Bartaman Logo
২২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

স্ত্রী ও পাঁচ সন্তানকে এসআইআরের শুনানিতে ডাক, আতঙ্কে মৃত্যু বৃদ্ধের, কুলপির করঞ্জলিতে আত্মঘাতী গৃহবধূ

ভয়ের পরিবেশ বাঁচতে পারেননি কুলপির করঞ্জলির গৃহবধূ।

স্ত্রী ও পাঁচ সন্তানকে এসআইআরের শুনানিতে ডাক, আতঙ্কে মৃত্যু বৃদ্ধের, কুলপির করঞ্জলিতে আত্মঘাতী গৃহবধূ
  • ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৬:০১
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: এসআইআর আতঙ্কে প্রাণ গেল আরও দু’জনের। হাওড়ার পাঁচলায় পরিবারের সদস্যদের নামে নোটিস আসায় আতঙ্কে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় এক বৃদ্ধের। ভয়ের পরিবেশ বাঁচতে পারেননি কুলপির করঞ্জলির গৃহবধূ। তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে নোটিস আসার পর থেকেই আতঙ্ক গ্রাস করেছিল তাঁকে। শেষমেশ কীটনাশক খেয়ে আত্মঘাতী হন তিনি।

Advertisement

এসআইআরে স্ত্রী, ছেলে, মেয়েদের শুনানির নোটিস এসেছে। তাদের কী হবে! এই আতঙ্কেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল হাওড়ার পাঁচলা থানার শাঁকখালি শেখপাড়ার বাসিন্দা আজাদ আলি শেখের (৬০)। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে ছেলেমেয়েরা শুনানিতে হাজির হওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বেরনোর পর বৃদ্ধ হৃদরোগে আক্রান্ত হন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়। আজাদ আলি শেখের স্ত্রী ছাড়াও তিন ছেলে ও ছয় মেয়ে আছে। তাঁদের মধ্যে স্ত্রী এবং তিন ছেলে ও দুই মেয়ের নামে শুনানির নোটিস এসেছে।

তিন ছেলে ও এক মেয়ে এদিন সকালে পাঁচলায় বিডিও অফিসে যাচ্ছিলেন শুনানিতে অংশ নিতে। কিন্তু মাঝ রাস্তাতেই তাঁরা বাবার মৃত্যু সংবাদ পান। ওই অবস্থাতেই তাঁরা শুনানি পর্ব শেষ করে বাড়ি ফেরেন। মৃতের ছেলে শেখ আনসারুল বলেন, পরিবারের ছ’জনের নামে শুনানির নোটিস আসার পর থেকেই বাবা দুশ্চিন্তায় ছিলেন। সব সময় বলতেন, তাহলে কি আমাদের অসম বা বাংলাদেশে চলে যেতে হবে! এক কথায়, নাওয়া খাওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল তাঁর। এদিন সকালে আমরা বিডিও অফিসে যাওয়ার পথেই দুঃসংবাদ পাই। তার দাবি, শুনানির আতঙ্কেই বাবার মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে পাঁচলার বিধায়ক গুলশন মল্লিক বলেন, আমরা প্রথম থেকেই বলছি, এসআইআরের নামে মানুষকে অযথা হয়রানি করা হচ্ছে। শুনানির আতঙ্কে একের পর এক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।

কুলপির করঞ্জলি গ্রাম পঞ্চায়েতের দক্ষিণ সুলতানপুর এলাকায় বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হলেন এক প্রৌঢ়া। পরিবারের অভিযোগ, এসআইআরের শুনানির আতঙ্কেই আত্মঘাতী হয়েছেন তিনি। মৃত গৃহবধূর নাম খালেদা বিবি পুরকাইত (৫০)। তিনি ১৮৩ নম্বর বুথের ভোটার ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার বিকেলে তিনি বাড়িতে রাখা কীটনাশক খেয়ে ফেলেন। এরপরই তাঁকে একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভরতি করা হয়। বৃহস্পতিবার ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ, কয়েকদিন আগে তাঁর চার ছেলে ও দুই বউমার নামে শুনানির নোটিস আসে। ওই নোটিস দেখে তিনি চিন্তায় পড়ে যান। তাঁদের এদেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হতে পারে, এমন কথাও তাঁকে বলতে শোনা যায়। বৃহস্পতিবার তাঁদের পরিবারের ছ’জনের শুনানি ছিল। তার আগেই তিনি আতঙ্কে বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন বলে অভিযোগ। এ বিষয়ে খালেদার স্বামী সামসুদ্দিন পুরকাইত বলেন, এসআইআরের শুনানির নোটিস আসার পর থেকেই তিনি আতঙ্কে ছিলেন। গত তিনদিন ধরে খাওয়াদাওয়া প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন। শেষমেশ বুধবার সবার অলক্ষ্যে বিষ খেয়ে নেন।’

এদিকে, শুনানি চলাকালীন অসুস্থ হয়ে পড়লেন এক এইআরও। উস্তির বাসিন্দা জিনাত আমান খাতুন মগরাহাট ১ নম্বর ব্লকের হরিহরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের একটি মাদ্রাসায় এইআরও’র দায়িত্বে ছিলেন। বুধবার সেখানেই শুনানি চলছিল। বাইরে তখন প্রচুর ভিড়। বিভিন্ন লোকের প্রশ্নে জেরবার ইআরও, এইআরও’রা। তাঁদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার অবস্থায় ছিলেন না তাঁরা। সেই সময় চিৎকার-চেঁচামেচির মধ্যে আচমকা অসুস্থ বোধ করেন আইসিডিএসের সুপারভাইজার জিনাত আমান খাতুন। সংজ্ঞা হারান তিনি। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে স্থানীয় মগরাহাট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে স্থানান্তর করা হয় ডায়মন্ডহারবার মেডিকেল কলেজে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার কারণেই এই অসুস্থতা। এদিন সকালে অবশ্য তাঁকে ছুটি দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ