স্বার্ণিক দাস, কলকাতা: দুই পরিবারেরই উদ্যোগ। কার্যত পরিবারের চাপেই একে অপরের সঙ্গে দেখা করতে যান তরুণ-তরুণী। তারপর শুরু হয় নিয়মিত দেখা সাক্ষাৎ। ১১ মাসের পরিচয়। এর মধ্যেই বন্ধুত্ব থেকে প্রেম। সেই প্রেমের সম্পর্ক বছরখানেক আগে পরিণত হয় বিয়েতে। ৭৪ লক্ষ টাকা খরচ করে এলাহি আয়োজনে হয় শুভ পরিণয়। অভিজাত পরিবারে বিয়ে হওয়ার পর থেকেই নানা অজুহাতে স্বামীর থেকে উপহার স্বরূপ টাকা দাবি করতে থাকে নববধূ। এক বছরে ধাপে ধাপে ২২ লক্ষ ৭২ হাজার টাকা নেয় স্ত্রী। এখানেই শেষ নয়। বোনের বিয়েতে শ্বশুরবাড়ির গয়না পরে যাওয়ার বায়না জুড়ে দেয় সে। শেষমেশ শাশুড়ি ও দিদি শাশুড়ির প্রায় ২ কোটি টাকার হীরে ও সোনার গয়না আত্মসাৎ করে বেপাত্তা আনন্দপুরের অভিজাত আবাসনের বাসিন্দা ওই নববধূ। অভিযোগ, একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা হলেও স্বামীর ফোন ধরেনি স্ত্রী। বিয়ের এক বছরের মাথাতেই স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিপুল টাকা ও দামি অলংকার আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে আনন্দপুর থানার দ্বারস্থ হয়েছেন অভিজাত ব্যবসায়ী।
অভিযোগকারীর নাম আর্যমান অরোরা। গত বছর ১০ মে তাঁর বিয়ে হয় সঞ্জনার সঙ্গে। বিপুল খরচ করে আলিপুরের একটি পাঁচতারা হোটেলে বিয়ের অনুষ্ঠান হয়। আর্যমানের পরিবার অত্যন্ত স্বচ্ছল। বিয়ের পর প্রথম দু’-তিনমাস শ্বশুরবাড়ির প্রতি ভাব-ভালোবাসা দেখায় সঞ্জনা। অভিযোগ, তারপর থেকেই শুরু হয় টাকা চাওয়া। জানা গিয়েছে, একটি বেসরকারি ব্যাংকের বউবাজার শাখায় ১৪ দফায় মোট ১৩ লক্ষ টাকা ট্রান্সফার করেছে সঞ্জনা। টাকা চাওয়ার নেপথ্যে সঞ্জনার বাবা, মা সহ বাপের বাড়ির একাধিক সদস্যের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ আর্যমানের। অভিযোগকারীর দাবি, টাকা দেওয়া বন্ধ করলেই স্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা তাঁকে নানাভাবে হেনস্তা করতে শুরু করে। তাঁকে মারধর করে ও ভয় দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করেছে স্ত্রী। স্বামীর অভিযোগ, সেই টাকা দিয়ে একাধিক বন্ধুর সঙ্গে রাতভর পার্টি করত সঞ্জনা। তাঁর দাবি, নববধূর কীর্তি নিয়ে প্রশ্ন তুললেই জুটত হুমকি। এরপরও একাধিক নাইট পার্টির জন্য স্বামীর থেকে টাকা নিত সঞ্জনা। সব মিলিয়ে এই পরিমাণ ২২ লক্ষ ৭২ হাজার টাকা।
আর্যমানের অভিযোগ, গত জানুয়ারি মাসে বোনের বিয়ের নাম করে শ্বশুরবাড়ি থেকে পাঁচটি ব্যাগ নিয়ে বাপের বাড়ি যায় সঞ্জনা। পরে তিনি জানতে পারেন, পাঁচটির মধ্যে দু’টি ব্যাগই ভরতি ছিল তাঁর মা ও ঠাকুমার গয়নায়। যার বর্তমান বাজার দর প্রায় ২ কোটি টাকা। সেই গয়না কেন তাঁর স্ত্রী নিয়ে গিয়েছে? এনিয়ে ফোনে জানতে চান আর্যমান। স্ত্রী জানায়, বোনের বিয়ে মিটে গেলে সেই গয়না শ্বশুরবাড়িতে ফেরত নিয়ে আসবে।
অভিযোগকারীর দাবি, তারপর থেকে গত ৬ মাসে প্রায় ৫০০-র বেশিবার ফোন করলেও সঞ্জনা বা তার বাপের বাড়ির কেউ তা ধরেনি। মেসেজেরও উত্তর দেয়নি কেউ। আর তাই বিপুল টাকা ও গয়না আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে থানার দ্বারস্থ হয়েছেন আর্যমান। পুলিশ জানিয়েছে, গোটা ঘটনাটির তদন্ত চলছে।