Bartaman Logo
৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

যৌবন ফিরে পাবে অঞ্জনা? সমীক্ষা শুরু হতেই আশাবাদী মৎস্যজীবীরা

কৃষ্ণনগর শহরের বুক চিরে বয়ে চলা নদীয়ার অন্যতম পরিচিতি অঞ্জনা নদী। নদীর জলকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল মানুষের জীবন-জীবিকা

যৌবন ফিরে পাবে অঞ্জনা? সমীক্ষা শুরু হতেই আশাবাদী মৎস্যজীবীরা
  • ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: কৃষ্ণনগর শহরের বুক চিরে বয়ে চলা নদীয়ার অন্যতম পরিচিতি অঞ্জনা নদী। নদীর জলকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল মানুষের জীবন-জীবিকা। বিশেষ করে মৎস্যজীবীদের কাছে অঞ্জনা ছিল আয়ের অন্যতম ভরসা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দখল, জলপ্রবাহে বাধা ও অন্যান্য কারণে সেই অঞ্জনা আজ তার স্বাভাবিক গতিপথ অনেকটাই হারিয়েছে। কোথাও নদীর অস্তিত্ব বোঝাই কঠিন, কোথাও আবার জলধারা কার্যত নালায় পরিণত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অঞ্জনা নদীকে পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ শুরু হওয়ায় নতুন করে আশার আলো দেখছেন মৎস্যজীবীরা।

Advertisement

অঞ্জনা নদীর সংস্কার ও পুরনো অবস্থায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কিছুদিন আগেই মহকুমা শাসক, কৃষ্ণনগর উত্তরের বিধায়ক তারকনাথ চট্টোপাধ্যায় সহ জয়েন্ট সার্ভে টিম অঞ্জনা নদীর উৎসস্থলে পৌঁছে বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। নদীর গতিপথ কোথায় কোথায় বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে, কোথায় দখল রয়েছে, কোন কোন অংশে জলপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং কোথায় সংস্কারের প্রয়োজন—সেই বিষয়গুলি চিহ্নিত করতেই এই প্রাথমিক সমীক্ষা। প্রশাসনের এই উদ্যোগের খবরে খুশি নদীনির্ভর মানুষজন। বিশেষ করে মৎস্যজীবীরা। তাঁদের প্রত্যাশা, শুধু সমীক্ষাতেই উদ্যোগ সীমাবদ্ধ না থেকে দ্রুত  সংস্কারের কাজ শুরু হবে। 
মৎস্যজীবীদের কথায়, একসময় অঞ্জনা নদীতে বিভিন্ন ধরনের মাছ ও জলজ প্রাণীর দেখা মিলত। নদী ছিল তাঁদের জীবিকার অন্যতম অবলম্বন। কিন্তু বছরের পর বছর নদীর অবস্থা খারাপ হতে থাকায় কমেছে মাছের পরিমাণও। এমনকী বর্ষার সময়েও আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না। অনেক অংশে এখন আর নদীর প্রবাহ দেখা যায় না। নদীর সংস্কার হলে, মাছের পরিমাণ অনেক বেড়ে যাবে। প্রশাসন ও বিধায়ককে অনেক ধন্যবাদ এই উদ্যোগ নেওয়ার জন্য।
কৃষ্ণনগর সদর মহকুমা শাসক মৌলি সান্যাল বলেন, প্রথমে সমীক্ষার কাজ হবে, এরপর জমি চিহ্নিত করার বিষয় থাকবে। সমীক্ষার সঙ্গে সঙ্গে ডিপিআর তৈরি করতে হবে। বিভিন্ন এলাকার বিএলআরও যারা থাকবেন তাঁরা তুলে ধরবেন কোন কোন মৌজা ধরে নদীটি গিয়েছিল। সমীক্ষা করে কোথায় ড্রেজিং দরকার, এছাড়াও আর কি প্রয়োজন সেটা দেখে তারপর সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অঞ্জনা নদী সংস্কার হলে কৃষ্ণনগরের দীর্ঘদিনের জল সমস্যা মিটবে, বৃষ্টি হলেও জল জমবে না।
নদী বিশেষজ্ঞ সুপ্রতিম কর্মকার বলেন, অঞ্জনা নদীর আগের নাম ছিল ক্ষীর নদী। নদীয়ায় অঞ্জনার মতো আরও ৩০টি নদী ছিল। সেগুলি সবই মরে গিয়েছে। অঞ্জনার মতো মৃত নদীগুলি সংস্কার করলে ক্ষুদ্র মৎস্যজীবীদের দিনমজুর হওয়া থেকে বাঁচানো যাবে। 
কৃষ্ণনগরকে বাঁচাতেই অঞ্জনা নদীকে আবার বাঁচিয়ে তোলা প্রয়োজন। এক প্রবীণ মৎস্যজীবী অলোকেশ হালদারের কথায়, অঞ্জনা নদী রক্ষা করা শুধু আমাদের জীবিকার জন্য নয়, সমগ্র কৃষ্ণনগরবাসীর জন্যই অত্যন্ত জরুরি। ছোটবেলায় দেখেছি অঞ্জনা নদীতে সারা বছর জল থাকত, নৌকা চলত, প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। এখন তো নদীর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়াই কঠিন।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ