Bartaman Logo
৩১ জুলাই, ২০২৬

‘গরহাজির কেন, জবাব দিতেই হবে’, নিশানায় শাহ, উত্তাল সংসদ

অমিত শাহ সংসদে আসছেন না, বিরোধীরা চাপ বাড়াচ্ছে। ছাত্রদের উপর পুলিশি অত্যাচারের জবাব দিতে হবে। বিস্তারিত পড়ুন।

‘গরহাজির কেন, জবাব দিতেই হবে’, নিশানায় শাহ, উত্তাল সংসদ
  • ৩১ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: সংসদ থেকে সোশ্যাল মিডিয়া। সাংবাদিক সম্মেলন হোক, বা বিল নিয়ে আলোচনা। ছাত্র-যুবদের উপর পুলিশি অত্যাচারের প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে কোণঠাসা করতে প্রবলভাবে চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে বিরোধীরা। দিনভর মহাজোট ‘ইন্ডিয়া’র সম্মিলিত নিশানায় এক এবং একমাত্র স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৃহস্পতিবার সাতসকালে রাহুল গান্ধী সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন ছুঁড়লেন, ‘অমিত শাহ কেন সভায় আসছেন না? ব্যাখ্যা দিচ্ছেন না ছাত্র-যুবর উপর বর্বর হামলার? তাঁর আচরণে অপরাধবোধেরই গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।’ আবার রাজ্যসভায় ‘পরীক্ষায় অনিয়ম’ সংক্রান্ত বিল নিয়ে আলোচনায় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে, তৃণমূল এমপি সাগরিকা ঘোষ, সিপিএমের জন ব্রিটাস অথবা শিবসেনার (উদ্ধব থ্যাকারে গোষ্ঠী) সঞ্জয় রাউতের মতো তাবৎ বিজেপি বিরোধী নেতা এক সুরে বৃহস্পতিবার বলেছেন, ‘অমিত শাহ কোথায়? সংসদ ভবনে আসছেন। অথচ সভায় হাজির থাকছেন না কেন? তাঁকে জবাব দিতেই হবে। সংসদ থেকে এভাবে দূরে থাকার কারণ কী?’ 

Advertisement

দিল্লিসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আন্দোলনরত ছাত্র-যুবর উপর পুলিশি দমনপীড়ন, একে-৪৭ থেকে গুলি চালানো, পেলেট গান ছোড়া ইত্যাদি ইস্যুতে অমিত শাহকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো চলছে। আর এই পর্বেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লোকসভা ও রাজ্যসভায় আসছেন না। তাই বিরোধীরাও তাঁর বিরুদ্ধে আক্রমণের তীব্রতা বড়িয়ে চলেছে। রাষ্ট্রগীত ‘বন্দেমাতরম’কে অসম্মানের সাজা সংক্রান্ত ‘দ্য প্রিভেনশন অব ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার (সংশোধনী) বিল ২০২৬’ বৃহস্পতিবার পেশ এবং পাশ করালেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই। অথচ শাহের দেখা নেই। ফলে সংসদের অন্দরে এবং বাইরে সুর চড়ল প্রতিবাদের। সংসদ চত্বরে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর নেতৃত্বে প্রতিবাদের পাশাপাশি লোকসভার অন্দরে কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে সহ বিরোধী বেঞ্চ প্ল্যাকার্ড হাতে নেমে এল ওয়েলে। বিক্ষোভে উত্তাল হল সভা। দফায় দফায় হল মুলতুবি। 
রাজ্যসভায় আবার সুর চড়া ছিল প্রথম থেকেই। প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রতিরোধী বিল নিয়ে আলোচনায় বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গে বললেন, ‘কে ব্যাটন চার্জ, লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস, পেলেট গান চালানোর নির্দেশ দিয়েছে? সাদা পোশাকে কারা ছাত্রদের নির্মমভাবে মারধর করছিল? দিল্লি পুলিশ কার নিয়ন্ত্রণে? সিআরপিএফের র‌্যাফবাহিনী কার নির্দেশ পালন করে? সোজা কথায় ছাত্রদের উপর নির্মম অত্যাচারের মাস্টারমাইন্ড কে? জবাব দিতে না পারলে অবিলম্বে ইস্তফা দিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ছোটো ছোটো বিষয়ে তিনি সংসদে এসে বিবৃতি দেন। অথচ এত বড়ো ঘটনার পরেও গরহাজির! বন্ধ ঘরে বসে আমাদের কথা শুনছেন। কতদিন তিনি এভাবে বসে থাকবেন?’ খাড়্গের তোপ, ‘আদতে কুর্সি বাঁচানোর জন্য সরকার এই বিল এনেছে। সমস্যা সমাধানের কোনো সদিচ্ছাই সরকারের নেই।’ খাড়্গে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কিংবা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কেউই মুখ খুলছেন না। তাঁদের মুখ কেউ সেলাই করে দিয়েছে কি?’ বৃহস্পতিবার খাড়্গের সঙ্গে দফায় দফায় কথা কাটাকাটি হয়েছে রাজ্যসভার নেতা জে পি নাড্ডা সহ অন্য গেরুয়া সাংসদদের। সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন খাড়্গে। অমিত শাহের ইস্তফার দাবিতে সরব হয়েছে তৃণমূলও। রাজ্যসভায় তৃণমূল সাংসদ সাগরিকা ঘোষ বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সংসদে এসে ক্ষমা চাইতে হবে। যাবতীয় প্রশ্নের জবাব দেওয়া উচিত। না পারলে তিনি পদত্যাগ করুন।’ 
রাজ্যসভায় এদিন প্রশ্নফাঁস বিল পাশ হয়েছে। তারপরও জেন জি আন্দোলন যে রাজনৈতিক সমীকরণ অনেক বদলে দিচ্ছে, সেই আভাস পেয়ে সরকারপক্ষ যথেষ্ট শঙ্কিত। কী আভাস? ডিএমকে মোটেই বন্ধুর মতো আচরণ করছে না। উলটে বন্দেমাতরম বিলে তুমুল আক্রমণ করেছে সরকারকে! ইন্ডিয়া জোট কি তাহলে আবার সংঘবদ্ধ? এই মুহূর্তে বিজেপি ঘনিষ্ঠ হয়ে জেন জি’র বিরাগভাজন হতে চাইছে না কোনো অবিজেপি দল! অপারেশন লোটাস ব্যাকসিটে? 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ