শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: জলাজমি ভরাট হচ্ছে। সেই সঙ্গে ব্যক্তিগত বা সরকারি পাট্টার জমিও হাতবদলের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের তালিকা ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে বারাসত ২ নম্বর ব্লকের বিভিন্ন গ্রামে। কীর্তিপুর ১ ও ২, শাসন, দাদপুর পঞ্চায়েতের খড়িবাড়ি, পার খড়িবাড়ি, কামদুনি, নাঙলপোতা সহ বিভিন্ন এলাকায় গেলেই এই অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বহু কৃষকের সরকারি পাট্টা ও ব্যক্তিগত জমি দখল করা হয়েছে। কোথাও চাপ, কোথাও হুমকি, কোথাও আবার দালালদের সক্রিয় ভূমিকায় জমির চরিত্রই বদলে ফেলা হয়েছে। একাধিক জলাজমি ভরাট করে সেখানে নির্মাণের অভিযোগও তুলেছেন বাসিন্দারা। শুধু তাই নয়, বিদ্যাধরী খালের একাংশ দখল করেও নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। থানা ও ভূমিদপ্তরে জমা পড়েছে গুচ্ছ গুচ্ছ অভিযোগ। কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেলেও অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। রাজ্যে পালাবদলের পর স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব এনিয়ে উচ্চবাচ্য করছে না বলেও আক্ষেপ বাসিন্দাদের।
কামদুনির জমি মালিক কিংকর মণ্ডলের কথায়, আমার নামে জমির বৈধ কাগজ রয়েছে। তাসত্ত্বেও তৃণমূলের আমলে আমাকে জোর করে জমি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। আমার জমি দখল করে তৈরি হচ্ছে বহুতল আবাসন। সরকার বদলেছে, কিন্তু আমার জমি এখনও ফেরেনি। একই সুর রজনী মণ্ডলের গলায়। বললেন, আমার জমি দখল হয়েছিল। প্রতিবাদ করায় আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনের দেখা উচিত। বিজেপির মণ্ডল সভাপতি ভাস্কর মণ্ডল বলেন, এসব ঘটনা তৃণমূলের আমলে হয়েছে। এখন আর ইচ্ছামতো মানুষকে উচ্ছেদ করা যাবে না। কিন্তু এই আশ্বাসে ভরসা রাখতে পারছেন না এলাকার বাসিন্দারা। সম্প্রতি জমি-দখলের অভিযোগ নিয়ে ভাস্করবাবু ও বিজেপি নেতৃত্বকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের প্রশ্ন, দুর্নীতির প্রশ্নে সরকার যদি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে থাকে, তাহলে বারাসত ২ নম্বর ব্লকে এ নিয়ে তদন্ত শুরু হচ্ছে না কেন?
একটা সময় বারাসত ২ নম্বর ব্লকের কামদুনি সহ বিভিন্ন এলাকায় ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রেক্ষিতে মানুষের নিরাপত্তার দাবিতে আন্দোলন হয়। এবার সেই এলাকায় শুরু হয়েছে জমি বাঁচানোর আন্দোলন। কামদুনির প্রতিবাদী মুখ মৌসুমি কয়াল বলেন, তৃণমূলের নেতারা মানুষকে ভয় দেখিয়ে জমি কেড়ে নিয়েছে। শুধু জমি দখল নয়, একজনের জমি অন্যের নামে করিয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া দরকার। গ্রামের মানুষকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। এসব আর চলবে না। উন্নয়নের কাজে জমি যদি নিতেই হয়, তাহলে চাষিদের সঙ্গে আলোচনা করেই তা কিনে নিতে হবে। নিজস্ব চিত্র