কৌশিক ঘোষ, কলকাতা:
কৌশিক ঘোষ, কলকাতা:
বিশিষ্ট সংখ্যাতত্ত্ববিদ প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশ যে নীতি-আদর্শ নিয়ে ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট (আইএসআই) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তাবিত নতুন আইনে তার বিসর্জন ঘটবে। এমনটাই মনে করছেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও আধিকারিকদের একটি বড়ো অংশ। কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি রূপায়ণ মন্ত্রকের কাছে লিখিতভাবে এতে আপত্তি জানানো হচ্ছে। নতুন আইনে সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ প্রেসিডেন্ট পদটিই রাখা হচ্ছে না। ১৯৩১ সালে আইএসআই প্রতিষ্ঠার সময় থেকে বিশিষ্ট বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদরা এই পদটি অলংকৃত করেছেন। তাঁদের মধ্যে ভারতবিখ্যাত কয়েকজন হলেন—অধ্যাপক ও বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু, এম জে কে মেনন, অর্থনীতিবিদ সি রঙ্গরাজন, বিবেক দেবরায় প্রমুখ।
আইএসআই-এর বর্তমান প্রেসিডেন্ট শংকরকুমার পাল। তিনি এই প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন ডিরেক্টর। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে প্রেসিডেন্ট পদে কেন্দ্রীয় সরকারের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন অধ্যাপক বিজয় রাঘবন। ভোটাভুটিতে তাঁকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের জন্য জয়ী হন শংকরবাবু। প্রেসিডেন্ট পদে এটাই ছিল প্রথম ভোটাভুটি। এর আগের দফায়, ২০২২ সালেও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ বিবেক দেবরায়ের সঙ্গে ভোটের লড়াই হওয়ার উপক্রম হয়েছিল শংকরবাবুর। কিন্তু শেষমুহূর্তে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বিবেক দেবরায় প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করে নেন। তখন তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অর্থনৈতিক উপদেষ্টমণ্ডলীর চেয়ারম্যান ও নীতি আয়োগের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। প্রেসিডেন্ট পদ পুরোপুরি অবলুপ্তির জন্য গৃহীত কেন্দ্রীয় উদ্যোগের পিছনে কি এই দুটি ঘটনার কোনও প্রভাব রয়েছে? এই প্রশ্ন আইএসআই-এর মধ্যে থেকেই উঠছে।
আইএসআই পরিচালনায় প্রেসিডেন্ট ও কাউন্সিল প্রধান ভূমিকা পালন করেন। সমাবর্তনসহ সংস্থার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রেসিডেন্ট। একাধিক প্রার্থী থাকলে সাধারণ সভায় সংস্থার সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন প্রেসিডেন্ট। কাউন্সিলের তিনজন সদস্যকেও নির্বাচিত করেন সদস্যরা। কেন্দ্রীয় সরকার যে নতুন আইনটির খসড়া করেছে তাতে আইএসআই-এর কোনও সদস্য থাকার বিষয়ে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীরা নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী আইএসআই-এর সদস্য হতে পারেন। আইএসআই-এর এক প্রবীণ অধ্যাপক জানান, প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশ আইএসআই-কে একটি ‘সোসাইটি’ হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। ১৯৫৯ সালে কেন্দ্রীয় সরকার আইএসআই-এর জন্য নতুন আইন তৈরি করেও প্রতিষ্ঠানের এই ‘সোসাইটি’ চরিত্র অক্ষুণ্ণ রেখেছিল। নতুন আইনে সোসাইটি চরিত্র লুপ্ত হলে কার্যত একটি নতুন সংস্থা তৈরি হবে। সেক্ষেত্রে ২০৩১ সালে প্রতিষ্ঠানের শতবর্ষ কীভাবে পালিত হবে সেই প্রশ্ন তিনি তুলছেন।
নতুন প্রস্তাবিত আইনে আইএসআই পরিচালনার দায়িত্ব বোর্ড অব গভর্ন্যান্সকে দেওয়া হয়েছে। বোর্ডের চেয়ারপার্সন থেকে সদস্য, সকলকেই কেন্দ্রীয় সরকার মনোনীত করবে। কেন্দ্রীয় সংখ্যাতত্ত্ব ও কর্মসূচি রূপায়ণ মন্ত্রক প্রস্তাবিত আইনের উপর ইমেল করে মতামত জানানোর যে বর্ধিত সময়সীমা দিয়েছিল, তা শেষ হবে আজ সোমবার। আইএসআই-এর অধ্যাপক ও আধিকারিক, সদস্য প্রভৃতি শিক্ষাবিদগণ এই আইনের তীব্র বিরোধিতা করে মন্ত্রকে মেল পাঠিয়েছেন। কিন্তু এতে কেন্দ্রীয় সরকার তার মূল পরিকল্পনা থেকে কতটা সরবে, তা নিয়ে আইএসআই-এর অনেকেরই সংশয় আছে।