নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চিঠির পর চিঠি। মাসের পর মাস পার হয়ে যাচ্ছে। ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া বা এনসিপিআইয়ের ২০ জন সাংসদ আদতে কোন দলে আছেন, জানা গেল না! তাহলে কি নিজেদের অবস্থান জানাতে আবারও সময় চাইবেন তাঁরা? এই প্রশ্নেই জোর গুঞ্জন চলছে রাজনৈতিক মহলে। আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশ করানোর ক্ষেত্রে এনসিপিআই সাংসদদের সমর্থন প্রয়োজন হবে কেন্দ্রের শাসক দলের। ফলে নতুন কিছু ঘটতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।
এর আগে লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়ে যথাক্রমে সাতদিন, তিন সপ্তাহ, এক মাস, ১৪ দিন সময় নিয়েছেন এনসিপিআই সাংসদরা। আগামী ৩ নভেম্বর এনসিপিআই সাংসদদের দেওয়া সময়সীমা শেষ হচ্ছে। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে, তাঁরা কি ফের চিঠি দিয়ে সময় চাইবেন? মমতা তৃণমূলের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভার অধ্যক্ষকে চিঠি দিয়ে আরজি জানিয়েছিলেন, এনসিপিআই সাংসদদের সাংসদ পদ খারিজ করা হোক। তার প্রেক্ষিতে এনসিপিআই সাংসদদের কাছে অবস্থান জানতে চান লোকসভার অধ্যক্ষ। তার জন্যই পরপর চারবার সময় নিয়েছেন এনসিপিআই সাংসদরা। পঞ্চমবার তাঁরা সময় নেবেন কি না, সেটাই দেখার। এ বিষয়ে রবিবার পর্যন্ত সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে কোনো নির্দেশ আসেনি বলে জানান একাধিক সাংসদ। অনেকেই বলছেন, ‘আমাদের কাছে নির্দেশ একেবারে শেষ মুহূর্তে আসে। তখন আমাদের চিঠি পাঠাতে হয়। আমাদের হাতে সোম ও মঙ্গলবার আছে। তার মধ্যে কোনো নির্দেশ এলে সেই মতো পদক্ষেপ করা হবে।’
তবে রাজনৈতিক মহল মনে করছে, বর্তমানে এনডিএ শরিক হিসাবে রয়েছেন এনসিপিআই সাংসদরা। আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনে এনসিপিআই সাংসদদের প্রয়োজন হবে শাসক দলের। বিশেষত, সংসদে একাধিক বিল পাশের ক্ষেত্রে তাঁদের সমর্থন প্রয়োজন শাসক শিবিরের। তার উপর জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধীরা যখন রাস্তায় আন্দোলনের ঝাঁঝ বাড়াচ্ছে, তার রেশ সংসদের অভ্যন্তরেও পড়তে চলেছে। এই আবহে এনসিপিআই সাংসদরা যদি মঙ্গলবারের অবস্থান জানিয়ে অধ্যক্ষকে চিঠি দেন, সেক্ষেত্রে তিনি কী পদক্ষেপ করবেন, সেদিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।



