নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: টি-২০ বিশ্বকাপের ঢাকে কাঠি পড়তে অপেক্ষা আর আটচল্লিশ ঘণ্টা। প্রস্তুতি তুঙ্গে। নতুন করে শুরু হয়েছে টিকিট বিক্রি। তবে এখনও ঝুলে ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় ভারত-পাকিস্তান মহারণের ভাগ্য। পিসিবি’র ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তে কি ব্যাকফুটে আইসিসি? এই প্রশ্নই উঁকি দিচ্ছে ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে।
গত রবিবার ভারতের বিরুদ্ধে দল না নামানোর কথা ঘোষণা করে পাক সরকার। জবাবে কড়া বিবৃতি দিয়েই দায় সেরেছিল আইসিসি। তারপর কেটে গিয়েছে দু’দিন। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা এখনও চুপচাপ। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের অনেকের মতে, দুর্বল প্রশাসকের কারণেই বেহাল অবস্থা বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থার। সমালোচনার তির জয় শাহর দিকেই। বাবার নাম ভাঙিয়ে আইসিসি’র চেয়ারম্যান হওয়া সহজ, কিন্তু ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টে তিনি পুরোপুরি ডাহা ফেল। আর সেই সুযোগটাই নিচ্ছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। তিনি একজন দুঁদে রাজনীতিক, মন্ত্রীও। সুযোগ বুঝে চোখ রাঙিয়ে যাচ্ছেন নাকভি। আইসিসি’র চেয়ারম্যান অন্ধ্র ধৃতরাষ্ট্রের মতো চোখে ঠুলি বেঁধে মজা দেখছেন। প্রাক্তন ক্রিকেটাররা বিরক্ত। অনেকের মতে, পাকিস্তানের ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়া উচিত আইসিসি’র। বাংলাদেশের মতোই পাকিস্তানকেও বিশ্বকাপ থেকে নির্বাসিত করে শিক্ষা দেওয়া দরকার। যাতে আগামী দিনে এই ধরনের কাজ করার সাহস না পায় অন্য বোর্ড।
সূত্রের খবর, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এখনই কড়া পদক্ষেপ নিতে সম্মত নন আইসিসি’র কর্তারা। বরং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খোঁজার চেষ্টা চলছে। আসলে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে আইসিসি’র বিপুল আর্থিক ক্ষতি। পাকিস্তানের ঘাড়েও চাপবে বিপুল লোকসানের বোঝা। তা নাকভি ভালোই জানেন। ক্রিকেট বিশ্বে তাঁদের দেউলিয়াপনা সর্বজনবিদিত। লাহোরে শ্রীলঙ্কার বাসে জঙ্গি হামলার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বন্ধ ছিল পাকিস্তানে। ধীরে ধীরে দরজা খুললেও সম্প্রচারকারী চ্যানেলগুলি তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছে না। মিচেল মার্শদের পাক সফরে অস্ট্রেলিয়ার কোনও চ্যানেল সম্প্রচারে আগ্রহ দেখায়নি। পাকিস্তান সুপার লিগ টিম টিম করে জ্বলছে। তাই নির্বাসন বা আর্থিক জরিমানার হুমকিকে পাত্তা না দিয়ে স্টেপ আউট করে খেলার সাহস পাচ্ছে পিসিবি। তাছাড়া লিখিতভাবে ম্যাচ না খেলার কথা আইসিসি’কে জানায়নি তারা। যাতে মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদলে সমস্যা না হয়। ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারত-পাক মহারণ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও, একেবারেই বাতিল বলা যাচ্ছে না। আশার আলো এখনও বেঁচে। কারণ, দেশটার নাম পাকিস্তান। মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদলে যাদের জুড়ি মেলা ভার।