Bartaman Logo
২২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বারবার বিপর্যয় কেন? খোঁজ নিচ্ছে নবান্ন, মোদির অবস্থানকালেই শহরে বিকল পুলিশের ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক!

কলকাতায় পুলিশের ওয়্যারলেস যোগাযোগ ব্যবস্থা ফের বিকল। নবান্ন তদন্ত শুরু করেছে, জানতে চাওয়া হচ্ছে অভিসন্ধির বিষয়। বিস্তারিত পড়ুন।

বারবার বিপর্যয় কেন? খোঁজ নিচ্ছে নবান্ন, মোদির অবস্থানকালেই শহরে বিকল পুলিশের ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক!
  • ২২ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রধানমন্ত্রী সহ বিভিন্ন ভিভিআইপি রবিবার যখন কলকাতায় তখন ফের বিগড়ে গেল পুলিশের ওয়্যারলেস যোগাযোগ ব্যবস্থা! এটি লং টার্ম ইভোলিউশন কমিউনিকেশন সিস্টেম (এলটিই) নামে পরিচিত। পশ্চিম বন্দর থানায় অকেজো হয়ে পড়ে দুটি এলটিই সেট। তড়িঘড়ি থানার অফিসাররা একটি সেট জোগাড় করে কোনোরকমে পরিস্থিতি সামাল দেন। সকালে প্রধানমন্ত্রী যখন শহর ছাড়ছেন বিকল সেট ইঞ্জিনিয়াররা তখনো মেরামত করে উঠতে পারেননি বলে খবর। ভিভিআইপিরা  শহরে থাকার সময় নিরবিচ্ছিন্ন পরিষেবা দেওয়ার জন্য ওই কোম্পানিকে শনিবারই মেল করা হয়েছিল লালবাজারের তরফে। তারপরেও পরিষেবায় ব্যাঘাত ঘটল কী করে, তাই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি জানার পরই ওই সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উদ্যোগী হয়েছে সরকার। তাদের কৈফিয়ত চাওয়া হচ্ছে।

Advertisement

ওয়্যারলেস যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আধুনিক করতে দিল্লির একটি সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করে কলকাতা পুলিশ। ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে চালু হয় এলটিই সিস্টেম। ভোটগ্রহণ ও গণনার দিন পুরোপুরি বিকল হয়ে যায় এই নেটওয়ার্ক। বারবার বিপর্যয়ের কারণে ‘সিট’ গঠন করে অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান শুরু হলে বড়োসড়ো দুর্নীতি ও কাটমানি চক্রের বিষয়টি সামনে এসেছে। ওয়্যারলেসে ব্রাঞ্চের দুই শীর্ষকর্তা, একজন ওসি এবং ওয়্যারলেস সুপাইভাইজার পদমর্যাদার কয়েকজন পুলিশ কর্মীর ভূমিকা এখন সিটের স্ক্যানারে। এরপরই তড়িঘড়ি লালবাজারের তরফে এই সেট পরিবর্তনের জন্য পদক্ষেপ শুরু হয়। পাশাপাশি দিল্লির ওই কোম্পানিকে বড়ো অঙ্কের জরিমানা করার কথা ভাবা হয়েছে। 
একইসঙ্গে লালবাজারের তরফে দিল্লির ওই কোম্পানিকে নির্দেশ দেওয়া হয়, ২০ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে এলটিই পরিষেবা যেন নিরবচ্ছিন্ন থাকে। কারণ ওইদিন রাজ্যে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ একাধিক ভিভিআইপি। তার আগে সমস্ত থানা থেকে এলটিই সেটগুলি চেয়ে পাঠানো হয়। ওই সংস্থা বিশেষ প্রোগামিং করে দেয়। রক্ষণাবেক্ষণও করা হয় সেটগুলির,  যাতে ২০ তারিখ পুরো ব্যবস্থা যথাযথ কাজ করে। এতকিছুর পরেও পশ্চিম বন্দর থানায় বিগড়ে যায় দুটি সেট। অন্য একটি সেট জোগাড় করে জোড়াতাপ্পি দিয়ে কাজ চালানো হয়। দিল্লির কোম্পানির ইঞ্জিনিয়াররা দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা করেও ওই সেট দুটি ঠিক করে তুলতে পারেননি। বারবার কেন এই বিপর্যয় এবং এর পিছনে কোনো অভিসন্ধি আছে কি না এবার নবান্ন খোঁজখবর শুরু করেছে তাই নিয়েই। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ