Bartaman Logo
১৪ জুন, ২০২৬

বঙ্গে ক্ষমতায় এলে রেশনে চাল-গম বন্ধ করবে বিজেপি?

এবার কি খাদ্যের ‘অধিকার’ও খতম করতে চাইছে নরেন্দ্র মোদি সরকার? রাজ্যে রাজ্যে রেশনে গরিবের চাল-গম সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র?

বঙ্গে ক্ষমতায় এলে রেশনে চাল-গম বন্ধ করবে বিজেপি?
  • ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: এবার কি খাদ্যের ‘অধিকার’ও খতম করতে চাইছে নরেন্দ্র মোদি সরকার? রাজ্যে রাজ্যে রেশনে গরিবের চাল-গম সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র? আর সেটা বাংলায় ক্ষমতায় এলেই? এই প্রশ্ন উঠছে। কারণ, মোদি সরকারের গড়ে দেওয়া একটি কমিটি এবং তাদের সুপারিশে বিভিন্ন রাজ্যে চালু হয়ে যাওয়া ‘পাইলট প্রজেক্ট’। খাদ্যমন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব তথা আর্থিক উপদেষ্টাকে চেয়ারম্যান করে তৈরি হয়েছে ১৩ জনের বিশেষ কমিটি। সদস্য হিসাবে রয়েছেন বিজেপি শাসিত গুজরাত, উত্তরপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, পুদুচেরির খাদ্যসচিব। আছেন রিজার্ভ ব্যাংক অব ‌ইন্ডিয়া, এফসিআইয়ের প্রতিনিধিও। কমিটির আবার সম্প্রতি একটি সাব-কমিটিও তৈরি হয়েছে। কীভাবে রাজ্যে রাজ্যে গণবণ্টন ব্য‌বস্থার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্পে ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (ডিবিটি) কার্যকর করা যায়, রেশন গ্রাহকদের জন্য চালু করা যায় সেন্ট্রাল ব্যাংক ডিজিটাল কারেন্সি (সিবিডিসি) ইত্যাদি সাতটি বিষয় নিয়েই কমিটি করবে আলোচনা। তৈরি হবে রিপোর্ট। পৌঁছাবে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে। জমা পড়বে ক্যাবিনেট সেক্রেটারিয়েটে। এই সমীকরণেই চাল-গমের পরিবর্তে রেশন গ্রাহকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি খাদ্যশস্যের দাম দেওয়ার তোড়জোড় শুরু করেছে কেন্দ্র। চণ্ডীগড়, লাক্ষাদ্বীপ, পুদুচেরির পাশপাশি মহারাষ্ট্রের একাংশে (১২টি জেলায়) ডিবিটি শুরুও হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১১৩ কোটি টাকা ট্রান্সফারও হয়েছে। এবার ধীরে ধীরে অন্য রাজ্যের পালা। আজ, সোমবার ক্যাবিনেট সেক্রেটারিয়েটের অতিরিক্ত সচিবের সভাপতিত্বে রয়েছে বিশেষ বৈঠক। বিষয়, ‘রিভিউ অব ডিবিটি ইমপ্লিমেন্টেশন: সেন্ট্রাল সেক্টর অ্যান্ড সেন্ট্রালি স্পনসরড স্কিমস।’ 

Advertisement

২০২৪ সালে লোকসভার ভোটের সময় গরিবদের মন জয়ে প্রধানমন্ত্রী বড়ো মুখ করে বলেছিলেন, পাঁচ বছর বিনামূল্যে রেশন। তার জন্য খরচ ১১ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা। তাই কীভাবে রেশন গ্রাহক কমানো যায়, সেটাই এখন মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মোদি ব্রিগেডের। তাই ব্যবস্থা চলছে খাদ্যশস্যের পরিবর্তে ডিবিটি, ফুড ভাউচার দেওয়ার। প্রচারে বলা হচ্ছে, এর মাধ্যমে প্রকৃত লেনদেনে নজরদারি করা যাবে। কিন্তু একইসঙ্গে কৃষকের থেকে চাল-গম কেনা, রাজ্যে রাজ্যে পৌঁছানো, তার ‘হ্যান্ডলিং লস’-এর দায়িত্বও যে এড়ানো যাবে, তা সরাসরি স্বীকার করছে না কেন্দ্র। উপরন্তু আয়কর, জিএসটি নম্বর, সিবিডিটি, বাহন পোর্টালের সঙ্গে যুক্ত আর্থিকভাবে স্বচ্ছলদের তালিকাও তৈরি হচ্ছে। তাঁরাও বাদ যাবেন ‘ফ্রি রেশন’ থেকে। একবার যদি ‘হিসাব কষে’ অ্যাকাউন্টে টাকা যাওয়া শুরু হয়ে যায়, তাহলে আর দায়-দায়িত্ব কোনোটাই থাকবে না। অল্প পরিমাণ টাকা ঢুকবে অ্যাকাউন্টে, আর বাজারদরে চড়া মূল্যে কিনতে হবে চাল-গম। আতান্তরে পড়বে সাধারণ প্রান্তিক শ্রেণির মানুষ। জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে কেন্দ্রীয় প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গে ৬ কোটি ১ লক্ষ ৭৩ হাজার মানুষ রেশন পান। এঁদের দায়মুক্ত হয়ে যাওয়ার পর থাকবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রকল্পের আওতায় থাকা লক্ষ লক্ষ গ্রাহক। প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনার বাইরে তাঁদের রেশন দিয়ে থাকেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে সেটি যে বন্ধ হয়ে যাবে, বলাই বাহুল্য। কারণ, পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া দেশের কোথাও আর এভাবে রাজ্য সরকারের প্রকল্পে ফ্রি চাল-গম দেওয়া হয় না। রেশন দোকানদারদের সংগঠন অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু ‘মমতা-মডেল’কেই সমর্থন করে রবিবার বলেন, ‘এটিই প্রকৃত রেশন ব্যবস্থা। এছাড়া জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গ্রাহককে চাল-গম দেওয়ার কথাই বলা আছে। ডিবিটি নয়। ওই টাকায় গ্রাহক রেশনই নেবেন, গ্যারান্টি কোথায়? ঠিক যা হয়েছে পুদুচেরিতে। সেখানে ডিবিটি চালু হওয়ায় ধীরে ধীরে রেশন দোকান বন্ধ হচ্ছে। তাই কোনোভাবেই বাংলায় এটি চালু হতে দেব না।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ