পরামর্শে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন-এর সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায়।
পরামর্শে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন-এর সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায়।
দিন কয়েক ধরে একটি খবর মনে মনে ভয় ধরাচ্ছে অনেককেই। দেশে ফের ছড়িয়ে পড়ছে কোভিড! কেন্দ্রের তথ্যও সেই খবরে সিলমোহর দিয়েছে। তথ্য অনুসারে, গত কয়েক দিনে আরও কিছু করোনা সংক্রমণের খবর নথিভুক্ত হয়েছে। গত মঙ্গলবারের পরিসংখ্যান অনুসারে দেশে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা ১০১০! এমনকী, সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, ২০২৫ সালের মধ্যে সম্প্রতি করোনায় মৃত্যু হয়েছে কেরলের একজনের।
এমন খবরে স্বাভাবিকভাবেই জনমানসে ভয় ছড়িয়েছে। আবার কি সেই মাস্ক, স্যানিটাইজার, দূরত্বের দিন আসছে? আবার লকডাউন, আবার সংক্রমণের ভয়ে আইসোলেটেড হওয়া!
একে একে দেওয়া যাক সব উত্তর।
এবারের কোভিডের ধরন কেমন?
কেন্দ্রীয় সরকারের এজেন্সি ‘ইন্ডিয়ান সার্স-কোভ-২ জিনোমিক্স কনসোর্টিয়াম’-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, করোনার ২টি নতুন উপপ্রজাতির হদিশ মিলেছে ভারতে। এই দুই সাব-ভ্যারিয়্যান্ট— এনবি.১.৮.১ এবং এলএফ.৭। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) সার্স কোভ ২ নামের এই ভাইরাসকে বলছে ‘ভাম’ (ভিইউএম)। না, ভয়ের কিছু নেই, এই ‘ভাম’ কথার পুরো মানে ভ্যারিয়েন্ট আন্ডার মনিটারিং। এর আগে কোভিডের যতগুলি ভ্যারিয়েন্ট সক্রিয় ছিল, তাদের বলা হতো ভ্যারিয়েন্ট অব কনসার্ন (ভিওসি) বা ভ্যারিয়েন্ট অব ইন্টারেস্ট (ভিওআই)। বর্তমানে যে ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ছে, এখনও তা আতঙ্কিত হওয়ার মতো পর্যায়ে পৌঁছয়নি। আপাতত ‘মনিটরিং’ পর্যায়েই রয়েছে বলে দাবি হু-র। তাছাড়া এর ভির্যুলেন্সও অনেক কম। অর্থাৎ একটি অসুখ কতটা ভয়াবহ, সেটিই তার ভির্যুলেন্স।
এই সময়ের কোভিডে আক্রান্তের তুলনায় মারা যাওয়ার অনুপাত অনেকটাই কম। তাই অঙ্কের বিচারেও এই ভ্যারিয়েন্ট নিরীহ।
তাহলে কি মাস্ক, স্যানিটাইজার, ভিড় এড়ানো সব বাদ?
অসুখের ভয়াবহতা কত তা জানার পরেই যে প্রশ্ন মাথায় আসে, তা হল জনজীবনে এই অসুখের প্রভাব কতটা পড়বে? লকডাউন, মাস্ক, স্যানিটাইজার, দূরত্ব বজায় রাখা, কোয়ারেন্টাইন মিলিয়ে কোভিড আতঙ্ক সমাজজীবনে যথেষ্ট ছাপ রেখেছিল। তাই কোভিড ছড়িয়ে পড়ার খবরে এই বিষয়গুলি নিয়ে বহু মানুষ চিন্তিত। এখানে কিছু বিষয় স্পষ্ট করা দরকার।
• দূষণের হাত থেকে বাঁচতে মাস্ক ব্যবহার করার উপযোগিতা রয়েছে। তবে কোভিডের কারণে এখনই সাধারণ মানুষের মাস্ক পরার প্রয়োজন নেই।
• ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি, কো-মর্বিডিটি রয়েছে এমন মানুষজনকে মাস্ক ও স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে। তবে এখনই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার প্রয়োজন নেই।
ভ্যাকসিন কি নিতে হবে?
ইতিমধ্যে প্রায় প্রত্যেকেই কোভিড ১৯-এর জন্য ভ্যাকসিন নিয়েছেন। কেউ কেউ বুস্টার ডোজও নিয়েছেন। নতুন এই ভ্যারিয়েন্টেরও অনেকটাই সর্দি-জ্বর ও ভাইরাল ফিভারের মতো প্রকৃতি। এতে যে ক’জন আক্রান্ত হয়েছেন, তার সিংহভাগই দিন কয়েকের ফ্লু সারিয়ে সুস্থ হয়েছেন। অবস্থার অবনতি হয়েছে বা মারা গিয়েছেন তাঁরাই যাঁদের বড় ধরনের কো-মর্বিডিটি (সুগার, প্রেশার, ক্যান্সার সহ শরীরের ইমিউনিটি কমে যায় এমন নানা অসুখ) রয়েছে। তাই এখনই সরকারের পক্ষ থেকে ভ্যাকসিন নিয়ে কোনও নিয়ম জারি হয়নি। তাছাড়া চিকিৎসাশাস্ত্রে এটা প্রমাণিত যে এপিডেমিক অসুখ চলাকালীন ভ্যাকসিনের বিশেষ কিছু কাজ থাকে না।
সুস্থ থাকব কী করে?
জ্বর, ফ্লু, মাথা যন্ত্রণা, সর্দি-কাশি এগুলো শরীর থাকলে হবে। এটা কোভিডের ভ্যারিয়েন্ট বলেই একে নিয়ে অকারণ ভয় পাবেন না। সুষম আহার খান, শরীরে ভিটামিন ও খনিজের মাত্রা ঠিক রাখুন। দিনের মধ্যে কিছুটা সময় শরীরচর্চা করুন। শরীরের পরিচ্ছন্নতা বা হাইজিন বজায় রাখুন।
লিখেছেন মনীষা মুখোপাধ্যায়