Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

টানা সাতবার জয়ের রেকর্ড স্পর্শ করবেন অশোক দেব? ভোট ময়দানে ‘বজবজ’ ঘিরে রাজনৈতিক চর্চা তুঙ্গে

বিভিন্ন খেলায় যেমন খেলোয়াড়রা রেকর্ড করেন, রাজনীতির ময়দানেও তেমন হয়। একটানা জয়ের রেকর্ড। যেমন বামফ্রন্ট আমলে বাসন্তী বিধানসভা কেন্দ্র থেকে টানা সাতবার আরএসপির প্রার্থী হিসাবে দাঁড়িয়ে জয়ের রেকর্ড করেছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী সুভাষ নস্কর।

টানা সাতবার জয়ের রেকর্ড  স্পর্শ করবেন অশোক দেব? ভোট ময়দানে ‘বজবজ’ ঘিরে রাজনৈতিক চর্চা তুঙ্গে
  • ১১ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বজবজ: বিভিন্ন খেলায় যেমন খেলোয়াড়রা রেকর্ড করেন, রাজনীতির ময়দানেও তেমন হয়। একটানা জয়ের রেকর্ড। যেমন বামফ্রন্ট আমলে বাসন্তী বিধানসভা কেন্দ্র থেকে টানা সাতবার আরএসপির প্রার্থী হিসাবে দাঁড়িয়ে জয়ের রেকর্ড করেছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী সুভাষ নস্কর। তিনি ’৮২ থেকে শুরু করে ’৯১, ’৯৬, ২০০১, ২০০৬, ২০১১– সব মিলিয়ে সাতবার জয়ের রেকর্ড করেন। বর্ষীয়ান এই নেতা এখনও রাজনীতির ময়দানে সক্রিয়। 

Advertisement

এবার সুভাষবাবুর সেই রেকর্ড ছোঁয়ার কাছাকাছি জায়গাতেই রয়েছেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান বিধায়ক অশোক দেব। তিনি বজবজ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ৯৬ সাল থেকে ২০২১ পর্যন্ত টানা ছ’বার জয়ের রেকর্ড করে ফেলেছেন। এখনও পর্যন্ত তাঁর দলে এমন রেকর্ড অন্য কোনো বিধায়কের নেই। এবার ২০২৬ সালেও তাঁকে প্রার্থী করা হয়েছে বজবজ বিধানসভা কেন্দ্র থেকেই। এই হিসাবে এক কেন্দ্র থেকে টানা সাতবার দাঁড়ানোর এই কৃতিত্ব তাঁর দলে কারও নেই। দলের ভিতর এবং সাংগঠনিক স্তরে সকলে আশাবাদী এবারও এই কেন্দ্রে রাজনৈতিক পরিস্হিতি যা, তাতে সুভাষবাবুর সাতবারের রেকর্ড ছোঁয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা।
সেই ’৯৬ সাল থেকে বজবজ কেন্দ্র থেকে দাঁড়াচ্ছেন অশোকবাবু। প্রথমে তিনি কংগ্রেসের হয়ে নেমেছিলেন। তখন সিপিএমের দাপট। তা সত্ত্বেও তাঁকে আটকানো যায়নি। তারপর সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু পাল্টে গিয়েছে। কিন্তু অশোক দেব তারপরও ভোটারদের হৃদয় থেকে সরে যাননি। কিন্তু কেন?
 তাঁর এই টানা সাফল্যের পিছনে গোপন রসায়ন কী? অশোক দেবের হয়ে এর জবাব দিয়েছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বজবজ পুরসভার চেয়ারম্যান গৌতম দাশগুপ্ত। তাঁর দাবি, দলমত ও জাতপাত নির্বিশেষে অশোক দেব প্রতিটি মানুষের কাজ করে দেন। হাসপাতাল থেকে স্কুল ও কলেজে ভর্তি–এমন কাজে তিনি সব সময়েই সক্রিয়। তিনি কখনও জানতে চান না ওই ব্যক্তি কোন দল করেন। কখনও কাউকে বলেননি যে দলের অমুক নেতা কিংবা কাউন্সিলারের সুপারিশ নিয়ে এলে কাজ করবেন। কখনও কারও কাছ থেকে এক পয়সাও চাইতে দেখা যায়নি। ’৯৬ সালে ৯ নম্বর ওয়ার্ডে একটি ভাড়া ঘরে ওঁর দলীয় কার্যালয় করা হয়েছিল। তা এখনও ওই অবস্থাতেই আছে। কোনো পরিবর্তন করেননি। গরমের সময় ফ্যান চালিয়ে বসেন। শিয়ালদহতে একটি মেস বাড়িতে কয়েকজন কর্মী নিয়ে থাকেন। একটি তক্তপোষে ঘুমান। এমন নির্লোভ, নিস্বার্থ ও পরোপোকারী মানুষকে এক কথায় রাজনৈতিক সন্ন্যাসী বলা যেতে পারে। গরিব থেকে মধ্যবিত্ত, অর্থবান এমনকী রিকশচালক– যখন যে ডাকেন, তাঁর বাড়িতেই তিনি যান। বজবজে ২৫০-এর বেশি পুজো হয়। প্রতিটি পুজোয় যোগ দেন। এজন্য তিনি ভোটারদের হৃদয়ে বসে গিয়েছেন। এটাই অশোক দেবের সাফল্যের রসায়ন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ