Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

উপ নির্বাচনে হার কেন, কট্টর মেরুকরণ নাকি দলীয় কোন্দল? ময়নাতদন্তে বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব

কট্টর মেরুকরণ নাকি চরম গোষ্ঠী কোন্দল? কালীগঞ্জ উপনির্বাচনে হারের ময়নাতদন্তে বঙ্গ বিজেপিতে এই অপ্রিয় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

উপ নির্বাচনে হার কেন, কট্টর  মেরুকরণ নাকি দলীয় কোন্দল? ময়নাতদন্তে বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব
  • ২৪ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কট্টর মেরুকরণ নাকি চরম গোষ্ঠী কোন্দল? কালীগঞ্জ উপনির্বাচনে হারের ময়নাতদন্তে বঙ্গ বিজেপিতে এই অপ্রিয় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিজেপি কয়েকমাস যাবৎ একটাই স্লোগান সপ্তমে তুলেছিল, ‘সব হিন্দু ভাই ভাই। হিন্দু ভোট এক কর’। কিন্তু সোমবার ফল প্রকাশের পর দেখা গেল, বাংলায় গেরুয়া শিবিরের অবস্থান আগের মতোই রয়েছে। সর্বধর্ম সমন্বয়ের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির মেরুকরণের রাজনীতি আদৌ সফল হবে কি না, স্বভাবতই তা নিয়ে পার্টির অন্দরে সংশয় তৈরি হয়েছে। দলের অপর অংশের দাবি, এই ফলাফল বিজেপির নেতাদের ফের একবার বুঝিয়ে দিল, সম্প্রীতির ঐতিহ্যেই আস্থা রাখছে বাংলা। 

Advertisement

২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে লড়ার প্রস্তুতি হিসেবে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বছরের শুরুতেই টানা ১০ দিন বাংলায় ছিলেন। আরএসএসের সমস্ত শাখা সংগঠনকে সক্রিয় করে নির্বাচনে লড়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি। তারপর থেকেই পাল্টে যায় বিজেপির স্লোগান। হিন্দু ভোট ঐক্যবদ্ধ করার ডাক দেওয়া হয়। এমনকী, সংখ্যালঘু এলায় বুথ কমিটি গড়ার দরকার নেই, এমনও নিদান আসে। স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়, হিন্দু এলাকাগুলিতেই বাড়তি জোর দিতে হবে। শাসক দলের ৫ থেকে ১০ শতাংশ হিন্দু ভোট ছিনিয়ে আনতে পারলেই ২০২৬-এ কেল্লা ফতে! সেইমতো কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশে রাজ্যজুড়ে স্লোগান ওঠে, ‘হিন্দু হিন্দু ভাই ভাই’। কালীগঞ্জে এদিনের ফলাফলে স্পষ্ট যে, ধর্ম দেখে ভোটাররা ভোট দেননি। 
তার উপর রয়েছে, রাজ্য বিজেপির বিভিন্ন  গোষ্ঠীর লড়াই। এক গোষ্ঠী ভোটে লড়াই দিলে আর-এক গোষ্ঠী বসে যায়। সুকান্ত মজুমদার, শুভেন্দু অধিকারী, দিলীপ ঘোষসহ বিভিন্ন নেতা ও অনুগামী আভ্যন্তরীণ লড়াইয়ে ব্যস্ত। হঠাৎ বিয়ে, তারপর দীঘার জগন্নাথ মন্দিরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাতের পর দিলীপ ঘোষ কার্যত বিজেপির ভরকেন্দ্র থেকে ছিটকে গিয়েছেন। কালীগঞ্জ উপনির্বাচনে তাঁকে দেখাই যায়নি! বিরোধী দলনেতা কিংবা রাজ্য সভাপতি প্রচার শেষের আগের দিন নমো নমো করে প্রচার সেরেছেন। সব মিলিয়ে ভোটযুদ্ধে নামার আগেই মানসিকভাবে পিছিয়ে ছিল বিজেপি। ফল প্রকাশের পর তাই দলীয় লাইন তথা ভিরতকার দ্বন্দ্ব সবটাই বেআব্রু হয়ে পড়েছে। 
যদিও ফলাফল নিয়ে এই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ দলের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক তথা বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর কথায়, ‘এই উপনির্বাচনে হিন্দু ভোটারদের ভয় দেখিয়েছে তৃণমূল। তাই তাঁদের অধিকাংশই ভোটকেন্দ্রমুখো হননি।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ