


নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামবাসীর প্রিয় হাতি রামলাল। সেলিব্রিটিও। জঙ্গলের হাতিদের কাছ থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করে। লোকালয়েই তাঁর ঘোরাফেরা বেশি। নির্বাচনের দিন রামলালের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে ঐরাবত গাড়ি ও ১৫ জনের টিম তৈরি করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সাত সকালে শালবনী এলাকার জিতুশোল প্রাথমিক বিদ্যালয় বুথ কেন্দ্রে ভোটারদের পিছুপিছু রামলাল আসতে দেখে এলাকায় হইচই পড়ে যায়। বুথ কেন্দ্রের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
ঝাড়গ্রামের ডিএফও উমর ইমাম বলেন, রামলাল শান্ত হাতি। জিতুশোল বুথের কাছে রামলালের যাওয়ার সময় এলিফ্যান্ট ট্র্যাকার্স টিম ঘটনাস্থলে ছিল। রামলালের ওপর চব্বিশ ঘণ্টা নজরদারি রয়েছে।
নির্বাচনের আগে থেকে রামলালকে নিয়ে বনদপ্তরের চিন্তার অন্ত ছিলনা। রামলাল জঙ্গলের হাতিদের মতো নয়। জঙ্গলের হাতির পাল থেকে দূরে থাকাই পছন্দ করে। মর্জিমাফিক জঙ্গল ও লোকালয়ে সে একা একা ঘুরে বেড়ায়। জনবসতি এলাকায় মাঝে মধ্যে খাবারের সন্ধানে আসে। খাবার পেলেই ফিরে যায়। জেলাবাসীর মানুষ রামলালের স্বভাব চরিত্র সম্বন্ধে জানেন। নির্বাচনের সময় ভিন জেলার ভোট কর্মী থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা ঝাড়গ্রামের বিভিন্ন বুথ কেন্দ্রে থাকবেন। রামলাল তাদের কাছে অপরিচিত। বুথের কাছাকাছি হাতির পালের আসার আশঙ্কাও রয়েছে। হাতির পালের নিয়ন্ত্রণে ত্রিস্তর বলয়ের পাশাপাশি রামলালের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণেও ঐরাবত গাড়ি ও ১৫ জনের একটি দক্ষ টিম গড়া হয়েছিল। লোধাশুলি থেকে ৫ নম্বর রাজ্য সড়ক দিয়ে রামলাল শালবনী এলাকায় আসে। যারজেরে রাজ্য সড়কে মাঝেমধ্যে যানজট তৈরি হয়। ভোটের দিন রাজ্যসড়কে ওঠা ঠেকাতে শালবনী এলাকায় একটি টিম মোতায়েন করার কথা জানানো হয়েছিল। জেলাজুড়ে এলিফ্যান্ট ট্র্যাকার্স টিম, এছাড়াও হুলা পার্টির সদস্যদের নিয়ে কুইক রেসপন্স টিমও গঠন করা হয়েছে। রামলাল আচমকাই এদিন বুথ কেন্দ্রের কাছে চলে আসায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। সপ্তাহ খানেক আগেই ঝাড়গ্রামের জঙ্গলের এক হাতির সঙ্গে রামলালের এলাকা দখল নিয়ে লড়াইয়ে ডান পায়ে চোট পায়। জঙ্গল লাগোয়ো গ্ৰামের বাসিন্দারা চাঁদা সংগ্রহ করে রামলালের জন্যে আলু, সবজির ব্যবস্থাও করে। বনবিভাগের তরফে দ্রুত চিকিৎসার ব্যাবস্থাও করা হয়। লোধাশুলি রেঞ্জের শালবনী ও গড় শালবনীর জঙ্গলে খুঁড়িয়ে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যাচ্ছিল। জিতুশোল গ্ৰামের বাসিন্দারা এদিন সাত সকালে হনহনিয়ে বুথ কেন্দ্রের দিকে আসতে দেখে হতবাক হয়ে যান। শালবনীর বাসিন্দা শ্যাম সুন্দর মাহাত বলেন, শালবনী ,গাড়রো, জিতুশোল এলাকায় তিনটি বুথ রয়েছে। সকাল সকাল সবাই ভোট দিতে যাচ্ছিলেন। জিতুশোল বুথ কেন্দ্রের খুব কাছে রামলাল এদিন চলে আসে। জঙ্গলের বন্য একটি হাতির সঙ্গে লড়াইয়ে পায়ে চোট পেয়েছিল। গোবিন্দপুরের ক্যানালের কাদাজলে দু 'দিন পড়েও ছিল। ভোটের দিনে সেই রামলাল হনহনিয়ে বুথের কাছাকাছি চলে আসায় আমরা হতবাক। গাড়রো এলাকার বাসিন্দা বীরেন দলাই বলেন, রামলালের সঙ্গে জঙ্গলের হাতিদের সদ্ভাব নেই। লোকালয়েই বেশি থাকে। রামলাল আমাদেরই একজন হয়ে উঠেছে।