


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মধ্যরাতে ফ্ল্যাটের ছাদে পরপর গুলির শব্দ। বাসিন্দারা গিয়ে দেখেন, পড়ে রয়েছে চাপ চাপ রক্ত। মাথায় গুলি বিদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছেন নিথর যুবক। আর এক যুবক কাতরাচ্ছেন যন্ত্রণায়। তাঁর হাত পা ভাঙা। বুধবার গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটেছে বাঘাযতীনের পূর্ব ফুলবাগানে। পাটুলি থানার অফিসাররা এসে দুজনকে চিনতে পারেন।
মৃত যুবকের নাম রাহুল দে। জখমের নাম জিৎ মুখোপাধ্যায়। গ্রেপ্তার করা হয়েছে চারজনকে। মূল অভিযুক্ত সহ কয়েকজন পলাতক। পুলিশ জানিয়েছে, পাটুলি থানায় একাধিক অভিযোগ রয়েছে জিতের বিরুদ্ধে। সাট্টা ও জমির দালালির নিয়ন্ত্রণ হাতে রাখা এবং তোলার টাকার ভাগ নিয়ে গোলমালের জেরে খুন বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে জেনেছে।
তদন্তে জানা গিয়েছে, রাহুল জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাটের দালালি ও ইট-বালির ব্যবসা করেন। দলে রয়েছে তাঁর বন্ধু জয়ন্ত ঘোষ। জয়ন্ত নরেন্দ্রপুর ও সোনারপুর এলাকায় সাট্টা ও জুয়ার কারবার চালায়। জিৎও একই কারবারের পাশাপাশি সাট্টার ব্যবসা চালান নরেন্দ্রপুরে। দুপক্ষই মরিয়া এলাকায় নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে। দুদিন আগে জয়ন্তর সহযোগী রাজা বণিককে মারধরের অভিযোগ ওঠে জিতের বিরুদ্ধে। এই নিয়ে জয়ন্তের সঙ্গে ঝামেলা হয় জিতের। বুধবার সন্ধ্যায় জিৎ ফোন করে জয়ন্তকে জানান, দুজনের মধ্যে শত্রুতা রেখে লাভ নেই। বিরোধ মেটাতে জয়ন্তকে নিজের ফুলবাগানের ফ্ল্যাটে ডেকে পাঠায়। সেইমতো রাত বারোটা নাগাদ জয়ন্ত তাঁর সঙ্গী রাহুলকে নিয়ে ফ্ল্যাটে হাজির হন। তিনজন ছাদে বসে মদ্যপান শুরু করেন। রাত একটা নাগাদ জনা দশেক যুবক অস্ত্র, লাঠি ও লোহার রড নিয়ে হাজির হয়। জিৎকে মারতে শুরু করে। তাঁর দুই পা, হাত সহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হয়। জয়ন্ত সিঁড়ি দিয়ে ও আরও একজন কার্নিশ দিয়ে নীচে নামে। সুকুমার দাস নামে এক যুবক রাহুলকে গুলি করেন। খবর পেয়ে পুলিশ জিৎকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। জেরায় তিনি রাজার নাম জানান। রিজেন্ট পার্ক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তারের পর জানা যায় সেখানে জয়ন্ত ঘোষ, দীপ রায় ও বিধান বন্দ্যোপাধ্যায় ছিল। তাদের রাতেই গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ধৃতরা পুলিশকে জানিয়েছে, জয়ন্ত পরিকল্পনা করেছিল জিৎকে মিমাংসার সময় ঝামেলা করে ‘উড়িয়ে’ দেওয়া হবে। সেইমতো তারা এসে জিতকে আঘাত করে। রাহুলকে খুনের কারণ নিয়ে পুলিশের অনুমান, সঙ্গীকে সরিয়ে দিলে একা সব টাকা থাকবে জয়ন্তর কাছে। সেই কারণে শাগরেদদের দিয়ে খুন করিয়েছে বন্ধুকে। অথবা জিতের সঙ্গী ভেবে রাহুলকে খুন করা হয়ে থাকতে পারে। বৃহস্পতিবার ধৃতদের আলিপুর আদালতে তোলা হয়। সরকারি আইনজীবী শুভাশিস ভট্টাচার্য জানান, ধৃতদের ৬ এপ্রিল পর্যন্ত পুলিশি হেপাজত হয়েছে।