাড়াশব্দও নেই। তেল সংস্থাগুলি এখন লাভজনক প্রতিষ্ঠান। ডোনাল্ড ট্রাম্প যতই বাণিজ্য যুদ্ধের সুর চড়াচ্ছেন, রাশিয়া ততই ভারতের প্রতি সদয় হয়ে উঠছে। এই আবহে বুধবার রাশিয়ান দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন তাৎপর্যপূর্ণ আভাস দিয়েছেন। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চীন যাচ্ছেন। সেখানে দেখা হবে জি জিনপিংয়ের সঙ্গে। মোদি-পুতিন-জিনপিং ত্রিশক্তির একসঙ্গে বৈঠকের কোনও সম্ভাবনা কি আছে? রাশিয়া সরকারের কর্তা রহস্য উস্কে দিয়ে বলেছেন, ‘খুব শীঘ্রই!’