


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: উত্তরপ্রদেশে দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্য থেকে কি বাদ দেওয়া হয়েছে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনা? সংসদে এই সংক্রান্ত প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব এড়িয়েই গেল মোদি সরকার। পরিবর্তে বলা হল, কোনও স্টেট বোর্ডের পাঠসূচিতে ঠিক কী অন্তর্ভুক্ত হবে, আর কোনটা বাদ যাবে, তা সম্পূর্ণভাবেই সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের এক্তিয়ারভুক্ত। স্বাভাবিকভাবেই এই বিষয়কে কেন্দ্র করে ফের একবার সিলেবাস বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে শিক্ষা বিশেষজ্ঞ মহলে।
বিরোধীদের অভিযাগ, কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই স্কুল-কলেজের পাঠ্যসূচিতে গৈরিকীকরণের চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি সরকার। আর তা করতে গিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বেমালুম বাদ দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা একপ্রকার অসম্পূর্ণ থাকার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে যোগীরাজ্যের স্কুলে দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্যসূচি থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনা ‘ছুটি’র ইংরেজি অনুবাদ ‘দ্য হোম কামিং’ বাদ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সঙ্গত কারণেই প্রবল চর্চা শুরু হয়েছে। রাজ্যসভায় এই বিষয়ে লিখিত প্রশ্ন করেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তারই লিখিত জবাবে রাজ্যসভায় কেন্দ্রীয় শিক্ষা রাষ্ট্রমন্ত্রী জয়ন্ত চৌধুরী জানিয়েছেন, বিভিন্ন স্টেট বোর্ডের আওতায় থাকা বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম এবং পাঠ্যবইয়ে কী থাকবে, তা সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলোই চূড়ান্ত করে। সেইমতো উত্তরপ্রদেশ বোর্ড অব এডুকেশনের আওতায় থাকা স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্যসূচিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কিংবা অন্য কারও সাহিত্য অন্তর্ভুক্ত হবে, নাকি তা বাদ দেওয়া হবে, সেটিও ওই রাজ্য সরকারেরই চূড়ান্ত করার দায়ভার থাকে।
এরই পাশাপাশি কেন্দ্রীয় শিক্ষা রাষ্ট্রমন্ত্রী রাজ্যসভায় লিখিতভাবে আরও জানিয়েছেন, ২০২০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতিতে পাঠ্যসূচি এবং পাঠ্যপুস্তক প্রকাশ সংক্রান্ত নির্দিষ্ট নির্দেশিকা রয়েছে। তা মেনেই যাবতীয় পদক্ষেপ করা হয়। সেই নির্দেশিকাকে মান্যতা দিয়েই এনসিইআরটির যাবতীয় পাঠ্যক্রম তৈরি হয়। তবে এনসিইআরটির বিশেষ পাঠ্যসূচিতে ‘অপারেশন সিন্দুর’ অন্তর্ভুক্ত করার প্রসঙ্গ অবশ্য কেন্দ্রীয় সরকার স্বীকার করে নিয়েছে। এই ব্যাপারে রাজ্যসভায় লিখিত প্রশ্ন করেছিলেন বিজেপি সাংসদ অশোক চহ্বান। তারই লিখিত জবাবে কেন্দ্রীয় শিক্ষা রাষ্ট্রমন্ত্রী জয়ন্ত চৌধুরী জানিয়েছেন, ছাত্রছাত্রীদের বয়সোপযোগী করেই ‘অপারেশন সিন্দুর’ নিয়ে বিশেষ মডিউল প্রকাশ করা হয়েছে। এর ফলে ছাত্রছাত্রীরা যেমন জাতীয় স্তরের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ওয়াকিবহাল থাকতে পারবে, তেমনই বাঁধাধরা পাঠ্যক্রমের বাইরে গিয়েও তাদের নতুন কিছু জানার সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ মডিউল অপ্রকাশিত থাকলে তা সম্ভব হতো না। অন্যদিকে, বিরোধীশূন্য রাজ্যসভায় বুধবার পাস হয়ে গিয়েছে শিক্ষামন্ত্রকের আনা ‘দ্য ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউটস অব ম্যানেজমেন্ট (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৫’। দু’দিন আগেই তা লোকসভায় পাস হয়েছে। এই বিল আইনে পরিণত হলে গুয়াহাটি আইআইএম ইনস্টিটিউট অব ন্যাশনাল ইমপর্ট্যান্সের তালিকাভুক্ত হয়ে যাবে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান জানিয়েছে, শিলংয়ের পর এটিই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দ্বিতীয় আইআইএম হতে চলেছে।