ওয়াশিংটন: আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধের সময় হরমুজ প্রণালীতে মাইন পেতেছিল ইরান। যার জেরে এখনও ওই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি নিরাপদ নয়। এর মধ্যেই মধ্য এশিয়ায় মার্কিন নৌসেনাকে ঠেকাতে তেহরান ‘আত্মঘাতী ডলফিন’ ব্যবহার করতে পারে বলে জল্পনা শুরু হয়েছে। এই নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়লেন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ। যদিও এমন আশঙ্কার কথা উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। হেগসেথ জানিয়েছেন, ইরানের কাছে যে এমন কোনো ডলফিন নেই, সেই সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত। তবে, আমেরিকা এমন ডলফিন ব্যবহার করে কি না, তা নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলতে চাননি তিনি। যুদ্ধক্ষেত্রে ডলফিন ব্যবহারের ধারণা নতুন নয়। সংঘাতপূর্ণ এলাকায় আমেরিকাও এমন ডলফিন নিয়ে গবেষণা চালিয়েছে। তবে, এখনও অস্ত্র হিসাবে এখনও ডলফিন ব্যবহারের প্রমাণ মেলেনি।
কিন্তু, ডলফিনকে কীভাবে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে? বিশেষজ্ঞদের মতে, ডলফিনের শরীরে মাইন বাঁধা থাকতে পারে। কোনো যুদ্ধজাহাজ এর কাছাকাছি এলেই বিস্ফোরণ ঘটবে। ইরান যে এমন অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে, গত এপ্রিলে এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছিল মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। জলপথে আমেরিকার অবরোধ হটাতেই তেহরান এমন চেষ্টা করতে পারে বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। মার্কিন নৌসেনা দীর্ঘদিন ধরেই ডলফিনকে যুদ্ধে ব্যবহার নিয়ে গবেষেণা চালাচ্ছে। এর জন্য বিশেষ কর্মসূচিও রয়েছে তাদের। এই জলচর প্রাণীকে সমুদ্রের তলায় মাইন খোঁজার কাজে বা বন্দর পাহারা দেওয়ার কাজে ব্যবহারের জন্যই ওই গবেষণা চালানো হয়। শুধু আমেরিকা নয়, রাশিয়াও বন্দর পাহারার জন্য ডলফিনকে ব্যবহার করে থাকে। একটি সূত্রে খবর, ২০০০ সালে ইরান বেশ কিছু ডলফিন কিনেছিল। তবে, বয়সের কারণে সেগুলিকে আর যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করা সম্ভব নয় বলেই দাবি বিশেষজ্ঞদের।