Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

খাবারের খোঁজে লোকালয়ে হানা বুনো শুয়োরের, নির্মল চরের বাসিন্দারা অতিষ্ঠ

বুনো শুয়োরের উপদ্রবে অতিষ্ঠ রানিতলার আখেরিগঞ্জ পঞ্চায়েতের নির্মল চর এলাকার বাসিন্দারা। পদ্মার জলে রানিতলা থানার আখেরিগঞ্জ পঞ্চায়েতের নির্মল চর এলাকার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি প্লাবিত হয়েছে।

খাবারের খোঁজে লোকালয়ে  হানা বুনো শুয়োরের, নির্মল চরের বাসিন্দারা অতিষ্ঠ
  • ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, লালবাগ: বুনো শুয়োরের উপদ্রবে অতিষ্ঠ রানিতলার আখেরিগঞ্জ পঞ্চায়েতের নির্মল চর এলাকার বাসিন্দারা। পদ্মার জলে রানিতলা থানার আখেরিগঞ্জ পঞ্চায়েতের নির্মল চর এলাকার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি প্লাবিত হয়েছে। সেই কৃষিজমির ঝোপঝাড়ে আশ্রয় নেওয়া বুনো শুয়োর খাবারের খোঁজে লোকালয়ে চলে আসছে। ফলে পদ্মাপাড়ের বাসিন্দারা বানভাসি হওয়ার পাশাপাশি বুনো শুয়োরের আতঙ্কে ভুগছেন। ভগবানগোলা-২ বিডিও অনির্বাণ সাহু বলেন, বুনো শুয়োরের হামলার বিষয়ে পূর্বে ব্লক ও মহকুমা থেকে বনদপ্তরকে জানানো হয়েছিল। তবে বনদপ্তর কী পদক্ষেপ নিয়েছে, সেই বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শনিবার বিকেলে রানিতলা থানার পশ্চিম নাজিরের চকে বুনো শুয়োরের হামলায় এক মহিলা সহ তিনজন জখম হন। স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে নশিপুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তিনজনকেই ছেড়ে দেওয়া হয়। দিনের আলোয় লোকালয়ে বুনো শুয়োরের হামলার ঘটনায় পশ্চিম নাজিরের চকের বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তাঁদের দাবি, পূর্বে কখনও এরকম ঘটনা হয়নি। ওইদিনের হামলার পর থেকে কেউ একা বাড়ি থেকে বেরতে সাহস করছেন না। প্রয়োজনে একজোট হয়ে পথে নামছেন। এই পরিস্থিতিতে বুনো শুয়োরের হাত থেকে রেহাই পেতে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি করছেন গ্রামবাসীরা। 
বুনো শুয়োরের হামলায় জখম হয়েছেন বানেরা বিবি। তিনি বলেন, রাস্তা দিয়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলাম। আচমকাই দেখি বিশাল আকারের একটি দাঁতাল বুনো শুয়োর আমার দিকে ছুটে আসছে। পালাতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে পড়ে যেতেই আমার উপর হামলা করে। শরীরের একাধিক জায়গায় কামড়েছে। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এসে বাঁচায়।
অপর আক্রান্ত শের আলি বলেন, বাড়ির সামনে দাঁড়িয়েছিলাম। তখন এসে হামলা চালায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বনদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, পদ্মার জল বেড়ে যাওয়ায় ওদের স্বাভাবিক বাসস্থান ঝোপঝাড় ডুবে গিয়েছে। সেই কারণে পশুগুলি লোকালয়ে চলে আসছে। বনদপ্তরের পক্ষ থেকে চর এলাকাগুলিতে সচেতনতা প্রচার চালানো হচ্ছে। 
প্রসঙ্গত, গত বছর পাট কাটার মরশুমে নির্মলচরের পাতিবোনায় বুনো শুয়োরের দলের হামলার মুখে পড়ে পাঁচজন জখম হন। বুনো শুয়োরের হামলায় জখম ওই পাঁচজন মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বেশ কয়েকদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। মাস খানেক আগে চর কৃষ্ণপুরে বাড়ির সামনে হাঁটছিলেন রাকিবুল ইসলাম। তখন একটি বিরাট আকারের বুনো শুয়োর তেড়ে এসে পায়ে কামড়ে ধরে। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে শুয়োরটি পালিয়ে যায়। বাসিন্দারা চাইছেন অবিলম্বে বনশুয়োর নিয়ে পদক্ষেপ করুক বনদপ্তর।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ