নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: ২০২৩ সালের ৬ জুন মণিপুরে জঙ্গিদের গুলিতে শহিদ হয়েছিলেন বিএসএফের জওয়ান রঞ্জিত যাদব। তাঁর পরিবার থাকে ভাটপাড়া পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের শুগিয়াপাড়ায়। এখন চরম আর্থিক সঙ্কটে দিন কাটছে পরিবারের। সাতজনের সংসারে এক বোন প্রতিবন্ধী। রঞ্জিত শহিদ হওয়ার পর পরিবার যে পেনশন পায়, তা দিয়েই তাঁদের কোনওমতে দিন চলে যায়। শহিদ রঞ্জিতের স্ত্রী কৌশল্যা এবং মা ভারতীদেবীর একটাই দাবি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেমন ঝন্টু আলি শেখের স্ত্রীকে চাকরি দিয়েছেন, সেভাবে যদি তাঁদেরও একজনকে চাকরি দেন, তাহলে গোটা পরিবার বেঁচে যাবে।
বুধবার উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক শরৎ দ্বিবেদির কাছে গিয়েছিলেন কৌশল্যা যাদব। কিন্তু তিনি মিটিংয়ে ব্যস্ত থাকায় দেখা হয়নি। শহিদের স্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালে রঞ্জিত বিএসএফে চাকরি পান। তিনি মিজোরামে পোস্টিং ছিলেন। মণিপুরে গোলমাল শুরু হলে তাঁকে সেখানে পাঠানো হয়। ২০২৩ সালের ৫ জুন তাঁর সঙ্গে শেষ কথা হয়। পরের দিন সকালে খবর পাই, ওর বুকে জঙ্গিদের গুলি লেগেছে। এখন রঞ্জিতের পেনশনের টাকাতেই কোনওমতে আমাদের সংসার চলছে। মুখ্যমন্ত্রী শহিদ ঝন্টু আলি শেখের স্ত্রীকে চাকরির ব্যবস্থা করায় ওই পরিবারটি বেঁচে যাবে, কিন্তু আমাদের কী হবে? রঞ্জিত যাদবের মা ভারতী যাদব মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পুত্রবধূর জন্য চাকরির আর্জি জানিয়েছেন।
হিন্দু জাগরণ মঞ্চের পক্ষ থেকেও চিঠি দিয়ে শহিদ রঞ্জিত যাদবের পরিবার এবং কাঁচরাপাড়ার প্রেমকুমার চৌধুরীর পরিবারকে আর্থিক সাহায্য এবং পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। তারা ইতিমধ্যেই জেলাশাসককে এ নিয়ে চিঠি দিয়েছে। উল্লেখ্য, প্রেমকুমার চৌধুরী ২০২৪ সালের ১৯ মার্চ শহিদ হয়েছিলেন।