Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

‘দেউলিয়া’ সংস্থায় লগ্নিতে ধস বলেই বাড়ল না পিএফের সুদ!

‘দেউলিয়া’ সংস্থায় লগ্নিতে ধস বলেই বাড়ল না পিএফের সুদ!
  • ৯ মার্চ, ২০২৫ ১৩:০৩
Prefer us on Google

বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: চলতি অর্থবর্ষ, অর্থাৎ ২০২৪-২৫ সালের জন্য পিএফে ৮.২৫ শতাংশ সুদ ঘোষণা করেছে এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন। সূত্রের খবর, ওই সুদ দেওয়ার পর কেন্দ্রীয় সংস্থাটির হাতে উদ্বৃত্ত থেকে যাবে ৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি। দপ্তরের কর্তারা বলছেন, সেই টাকায় ৮.৫৫ শতাংশ হারে সুদ দেওয়াই যেত। তাহলে কেন সুদের হার বাড়ানো হল না? জানা গিয়েছে, সাধারণ মানুষের থেকে আদায় করা যে টাকা সরকার বাজারে লগ্নি করে বসে আছে, তার থেকে আগামী অর্থবর্ষে যথাযথ ‘রিটার্ন’ আসবে না। অন্তত তেমনটাই ধারণা হর্তাকর্তাদের। পাশাপাশি এমন যে দু’টি সংস্থায় তারা টাকা লগ্নি করেছে, যা ইতিমধ্যেই দেউলিয়া হিসেবে ঘোষিত—আইএল অ্যান্ড এফএস এবং রিলায়েন্স ক্যাপিটাল। সেগুলি এখন ন্যাশনাল কর্পোরেট ল’ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। এই সংস্থা দু’টিতে লগ্নি করা হয়েছিল ৩ হাজার ৩৭ কোটি টাকা। পরিস্থিতি যেদিকে পৌঁছেছে, তাতে ন্যূনতম দেড় হাজার কোটি টাকা ফেরত পাওয়া যাবে কি না সন্দেহ। সেটাই চিন্তায় রেখেছে দপ্তরকে। আবার সাধারণ মানুষের টাকার আর একটা বড় অংশ যেখানে বিনিয়োগ করা হয়েছিল, তা ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি রিটার্ন দেয়। কিন্তু, এখন সেই রিটার্ন ১৪ শতাংশ কমে গিয়েছে। পাশাপাশি এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড বা ইটিএফ বিক্রি করে যে থোক টাকা পাওয়ার আশা ছিল, সেই টাকাও ততটা পাওয়া যাবে না বলে মনে করছে দপ্তরের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োজিত আর্থিক বিশেষজ্ঞরা। সেখানে ইপিএফও দেড় হাজার কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা। তাই কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা উদ্বৃত্ত থাকলেও, তা সাধারণ মানুষকে সুদ বাবদ দিতে রাজি নয় তারা। অর্থাৎ, কেন্দ্রের ভুল সিদ্ধান্তের মাশুল গুনতে হচ্ছে ৭ কোটির উপর গ্রাহককে।

Advertisement

চলতি অর্থবর্ষ এখনও শেষ হয়নি। তবে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, এবার মোট ১৫ লক্ষ ২৩ হাজার ২৮৯ কোটি টাকার উপর সুদ মেটাতে হবে ইপিএফও’কে। কারণ, ওই টাকাই তাদের কাছে সঞ্চিত রেখেছেন কোটি কোটি গ্রাহক। এর উপর ৮.২৫ শতাংশ হারে সুদ দিতে হলে পিএফ কর্তৃপক্ষের খরচ হবে প্রায় ১ লক্ষ ২৫ হাজার ৬৭২ কোটি টাকা। সেক্ষেত্রে উদ্বৃত্ত থাকবে প্রায় ৫ হাজার ৩১২ কোটি টাকা। দপ্তরের নিজস্ব হিসেব, যদি ৮.৫৫ শতাংশ হারে সুদ দেওয়া হয়, তাহলেও তাদের হাতে উদ্বৃত্ত থাকবে প্রায় ৭৪২ কোটি টাকা। অর্থাৎ সুদ দেওয়া যেতে পারত ৮.৬ শতাংশ হারেও। সেক্ষেত্রে ২০ কোটি টাকার মতো ঘাটতি হতো দপ্তরের। কর্তারা বলছেন, ঘাটতি রেখেও সুদ দেওয়ার ইতিহাস সাম্প্রতিককালে আছে। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে তহবিলে ১৬৮ কোটি টাকা ঘাটতি রেখেই সুদ দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে, আরবিআই রেপো রেট কমানোয় ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিরও সুদে কাটছাঁট করার কথা। এই পরিস্থিতিতে ঋণপত্রে লগ্নির রিটার্নও আশানুরূপ হবে না বলে মনে করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে নিজেদের লগ্নি নিয়ে আগামী অর্থবর্ষ, অর্থাৎ ২০২৫-২৬ সালের জন্য কোনও আশার আলো দেখছে না ইপিএফও। সেই কারণেই কেন্দ্রীয় অছি পরিষদের চেয়ারম্যান তথা কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী জানিয়েছেন, আর্থিক অবস্থা বর্তমানে স্বচ্ছল থাকা সত্ত্বেও সুদের হার বাড়ানো হবে না। অছি পরিষদের অন্যতম সদস্য ও টিইউসিসি’র সাধারণ সম্পাদক শিওপ্রসাদ তেওয়ারি বলেন, ‘আমরা বৈঠকে দাবি জানিয়েছিলাম, সুদের হার ৮.৩ শতাংশ করা হোক। তাতে গ্রাহকরাও একটু স্বস্তি পাবেন, সরকারের কাছেও পর্যাপ্ত উদ্বৃত্ত থাকবে। তবে শেষ পর্যন্ত বৈঠকে ৮.২৫ শতাংশ সুদই চূড়ান্ত হয়। যেহেতু অছি পরিষদ রক্ষণশীল পথে হেঁটেছে, আমরা আশা করব, আগামী বছর সুদের হার বাড়বে।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ