নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: আর মিউনিসিপ্যালিটি নয়, এবার চুঁচুড়া পুরসভাকে কর্পোরেশন করা হোক। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এ নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে জেলার সদর শহরে। চুঁচুড়ার সদ্য নির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক সুবীর নাগ এ বিষয়ে একধাপ এগিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাবও পেশ করেছেন। পুরসভার নানা সমস্যা নিয়ে রাজ্যের পুরদপ্তরে গিয়েছিলেন বিধায়ক। সেখানেই তিনি ওই প্রস্তাব দিয়েছেন। কীভাবে কর্পোরেশন তৈরি করা হবে, তার নকশাও সুবীরবাবু তুলে ধরেছেন। রাজ্যের অন্যতম প্রাচীন এই পুরসভার ‘স্টেটাস’ উন্নয়নের পরিকল্পনাকে ঘিরে জনমানসে উৎসাহ তৈরি হয়েছে। যদিও ইতিহাস বলে, বাম আমল থেকে তৃণমূল হয়ে বিজেপি আমল— অতীতে একাধিকবার চুঁচুড়াকে কর্পোরেশনে উন্নীত করার দাবি নিয়ে চর্চা হয়েছে। কিন্তু তা শেষমেশ জল্পনাতেই সীমাবদ্ধ থেকেছে।
কেমন হবে প্রস্তাবিত পুরনিগম বা কর্পোরেশন? চুঁচুড়া পুরসভার একেবারে গায়ে গায়ে আছে চারটি পঞ্চায়েত। সেগুলি হল কোদালিয়া-১ ও ২, ব্যান্ডেল এবং দেবানন্দপুর। পুরসভার সঙ্গে এই চারটি পঞ্চায়েতকে মিলিয়ে প্রস্তাবিত কর্পোরেশনের নকশা তৈরি করা হয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, জেলার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এই কর্পোরেশনের আওতায় থাকবে। থাকবে দু’টি রেলস্টেশনও। বর্তমানে রেলদপ্তর স্টেশনগুলিকে আধুনিক করে তুলছে। ব্যান্ডেলে এয়ারপোর্টের আদলে আন্তর্জাতিক মানের স্টেশন গড়া হচ্ছে। বিজেপি বিধায়কের দাবি, সেগুলি প্রস্তাবিত কর্পোরেশনের আওতায় এলে পুরসভার চেহারাই বদলে যাবে।
সুবীরবাবু বলেন, এই এলাকার জনঘনত্ব বেড়েছে। এই পুরসভাকে কর্পোরেশন করার দাবি ওঠা স্বাভাবিক। আমি পুরদপ্তরে এ বিষয়ে বিস্তারিত খতিয়ান পেশ করে চুঁচুড়াকে কর্পোরেশন করার দাবি জানিয়েছি। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে পুরসভার সার্বিক উন্নতি হবে, নাগরিক পরিষেবা অনেকটা ভালো হবে। তৃণমূল নেতা তথা চুঁচুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমিত্র ঘোষ বলেন, সরকার যদি তেমন সিদ্ধান্ত নেয়, আমাদের আপত্তি নেই। মানুষের কাজ করার পরিসর বাড়বে। এটা ভালো বিষয়।
চুঁচুড়ার পাশের শহর চন্দননগর বহু বছর আগে কর্পোরেশন হয়েছে। বিপদ হচ্ছে, চন্দননগরের কারণেই ঢিল ছোড়া দূরত্বে আরও একটি কর্পোরেশনের প্রস্তাব নিয়ে বারবার টালবাহানা হয়েছে। শোনা যায়, অতীতে একবার চন্দননগর ও চুঁচুড়া পুরসভাকে মিলিয়ে একটি কর্পোরেশন করার কথা ভাবা হয়েছিল। সেক্ষেত্রে কেবলমাত্র একটি পঞ্চায়েতের কিছু অংশ অন্তর্ভুক্ত করলেই হতো। কিন্তু সেই চর্চা বেশিদূর এগয়নি। তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশের দাবি, চুঁচুড়াকে পৃথক কর্পোরেশন করা নিয়ে একসময় তদ্বির করা হয়েছিল। বর্তমানে রাজ্যে পালাবদলের পর ফের চুঁচুড়া কর্পোরেশনের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। নাগরিকদের দাবির পাশাপাশি উন্নয়নের প্রয়োজনে বিজেপি নেতৃত্বও উদ্যোগী হয়েছেন। বিধায়ক ইতিমধ্যেই কর্পোরেশনের মডেল পেশ করেছেন। এখন দেখার, বিষয়টি চর্চার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি বাস্তব রূপ পাবে।