অভিষেক পাল, বহরমপুর: ‘একজনের এনকাউন্টার হয়েছে। কিছুটা হলেও স্বস্তি পেলাম।’ মঙ্গলবার সামশেরগঞ্জে সামাউন শেখের এনকাউন্টারের পর একথা বলেন ধুলিয়ানের নিহত বিজেপি কর্মী সুজিত মণ্ডলের স্ত্রী সুমনাদেবী। তবে তাঁর দাবি, ‘যারা তাঁর স্বামীকে নৃশংসভাবে খুন করেছে, তাদের প্রত্যেককে ফাঁসি দিতে হবে।’
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সুজিতের কাছে ১৩ হাজার টাকা পেত সামাউন। দীর্ঘদিন ধরে সেই টাকা ফেরত চাইলেও সুজিত তা দিতে টালবাহানা করছিলেন। সেই আক্রোশে সুজিতকে পাকাপাকিভাবে সরিয়ে দেওয়ার ছক কষে সামাউন। সুজিতকে রাখি উৎসবের বাহানায় ডেকে পাঠানো হয় ফরাক্কার একটি ভাড়া বাড়িতে। বাইকে চাপিয়ে সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর বচসা চরম আকার নেয়। মুহূর্তের মধ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে সুজিতের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে সামাউন ও তার সঙ্গীরা। এলোপাথাড়ি কোপ মেরে তাঁকে খুন করে। তারপর ঠান্ডা মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীর চার টুকরো করা হয়। সুজিতের মোবাইল থেকে সিম কার্ড খুলে নিয়ে সামাউন নিজের বান্ধবী তাজকেরা বিবির মোবাইলে ভরে। এরপর সুজিতের পরিবারের কাছে ফোন করে পাঁচ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরিবারের তরফে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রাখি পূর্ণিমার দিন সুজিত নতুন জামা পরে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু, তার জন্য যে এমন চরম পরিণতি অপেক্ষা করছে, তা তিনি জানতেন না। ১৩ হাজার টাকার জন্য তাঁকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করা হয়। তারপর দেহ টুকরো টুকরো করে সিমেন্টের বস্তায় ভরে ভাসিয়ে দেওয়া হয় ফরাক্কার ফিডার ক্যানেলের জলে। ঘটনার এক সপ্তাহ পর সুজিতের একটি পা উদ্ধার করে পুলিশ। বাকি দেহাংশ এখনো খুঁজে পায়নি পুলিশ।
ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ সামাউন, তার বান্ধবী তাজকেরা বিবি ও তার স্বামী সুমন শেখকে গ্রেপ্তার করে। পরে সিআইডি তদন্তে নেমে সামাউনকে নিয়ে ঘটনার তথ্য প্রমাণ জোগাড় করতে নামে। সামশেরগঞ্জ থানার পুরাতন ডাকবাংলা এলাকায় সুজিতকে খুন করা হয়। এদিন সেখানে সিআইডি সামাউনকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নিমাণে যায়। পুলিশের দাবি, সেই সময় সে আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। তখন সিআইডির এক ইন্সপেক্টরের গুলিতে তার মৃত্যু হয়। সিআইডির এক আধিকারিক বলেন, খুনের ঘটনার তদন্তে পুনর্নিমাণ জরুরি ছিল। তা করার সময় সুযোগ বুঝে সে আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। তখনই তাকে গুলি করা হয়। তাতে তার মৃত্যু হয়। মৃতের স্ত্রী সুমনাদেবী বলেন, এদিন কিছুটা হলেও স্বস্তি পেলাম। তবে বাকিদেরও চরম শাস্তি চাই।



